সর্বশেষ প্রকাশিত পোস্টসমূহ

সরকারি কর্মচারীদের শ্রান্তি ও বিনোদন ছুটি ও ভাতার নিয়মাবলি: যা জানা প্রয়োজন

বাংলাদেশ সরকারি চাকরির (বিনোদন ভাতা) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর আলোকে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য শ্রান্তি ও বিনোদন ছুটি এবং ভাতা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট বিধান কার্যকর রয়েছে। কাজের একঘেয়েমি দূর করতে এবং মানসিক প্রশান্তির লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময় অন্তর এই ছুটি ও আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হয়। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্মারক ও বিধিমালার আলোকে এই বিষয়গুলো পুনরায় স্পষ্ট করা হয়েছে।

কারা এই ছুটি ও ভাতা পাবেন? বিধিমালার ৩ নম্বর বিধি অনুযায়ী, কার্যভিত্তিক, আনুষঙ্গিক এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী ব্যতীত সকল প্রকার নিয়মিত সরকারি কর্মচারী এই শ্রান্তি ও বিনোদন ছুটি পাওয়ার যোগ্য। অর্থাৎ স্থায়ী ক্যাডার এবং নন-ক্যাডার উভয় ধরনের নিয়মিত সরকারি কর্মচারীরাই এই সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

ছুটির মেয়াদ ও ভাতার পরিমাণ: বিধি ২, ৪ ও ৫ অনুযায়ী, একজন সরকারি কর্মচারী প্রতি ৩ (তিন) বছর অন্তর ১৫ দিনের গড় বেতনে শ্রান্তি ও বিনোদন ছুটি পাবেন। যদি কোনো কর্মচারী এই ১৫ দিনের ছুটিতে যান, তবে তিনি ১ (এক) মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ‘বিনোদন ভাতা’ হিসেবে পাবেন। উল্লেখ্য, এই ভাতা কর্মচারীর ছুটির সময়কার বেতনের অতিরিক্ত হিসেবে প্রদান করা হয়। ১৯৮৯ সালের ২০ মার্চের এক স্মারক (নং অম(অবি)/প্রবি-২/ছুটি-৬/৮৬/২৮) অনুযায়ী, যে মাসে কর্মচারী ছুটিতে যাবেন, সেই মাসের মূল বেতনের সমান ভাতা তিনি প্রাপ্য হবেন।

ছুটি মঞ্জুর ও সময় গণনা: বিধি ৬ অনুযায়ী, জনস্বার্থে বা দাপ্তরিক কাজের প্রয়োজনে যদি আবেদনকৃত সময়ে ছুটি মঞ্জুর করা সম্ভব না হয়, তবে পরবর্তী যে সময়ে ছুটি মঞ্জুর করা হবে, সেই সময়েই কর্মচারী বিনোদন ভাতা পাবেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরবর্তী ৩ বছরের সময়সীমা গণনা করা হবে পূর্ববর্তী ছুটির জন্য আবেদনকৃত তারিখ থেকেই, ছুটি প্রাপ্তির তারিখ থেকে নয়।

বিশেষ বিশ্লেষণ ও সীমাবদ্ধতা: অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন নির্দেশনার আলোকে কিছু বিশেষ বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে:

১. পদমর্যাদা: যদি কোনো নন-গেজেটেড কর্মচারী গেজেটেড পদের চলতি দায়িত্বে থাকেন, তবে বিনোদন ভাতার ক্ষেত্রে তাকে গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে গণ্য করা হবে না।

২. এলপিআর: অবসর-উত্তর ছুটি (LPR) ভোগরত কর্মচারীরা এই বিনোদন ভাতা পাওয়ার যোগ্য নন।

৩. ছুটি মঞ্জুর আবশ্যিক: ছুটি মঞ্জুর হওয়া ছাড়া কোনোভাবেই এই ভাতা প্রদান করা যাবে না। অর্থাৎ, সশরীরে ছুটিতে যাওয়া বা ছুটি অনুমোদিত হওয়া ভাতার জন্য বাধ্যতামূলক শর্ত।

৪. জেষ্ঠ্যতা ও অগ্রাধিকার: বিনোদন ভাতা মঞ্জুরের ক্ষেত্রে চাকরিতে যোগদানের তারিখ থেকে কর্মচারীর জেষ্ঠ্যতা নির্ধারিত হয়। তবে যাদের অবসর গ্রহণের সময় ঘনিয়ে এসেছে, তাদের ক্ষেত্রে বিনোদন ভাতা ও ছুটি মঞ্জুরে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

সরকারি চাকরিতে কাজের গতিশীলতা বজায় রাখতে এবং কর্মচারীদের মনোবল বৃদ্ধিতে এই শ্রান্তি ও বিনোদন ছুটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। যথাযথ নিয়ম মেনে আবেদন সাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময় পরপর কর্মচারীরা এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারছেন।

সোর্স


author avatar
admin
আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *