৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

তীব্র আর্থিক সংকটেও জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল! প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ছে ৫০ শতাংশ

দেশব্যাপী চলমান তীব্র আর্থিক সংকটের মধ্যেও আগামী নতুন অর্থবছর (জুলাই) থেকে আংশিকভাবে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল। প্রথম ধাপে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শুধু মূল বেতন (Basic Salary) বাড়ানো হচ্ছে ৫০ শতাংশ। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নতুন পে-স্কেলের পূর্ণ বাস্তবায়নে ৩ বছর সময় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বাজেটে বাড়তি বরাদ্দ ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি: সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে এই আংশিক পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিকভাবে অন্তত ৩০০ কোটি টাকা বাড়তি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এর ফলে কেবল বেতন-ভাতা বাবদই সরকারের মোট ব্যয় ১ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৮৪ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি।

জাকির আহমেদ কমিশনের সুপারিশ ও বেতনের রূপরেখা: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে নবম পে-কমিশন গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। দীর্ঘ পর্যালোচনা শেষে কমিশন বিভিন্ন গ্রেডে প্রায় দ্বিগুণ (১০০% এর বেশি) বেতন বাড়ানোর চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেয়।

কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী:

  • সর্বনিম্ন মূল বেতন: ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়।

  • সর্বোচ্চ মূল বেতন: ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়।

পরবর্তীতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত পর্যালোচনা কমিটি এই সুপারিশের মূল্যায়ন শেষ করে। তবে বর্তমান দেশের তীব্র আর্থিক টানাপড়েনের কারণে সুপারিশে কাটছাঁট না করা হলেও, এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল নিয়েছে বর্তমান সরকার।

বাস্তবায়নের তিন বছর মেয়াদি পরিকল্পনা: অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, কমিশনের মূল সুপারিশে কোনো পরিবর্তন না এনে তিন বছরের একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে:

১. প্রথম ধাপ (আগামী অর্থবছর – জুলাই): সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর হবে।

২. দ্বিতীয় ধাপ (পরবর্তী অর্থবছর): মূল বেতনের বাকি অংশটুকু বৃদ্ধি করা হবে।

৩. তৃতীয় ধাপ (২০২৮-২৯ অর্থবছর): চূড়ান্ত ধাপে গিয়ে নতুন পে-স্কেলের সাথে আনুষঙ্গিক ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাগুলো যুক্ত হবে।

অর্থাৎ, কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ সুবিধা পেতে সরকারি চাকরিজীবীদের আরও অন্তত ২ বছর অপেক্ষা করতে হবে।

মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও বৈষম্যের অভিযোগ: নতুন পে-স্কেল ঘোষণার এই প্রক্রিয়া শুরু হলেও নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা এই দফায় সুবিধা বণ্টনের প্রক্রিয়াটিকে কিছুটা বৈষম্যমূলক মনে করছেন।

পাশাপাশি অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধুমাত্র বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করলেই প্রশাসনে গতি বা সততা ফেরে না। বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি যদি অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করা যায়, তবে এই বিশাল রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের ইতিবাচক ফল সাধারণ জনগণ পাবে না। বিগত বছরগুলোর আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতির দিকে ইঙ্গিত করে বিশ্লেষকরা বলেন, প্রশাসনিক ব্যবস্থার আমূল সংস্কার ও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা না হলে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের পরও কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা অধরাই থেকে যেতে পারে।

author avatar
admin
আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

2 thoughts on “তীব্র আর্থিক সংকটেও জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল! প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ছে ৫০ শতাংশ

  • শতভাগ পেনশন সমপণকারীদের বিষয়ে কোন খবর দেখছিনা,
    এ ব্যপারে কোন আলোচনা কি হয়েছে।

  • আপাতত নতুন করে আলোচনা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *