জিপিএফ অগ্রিম I গৃহ নির্মাণ ঋণ

নিজ দপ্তর থেকেই মিলবে জিপিএফ লোন: অগ্রিম টাকা তুলতে যেভাবে পূরণ করবেন নির্ধারিত আবেদন ফরম

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নিজস্ব জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (GPF) থেকে অগ্রিম (GPF Advance) গ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসা, শিক্ষা, বাসা নির্মাণ, জরুরি পারিবারিক প্রয়োজনসহ বিভিন্ন কারণে কর্মচারীরা তাঁদের নিজস্ব জমাকৃত জিপিএফ তহবিল থেকে নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করতে পারেন। তবে এজন্য নিজ দপ্তরের মাধ্যমে নির্ধারিত আবেদন ফরম পূরণ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হয়।

সম্প্রতি ব্যবহৃত জিপিএফ অগ্রিম আবেদন ফরমে দেখা যায়, আবেদনকারীকে নিজের জিপিএফ হিসাব সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য, পূর্বে নেওয়া অগ্রিমের বিবরণ এবং প্রস্তাবিত কিস্তির তথ্য উল্লেখ করতে হয়। আবেদনটি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সুপারিশের পর অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হয়।

আবেদন ফরমে যেসব তথ্য দিতে হবে

জিপিএফ থেকে অগ্রিম নেওয়ার আবেদনপত্রে সাধারণত নিচের তথ্যগুলো পূরণ করতে হয়—

  • আবেদনকারীর জিপিএফ হিসাব নম্বর।
  • কত টাকা অগ্রিম নিতে চান (সংখ্যায় ও কথায়)।
  • অগ্রিম নেওয়ার উদ্দেশ্য বা কারণ।
  • সর্বশেষ ৩০ জুন পর্যন্ত জিপিএফে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ।
  • বর্তমান মূল বেতন।
  • জিপিএফ ছাড়াও অন্যান্য সরকারি ঋণ বা অগ্রিম থাকলে তার মাসিক কর্তনের বিবরণ।
  • পূর্বে জিপিএফ অগ্রিম নেওয়া হয়ে থাকলে তার সংখ্যা ও বিস্তারিত তথ্য।
  • বর্তমানে কোনো কিস্তি চলমান থাকলে অবশিষ্ট কিস্তির হিসাব।
  • নতুন অগ্রিম কত মাসে ও কী পরিমাণ কিস্তিতে পরিশোধ করবেন তার প্রস্তাব।
  • জন্মতারিখ।
  • আবেদনকারীর স্বাক্ষর, পদবি ও দপ্তরের নাম।
  • ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সুপারিশ।

পূর্বের অগ্রিমের তথ্যও দিতে হবে

ফরমে প্রথম ও দ্বিতীয় অগ্রিমের জন্য আলাদা অংশ রাখা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করতে হয়—

  • কোন মাসে অগ্রিম গ্রহণ করা হয়েছিল।
  • কোন মাস থেকে কিস্তি কর্তন শুরু হয়েছে।
  • মাসিক কত টাকা করে কর্তন হচ্ছে।
  • কত কিস্তি পরিশোধ হয়েছে।
  • বর্তমানে কত টাকা বকেয়া রয়েছে।

কেন এত তথ্য নেওয়া হয়?

এই তথ্যের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ যাচাই করে—

  • আবেদনকারীর জিপিএফে পর্যাপ্ত জমা রয়েছে কি না।
  • পূর্ববর্তী অগ্রিম নিয়মিত পরিশোধ হয়েছে কি না।
  • নতুন অগ্রিম দিলে মাসিক কর্তন গ্রহণযোগ্য সীমার মধ্যে থাকবে কি না।
  • আবেদনটি বিধিমালা অনুযায়ী অনুমোদনযোগ্য কি না।

আবেদন জমা দেওয়ার আগে যা যাচাই করবেন

বিশেষজ্ঞরা আবেদন জমা দেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন—

  • জিপিএফ হিসাব নম্বর সঠিকভাবে লিখতে হবে।
  • অগ্রিমের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
  • বেতনের তথ্য হালনাগাদ হতে হবে।
  • পূর্বের অগ্রিমের তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে।
  • কিস্তির সংখ্যা বাস্তবসম্মতভাবে নির্ধারণ করতে হবে।
  • আবেদনপত্রে স্বাক্ষর এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সুপারিশ থাকতে হবে।

সরকারি বিধি কী বলছে?

বাংলাদেশের General Provident Fund Rules, 1979 অনুযায়ী যোগ্য সরকারি কর্মচারীরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তাঁদের জিপিএফে জমাকৃত অর্থ থেকে অগ্রিম গ্রহণ করতে পারেন। আবেদন নির্ধারিত ফরমে করতে হয় এবং অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে অগ্রিম মঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে নির্ধারিত কিস্তিতে সেই অর্থ বেতন থেকে কর্তন করে সমন্বয় করা হয়।

সংক্ষেপে

জিপিএফ অগ্রিম কোনো ব্যাংক ঋণ নয়; এটি সরকারি কর্মচারীর নিজের জমাকৃত ভবিষ্য তহবিল থেকে নির্ধারিত নিয়মে সাময়িকভাবে অর্থ গ্রহণের সুযোগ। তাই আবেদন করার আগে ফরমের প্রতিটি ঘর সতর্কতার সঙ্গে পূরণ করা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সঠিকভাবে প্রদান করলে অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজ হয়।

সাধারণ ভবিষ্য তহবিল (GPF) থেকে সকল উদ্দেশ্যে অগ্রিম নেওয়া যায় না। সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী, সরকার অনুমোদিত নির্দিষ্ট কিছু যৌক্তিক কারণ বা উদ্দেশ্যেই কেবল জিপিএফ (GPF) হতে অগ্রিম গ্রহণ করা সম্ভব। 
যে সকল নির্দিষ্ট কারণে জিপিএফ হতে অগ্রিম (Advance) গ্রহণ করা যায়: 
১. চিকিৎসা ব্যয়: নিজের, পরিবারের সদস্য বা নির্ভরশীল কারো গুরুতর অসুস্থতার চিকিৎসার জন্য।
২. শিক্ষা খরচ: নিজের বা পরিবারের সদস্যদের উচ্চশিক্ষা (যেমন- ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল বা সমমানের দীর্ঘমেয়াদী কোর্স) পরিচালনার জন্য।
৩. বিবাহ বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান: নিজের বা ছেলে-মেয়ের বিবাহ এবং পরিবারের অন্যান্য সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ব্যয়ের জন্য।
৪. গৃহ নির্মাণ/মেরামত: নিজের বা পরিবারের বসবাসের জন্য জমি ক্রয়, বাড়ি নির্মাণ বা পুরোনো বাড়ি মেরামতের জন্য।
৫. আইনগত বা অন্যান্য খরচ: আইনগত ব্যয় বা পবিত্র স্থান পরিদর্শনের মতো আবশ্যিক ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের উদ্দেশ্যে।
সাধারণত, কর্মচারীর ৩ মাসের বেতন অথবা তহবিলে জমানো মোট অর্থের অর্ধেক (যেটি কম), সেই পরিমাণ অর্থ পর্যন্ত অগ্রিম মঞ্জুর করা যায়। তবে গৃহ নির্মাণ বা বিশেষ বিবেচনার ক্ষেত্রে তহবিলের সঞ্চিত অর্থের সর্বোচ্চ ৭৫% পর্যন্ত অগ্রিম উত্তোলনের সুযোগ রয়েছে। এই অগ্রিম সাধারণত ১২ থেকে ৪৮টি সমান মাসিক কিস্তিতে সুদসহ পরিশোধযোগ্য। জিপিএফ সংক্রান্ত বিস্তারিত ও অফিসিয়াল আবেদন ফরমের জন্য হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (CAFO) অথবা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিয়মানুযায়ী আবেদন করতে হবে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *