সরকারি চাকুরিতে ‘শ্রেণি’ প্রথার বিলুপ্তি: গ্রেডভিত্তিক নতুন পরিচিতির বিস্তারিত স্পষ্টীকরণ
সরকারি চাকুরিতে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির বিভাজন পদ্ধতি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করে বেতন গ্রেডভিত্তিক নতুন পরিচিতি স্পষ্ট করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ১৮ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে প্রকাশিত এক স্মারকের মাধ্যমে (স্মারক নম্বর: ০৫.০০.০০০০.১৭০.২২.০১৭.১৬.৯০) এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
এর ফলে এখন থেকে সরকারি কর্মচারীদের পরিচয় কেবল তাদের সংশ্লিষ্ট ‘গ্রেড’ দ্বারা নির্ধারিত হবে, যা প্রশাসনিক দাপ্তরিক কাজে দীর্ঘদিনের ধোঁয়াশা দূর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রেক্ষাপট ও আইনি ভিত্তি
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫’ এর অনুচ্ছেদ ৮ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের পূর্বতন শ্রেণি বিভাজনের পরিবর্তে ২০টি গ্রেডভিত্তিক পরিচিতি কার্যকর করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের সাথে সঙ্গতি রেখে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি-বিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনয়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ২০১৬ সালেই সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সাম্প্রতিক স্মারকটি মূলত সেই নির্দেশনারই একটি বিস্তারিত ও স্পষ্ট রূপ।
শ্রেণি ও গ্রেডের নতুন বিন্যাস
প্রকাশিত স্মারক অনুযায়ী, পূর্বতন শ্রেণির সাথে বর্তমান ২০টি গ্রেডের সম্পর্ক নিচের ছক অনুযায়ী নির্ধারিত হবে:
| পূর্বতন শ্রেণি | বর্তমান বেতন গ্রেড | বিশেষ শর্ত |
| ১ম শ্রেণি | গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-৯ | সকল পদ গেজেটেড হিসেবে গণ্য। |
| ২য় শ্রেণি | গ্রেড-১০ থেকে গ্রেড-১৩ | যে সকল পদ সরকারি আদেশে (GO) সুনির্দিষ্টভাবে ‘গেজেটেড’ বলা হয়েছে। |
| ৩য় শ্রেণি | গ্রেড-১৩ থেকে গ্রেড-১৬ | যে সকল পদ সরকারি আদেশে ‘গেজেটেড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। |
| ৪র্থ শ্রেণি | গ্রেড-১৭ থেকে গ্রেড-২০ | মূলত সহায়ক ও কারিগরি পর্যায়ের পদসমূহ। |
গেজেটেড পদমর্যাদা নিয়ে বিশেষ ব্যাখ্যা
মন্ত্রণালয়ের এই স্পষ্টীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে—গ্রেড-১০ থেকে ১৩-এর মধ্যকার পদমর্যাদা। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই সীমার মধ্যে কেবল সেই পদগুলোই ২য় শ্রেণি (গেজেটেড) হিসেবে গণ্য হবে, যা নিয়োগ বা পদ সৃষ্টির সময় সরকারি আদেশে (GO) স্পষ্টভাবে ‘গেজেটেড’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যথায়, সমজাতীয় গ্রেডে হওয়া সত্ত্বেও সেগুলো ৩য় শ্রেণির সমতুল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রশাসনিক প্রভাব
এই নির্দেশনার ফলে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, বদলি, পদোন্নতি এবং এসিআর (ACR) সহ সকল দাপ্তরিক নথিতে এখন থেকে ‘শ্রেণি’ শব্দের ব্যবহার পরিহার করে বাধ্যতামূলকভাবে ‘গ্রেড’ ব্যবহার করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ব্যবস্থার ফলে সরকারি চাকুরেদের মধ্যে সামাজিক ও প্রশাসনিক বৈষম্য হ্রাস পাবে এবং আন্তর্জাতিক মানের একটি আধুনিক বেতন কাঠামো ও পরিচিতি ব্যবস্থা সুসংহত হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের নির্দেশনা প্রদান করেছে।



