৯ম পে স্কেল শতভাগ একধাপে বাস্তবায়নের দাবি: এনপিসি ও সিপিডির প্রস্তাবে সরকারি কর্মচারীদের ক্ষোভ, রাজপথে নামার আলটিমেটাম
সরকারি চাকুরেদের জন্য ‘৯ম পে স্কেল’ শতভাগ এবং একধাপে বাস্তবায়নের দাবিতে ফুঁসে উঠছেন সাধারণ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। জাতীয় বেতন ও চাকরি কমিশন (এনপিসি) এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সাম্প্রতিক কিছু প্রস্তাব ও সুপারিশের তীব্র বিরোধিতা করে তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো ধরনের টালবাহানা বা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ফর্মুলা তারা মেনে নেবেন না। দাবি আদায় না হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে একযোগে রাজপথে নামার জোরালো হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংক্ষুব্ধ কর্মচারীরা।
ক্ষোভের মূলে কী?
সম্প্রতি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন বেতন স্কেল বা মহার্ঘ ভাতা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে নানা প্রস্তাব আসছে। এর মধ্যে জাতীয় বেতন কমিশন (এনপিসি) এবং বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি-এর কিছু অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ও বেতন বৃদ্ধির ধীরগতির ফর্মুলা নিয়ে সাধারণ কর্মচারীদের মাঝে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
কর্মচারী প্রতিনিধিদের অভিযোগ, এনপিসি এবং সিপিডি বর্তমান বাজারদরের বাস্তব চিত্র বিবেচনা না করে কেবল গাণিতিক হিসাব ও বাজেট ঘাটতির অজুহাত দেখাচ্ছে। সাধারণ কর্মচারীদের বক্তব্য:
“বাজারের যে আগুন পরিস্থিতি, তাতে এনসিপি বা সিপিডির থিওরি গোনার সময় আমাদের নেই। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এখন বাঁচতে হলে শতভাগ একধাপে পে স্কেল বাস্তবায়ন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।”
কর্মচারীদের প্রধান দাবিসমূহ:
একধাপে শতভাগ বাস্তবায়ন: পে স্কেলের ঘোষণা আসার পর তা কোনো কিস্তি বা ধাপে ধাপে নয়, বরং একযোগেই শতভাগ কার্যকর করতে হবে।
বাস্তবধর্মী বেতন নির্ধারণ: বর্তমান আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারের সাথে সংগতি রেখে সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করতে হবে।
বৈষম্য দূরীকরণ: নিম্ন গ্রেডের (১১ থেকে ২০তম গ্রেড) কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করে গ্রেড বৈষম্য কমাতে হবে।
“পরিবারসহ রাস্তায় নামার” আলটিমেটাম
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের ফেসবুক গ্রুপ ও ফোরামে গত কয়েকদিনে ক্ষোভের জোয়ার লক্ষ্য করা গেছে। মাঠপর্যায়ের কর্মচারীরা বলছেন, বিগত কয়েক বছরে জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বাড়লেও সেই তুলনায় বেতন বাড়েনি। ফলে পরিবার চালানোই এখন দায় হয়ে পড়েছে।
সমন্বয়কদের একজন জানান, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু আমাদের এনপিসি বা সিপিডির মনগড়া প্রস্তাব শুনিয়ে শান্ত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদি দ্রুততম সময়ে একধাপে ৯ম পে স্কেল ঘোষণা করা না হয়, তবে এবার আর শুধু কর্মচারীরা নয়, তাদের ক্ষুধার্ত পরিবার-পরিজনসহ সবাই একসঙ্গে রাজপথে নেমে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।”
বিশ্লেষকদের মত
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, সরকারি ব্যয়ের লাগাম টানতে গিয়ে যদি সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান তলানিতে ঠেকে যায়, তবে প্রশাসনে স্থবিরতা ও দুর্নীতি আরও বাড়তে পারে। তাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি কর্মচারীদের জন্য একটি সম্মানজনক ও বাস্তবসম্মত ৯ম পে স্কেল দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘোষণা করা সরকারের জন্য এখন সময়ের দাবি।
এখন দেখার বিষয়, কর্মচারীদের এই চরম ক্ষোভ ও রাজপথের আলটিমেটামের মুখে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কমিশন আগামী দিনে কী ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।


