এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য নতুন বদলি নীতিমালা জারি: এনটিআরসিএ সুপারিশের আগেই সম্পন্ন হবে বদলি
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (স্কুল ও কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে। সরকার ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৪’ (সংশোধিত) চূড়ান্ত করেছে। এই নীতিমালার আওতায় শিক্ষকদের এনটিআরসিএ কর্তৃক নতুন সুপারিশ প্রদানের আগেই বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বদলির মূল শর্ত ও নির্দেশনাসমূহ:
১. এনটিআরসিএ সুপারিশের পূর্বে বদলি: নতুন শিক্ষক নিয়োগের জন্য এনটিআরসিএ (NTRCA) সুপারিশ কার্যক্রম শুরু করার আগেই মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) শিক্ষক বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেবে। এর ফলে শূন্যপদগুলোতে কর্মরত শিক্ষকদের বদলির অগ্রাধিকার থাকবে।
২. প্রতিষ্ঠান প্রধানদের অন্তর্ভুক্তি: এবারের নীতিমালার একটি বড় বিশেষত্ব হলো, সাধারণ শিক্ষকদের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং সহকারী প্রধানগণও বদলির আওতায় থাকবেন। অর্থাৎ সমপদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে তারাও বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
৩. সরকারের বিশেষ ক্ষমতা: নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, সরকার চাইলে জনস্বার্থে যেকোনো শিক্ষককে যেকোনো সময় বদলি করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করবে।
৪. অগ্রাধিকারের ক্ষেত্র: বদলির ক্ষেত্রে কয়েকটি বিশেষ বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে:
নারী শিক্ষক: নারী শিক্ষকদের জন্য বিশেষ সুবিধার কথা বলা হয়েছে।
দূরত্ব: বর্তমান কর্মস্থল থেকে নিজ জেলার দূরত্ব।
জ্যেষ্ঠতা: চাকরির সময়কাল বা জ্যেষ্ঠতা বিবেচনা করা হবে।
স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল: স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলের কাছাকাছি বদলির আবেদন করলে সেটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে।
৫. আবেদনের সীমাবদ্ধতা: একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ ২ জন শিক্ষক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে (নারী ও জ্যেষ্ঠতা) বদলির সুযোগ পাবেন। তবে একই বিষয়ে একজনের বেশি শিক্ষককে এক বছরে বদলি করা হবে না।
৬. চাকরির বয়স ও সুযোগ: একজন শিক্ষক তার পুরো কর্মজীবনে সর্বোচ্চ ৩ বার বদলি হওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে প্রথম যোগদানের পর অন্তত ২ বছর পূর্ণ না হলে কেউ বদলির আবেদন করতে পারবেন না।
৭. কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা: বর্তমান নির্দেশনায় প্রধানত শিক্ষকদের বদলির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কর্মচারীদের বদলির বিষয়টি এখানে রাখা হয়নি।
৮. আবেদন প্রক্রিয়া: সমগ্র বদলি প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে অনলাইনে সম্পন্ন হবে। মাউশি কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বদলির আদেশ জারি করা হবে।
যোগদান ও অন্যান্য সুবিধাদি: বদলির আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে বর্তমান প্রতিষ্ঠান থেকে অবমুক্ত হতে হবে এবং পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। বদলি হওয়া শিক্ষকদের এমপিও, ইনডেক্স এবং জ্যেষ্ঠতার ধারাবাহিকতা আগের মতোই বজায় থাকবে। তবে এই বদলির জন্য কোনো টিএ/ডিএ (TA/DA) ভাতা প্রদান করা হবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অনলাইন বদলি ব্যবস্থা চালু হলে বেসরকারি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় আরও গতিশীলতা আসবে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কাঙ্ক্ষিত বদলি নীতিমালা প্রকাশ: প্রতিষ্ঠান প্রধানদেরও থাকছে সুযোগ



