৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় নতুন পে-স্কেল: যেকোনো সময় গেজেট

সরকারি চাকুরিজীবীদের দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশনের মূল প্রস্তাবনাগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন ১০ সদস্যের পর্যালোচনা কমিটি (সচিব কমিটি) তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছে। আজ (২৮ জুন) প্রতিবেদনটি অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

​সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মতে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনা করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত মিললেই জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে, যা ১ জুলাই থেকেই আংশিকভাবে কার্যকর হতে পারে।

​সচিব কমিটির মূল সুপারিশ ও বেতন কাঠামোর সম্ভাব্য রূপরেখা

​বেতন কমিশনের মূল প্রস্তাবনায় শতভাগের বেশি বেতন বৃদ্ধির কথা বলা হলেও, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর চাপ কমাতে সচিব কমিটি বেশ কিছু কাটছাঁট ও কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে। নিচে মূল প্রস্তাবিত ও পর্যালোচিত কাঠামোর একটি চিত্র তুলে ধরা হলো:

  • ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন: সরকারের ওপর আর্থিক চাপ কমাতে একযোগে নয়, বরং ৩টি ধাপে এই নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে নতুন মূল বেতনের (বেসিক) ৫০ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে বাকি ৫০ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে বিভিন্ন ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা দেওয়া হতে পারে।
  • গ্রেড ও বেতনসীমা: ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রেখেই সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
  • এলপিআর ও পেনশন সুবিধা: বর্তমানে যারা অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে (LPR বা PRL) আছেন, তাদের জন্যও নতুন পে-স্কেলের আওতায় বড় ধরনের আর্থিক সুবিধার সুপারিশ রাখা হয়েছে।

​প্রধান গ্রেডগুলোর সম্ভাব্য কাঠামো (বর্তমান বনাম প্রস্তাবিত):

গ্রেড

বর্তমান মূল বেতন (টাকা)

প্রস্তাবিত মূল বেতন (টাকা)

গ্রেড ১ (সর্বোচ্চ)

৭৮,০০০

১,৬০,০০০ (নির্ধারিত)

গ্রেড ৫

৪৩,০০০

৮৬,০০০

গ্রেড ১০

১৬,০০০

৩২,০০০

গ্রেড ২০ (সর্বনিম্ন)

৮,২৫০

২০,০০০

অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ও চ্যালেঞ্জ

​৯ম পে-স্কেলের এই নতুন সুপারিশ বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য যেমন স্বস্তির, তেমনই বড় একটি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

আর্থিক সংশ্লেষ: বেতন কমিশনের মূল সুপারিশ সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন ছিল। তবে সচিব কমিটির কাটছাঁট ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশলের কারণে প্রাথমিক অতিরিক্ত ব্যয় ৩৭ হাজার থেকে ৪৩ হাজার কোটি টাকার মধ্যে নেমে আসতে পারে।

ইতিবাচক দিক: গত এক দশকে অস্বাভাবিক মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ফলে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের চাকুরিজীবীরা তীব্র আর্থিক সংকটে ছিলেন। এই বেতন বৃদ্ধির ফলে মাঠপর্যায়ের কর্মচারীদের কর্মস্পৃহা বাড়বে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

চ্যালেঞ্জের জায়গা: বাজারে নতুন অর্থপ্রবাহ তৈরি হলে তা সাময়িকভাবে মূল্যস্ফীতির ওপর কিছুটা চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার পাশাপাশি বাজারমূল্য কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের জন্য অন্যতম প্রধান কাজ হবে।

​গেজেট ও কার্যকরের সম্ভাব্য সময়

​সচিবালয় সূত্রে প্রাপ্ত ইঙ্গিত অনুযায়ী, নতুন অর্থবছরের শুরু অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই সরকারি চাকুরিজীবীরা এই নতুন কাঠামোর সুবিধা পেতে শুরু করবেন। যেহেতু আজই চূড়ান্ত ফাইল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যাচ্ছে, তাই যেকোনো মুহূর্তে, এমনকি আজ রাতের মধ্যেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন বা গেজেট জারি হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এখন ইনশআল্লাহ্ একটি স্বস্তির ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *