৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

৯ম পে-স্কেল ও রেশনিং সুবিধাসহ ৭ দফা দাবিতে রাজপথে সরকারি কর্মচারী ঐক্য পরিষদ: ১২ জুন মহাসমাবেশের ডাক

বিগত ১১ বছর ধরে নতুন কোনো পে-স্কেল না আসা এবং লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতির কারণে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন সরকারি কর্মচারীরা। বর্তমান বাজারমূল্যের সাথে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সংগতি রাখতে এবং বেতন-ভাতা সংক্রান্ত বৈষম্য দূরীকরণে এবার রাজপথে কঠোর আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’।

সংগঠনটির নেতৃবৃন্দের দাবি, গত ১১ বছরে দেশে সম্মিলিত মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ১০৮% এ পৌঁছেছে। ফলে ২০১৫ সালের পুরনো বেতন কাঠামো দিয়ে ২০২৬ সালে এসে কর্মচারীদের পক্ষে সংসার চালানো একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন ও রেশনিং পদ্ধতি চালুর দাবিসহ ৭ দফা দাবিতে আগামী ১২ জুন ২০২৬ ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিশাল অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। দাবি মানা না হলে পরবর্তীতে লাগাতার কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

ঐক্য পরিষদের প্রধান ৭ দফা দাবি:

১. বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন:

১:৪ অনুপাতের ভিত্তিতে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড কমিয়ে ১২টি গ্রেডে রূপান্তর করতে হবে। সর্বনিম্ন মূল বেতন ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দ্রুত নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে হবে। একই সাথে আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের আসন্ন বাজেটে এই খাতের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

২. টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল:

২০১৫ সালের পে-স্কেলের গেজেটের মাধ্যমে বাতিল হওয়া ৩টি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনরায় চালু করতে হবে এবং পূর্বের বেতন জ্যেষ্ঠতা পুনর্বহাল করতে হবে।

৩. পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেড নিশ্চিতকরণ:

ব্লক পোস্টে কর্মরত কর্মচারীসহ সকল স্তরের কর্মচারীদের জন্য প্রতি ৫ বছর পরপর পদোন্নতি অথবা উচ্চতর গ্রেড প্রদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া, কারিগরি (টেকনিক্যাল) কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের পদের যথাযথ টেকনিক্যাল মর্যাদা দিতে হবে।

৪. পেনশন ও গ্র্যাচুইটি ব্যবস্থার উন্নয়ন:

দেশের সকল স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্র্যাচুইটির পাশাপাশি পেনশন প্রথা প্রবর্তন করতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান গ্র্যাচুইটি বা আনুতোষিকের হার ৯০% থেকে বাড়িয়ে ১০০% এ উন্নীত করতে হবে।

৫. রেশনিং ও ভাতা পুনর্নির্ধারণ:

বর্তমান বাজারমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে চিকিৎসা, বাড়ি ভাড়াসহ সকল প্রকার ভাতা পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। সামরিক ও আধা-সামরিক বাহিনীর মতো বেসামরিক সরকারি কর্মচারীদের জন্যও অবিলম্বে রেশনিং পদ্ধতি চালু করতে হবে।

৬. বৈষম্যহীন একক নিয়োগবিধি:

সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে একটি একক নিয়োগবিধি প্রণয়ন করতে হবে, যাতে করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেতন ও পদমর্যাদার সকল প্রকার বৈষম্য স্থায়ীভাবে দূর করা সম্ভব হয়।

আলটিমেটাম ও আগামী দিনের কর্মসূচি:

বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, দীর্ঘ দিন ধরে তারা শান্তিপূণভাবে সংবাদ সম্মেলন, স্মারকলিপি প্রদান ও আলটিমেটামের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে আসছেন। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় কর্মচারীদের পিঠ এখন দেওয়ালে ঠেকে গেছে।

আগামী ১২ জুনের অবস্থান কর্মসূচিকে সফল করতে দেশজুড়ে সাধারণ কর্মচারীদের মাঝে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যদি তাদের এই ন্যায্য দাবিগুলো আমলে নেওয়া না হয়, তবে তারা সচিবালয় ঘেরাওসহ আরও কঠোর ও লাগাতার কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হবেন।

author avatar
admin
আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *