বাজেট অধিবেশনের আগেই স্পষ্ট ঘোষণা চাই : ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের বেসিকের ১০০% বৃদ্ধির দাবি
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখে সরকারি চাকুরিজীবীদের মাঝে নতুন পে-স্কেল নিয়ে তুমুল আলোচনা ও দাবি-দাওয়ার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তীব্র দাবি জানানো হচ্ছে— আগামী ৭ জুন বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দিতে হবে।
১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের প্রধান দাবি, বর্তমান বাজারদর ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতির সাথে সংগতি রেখে তাদের মূল বেতনের (বেসিক) অন্ততপক্ষে ১০০% বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে এবং তা অনতিবিলম্বে শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে।
“বাজেট অধিবেশনের আগেই স্পষ্ট ঘোষণা চাই”
সরকারি কর্মচারী ফোরাম এবং বিভিন্ন কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ২০১৫ সালের সর্বশেষ পে-স্কেলের পর দীর্ঘ ১১ বছর পেরিয়ে গেছে। এই সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি শতভাগের বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই আগামী ৭ জুন বাজেট অধিবেশনের আগেই সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে এই বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট প্রজ্ঞাপন বা ইতিবাচক ঘোষণা দেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
কেন অন্তত ১০০% বেসিক বৃদ্ধির দাবি?
কর্মচারী প্রতিনিধিদের মতে, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তুলনায় ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের আবাসন, চিকিৎসা ও দৈনিক যাতায়াত খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হয়। বর্তমানে জাতীয় বেতন কমিশন সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করার যে সুপারিশ করেছে, কর্মচারীরা সেটিকে সাধুবাদ জানালেও তা যেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে না যায়, সে বিষয়ে সোচ্চার হয়েছেন তারা। তাদের স্পষ্ট দাবি: “১১/২০ গ্রেডের কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য অন্ততপক্ষে বেসিকের ১০০% চাই এবং এর শতভাগ বাস্তবায়ন চাই।”
সাম্প্রতিক তথ্য ও বাজেট প্রস্তুতি
অর্থ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় বেতন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেলটি আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে (মোট ৩টি অর্থবছর জুড়ে) বাস্তবায়নের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রথম ধাপের পরিকল্পনা: আসন্ন বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে অতিরিক্ত প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখে প্রস্তাবিত মূল বেতনের ৫০% প্রথম বছরে দেওয়ার চিন্তা করছে সরকার। বাকি অংশ পরবর্তী অর্থবছরগুলোতে দেওয়া হবে।
অন্যান্য সুপারিশ: ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য টিফিন ভাতা বিদ্যমান ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,০০০ টাকা করা, বৈশাখী ভাতা ২০% থেকে ৫০% করা এবং যাতায়াত ভাতার পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে।
কর্মচারীদের প্রতিক্রিয়া: “ধাপে ধাপে নয়, একযোগে শতভাগ বাস্তবায়ন চাই”
সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করলেও সাধারণ কর্মচারীদের দাবি ভিন্ন। তাদের মতে, কিস্তিতে বা ধাপে ধাপে মূল বেতন বাড়ালে বাজারে দ্রব্যমূল্য একবারে বেড়ে যাবে, যার ফলে কর্মচারীরা প্রকৃত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। তাই বাজেট অধিবেশনের আগেই যেন সরকার তাদের এই মানবিক ও যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে মূল বেতনের ১০০% একযোগে বাস্তবায়নের স্পষ্ট ঘোষণা দেয়, সেই আহ্বানই জানানো হচ্ছে বর্তমান আন্দোলনের বিভিন্ন ব্যানারে।



