নৈমিত্তিক । অর্জিত । মাতৃত্বকালীন

সরকারি কর্মচারীদের নৈমিত্তিক ছুটি : একটানা কতদিন নেওয়া যায়, কী বলছে বিধিমালা?

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দৈনন্দিন জরুরি প্রয়োজন ও ব্যক্তিগত অসুবিধা মেটাতে ‘নৈমিত্তিক ছুটি’ বা ‘ক্যাজুয়াল লিভ’ (CL) একটি অন্যতম মাধ্যম। তবে এই ছুটি ভোগ করার ক্ষেত্রে রয়েছে সুনির্দিষ্ট সরকারি নীতিমালা ও কিছু আইনি বাধ্যবাধকতা। অনেকেই বিভ্রান্তিতে ভোগেন যে, একটানা সর্বোচ্চ কতদিন নৈমিত্তিক ছুটি নেওয়া সম্ভব কিংবা সরকারি ছুটির সাথে এটি কীভাবে সমন্বয় করা যায়। সরকারি চাকুরির বিধিমালা বিশ্লেষণ করে এর সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী নিচে তুলে ধরা হলো।

সাধারণ এলাকায় একটানা সর্বোচ্চ ১০ দিন

বিদ্যমান সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, একজন সরকারি কর্মচারী সাধারণ পরিস্থিতিতে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বমোট ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি ভোগ করতে পারেন। তবে এই ২০ দিনের ছুটি একসাথে কাটানো যায় না। সাধারণ জেলাগুলোতে কর্মরত কর্মচারীদের জন্য একনাগাড়ে বা একটানা সর্বোচ্চ ১০ দিন পর্যন্ত নৈমিত্তিক ছুটি মঞ্জুর করা যেতে পারে। ১০ দিনের বেশি ছুটির প্রয়োজন হলে কর্মচারীকে অর্জিত ছুটি (Earned Leave) বা অন্য কোনো নিয়মিত ছুটির আবেদন করতে হয়।

পাহাড়ি বা পার্বত্য জেলার জন্য বিশেষ সুবিধা

ভৌগোলিক দূরত্ব ও যাতায়াত ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করে তিন পার্বত্য জেলা—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই বিধিতে বিশেষ শিথিলতা রয়েছে।

  • একটানা ১৫ থেকে ২০ দিন: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রজ্ঞাপন ও বিধিমালা অনুযায়ী, পার্বত্য জেলায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাইলে তাদের বাৎসরিক ছুটির কোটা থেকে একটানা ১৫ দিন এবং ক্ষেত্রবিশেষে নথিবদ্ধ নিয়ম সাপেক্ষে বাৎসরিক কোটার পুরো ২০ দিনই একটানা ভোগ করার সুযোগ পেতে পারেন। দুর্গম এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এই বিশেষ সুবিধাটি আইনিভাবে স্বীকৃত।

সরকারি ছুটির আগে-পরে সমন্বয়ের নিয়ম

নৈমিত্তিক ছুটির সাথে সাপ্তাহিক বা সাধারণ সরকারি ছুটি সংযুক্ত করার ক্ষেত্রেও রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম:

  • ৩ দিনের সংযুক্তি: কোনো কর্মচারী আবেদন জানালে সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্র ও শনিবার) কিংবা অন্য কোনো সরকারি ছুটির আগে বা পরে সর্বোচ্চ ৩ দিন নৈমিত্তিক ছুটি যুক্ত করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। এই নিয়মটি একজন কর্মচারী এক পঞ্জিকাবর্ষে একাধিকবার ব্যবহার করতে পারবেন।

  • উভয় দিকে সংযুক্তি নিষিদ্ধ: মনে রাখতে হবে, নৈমিত্তিক ছুটি কোনোভাবেই সরকারি ছুটির উভয় দিকে (অর্থাৎ ছুটির শুরুতে এবং শেষে) একসাথে সংযুক্ত করা যায় না। যদি সুনির্দিষ্ট অনুমতি ছাড়া ছুটির দুই পাশে বন্ধের দিন থাকে, তবে মধ্যবর্তী বন্ধের দিনগুলোও নৈমিত্তিক ছুটি হিসেবেই গণ্য হবে এবং বাৎসরিক কোটা থেকে কেটে নেওয়া হবে।

মনে রাখা জরুরি

সরকারি চাকরি বিধিমালা (BSR) অনুযায়ী, নৈমিত্তিক ছুটি কোনো অর্জিত অধিকার নয়, বরং এটি কর্তৃপক্ষের একটি বিশেষ বিবেচনা বা সুযোগ মাত্র। এই ছুটি কাটানোর সময় কর্মচারীকে অবশ্যই কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কর্মস্থল বা সদরদপ্তর ত্যাগ করতে হবে। এছাড়া, ছুটির পর এমন দূরত্বে অবস্থান করা যাবে না যেখান থেকে জরুরি প্রয়োজনে কর্মস্থলে ফেরার নির্দেশ পাওয়ার পর যোগ দিতে ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়।

সোর্স

author avatar
admin
আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *