৯ম পে স্কেলের সর্বশেষ নিউজ ২০২৬ । গেজেট প্রকাশ কবে হবে জানেন কি?
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ার পর এক সপ্তাহের বেশি সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত গেজেট বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হয়নি। ফলে নতুন পে-স্কেলে গ্রেডভিত্তিক মূল বেতন কত হবে, কোন তারিখ থেকে আর্থিক সুবিধা কার্যকর হবে এবং বেতন-ভাতা একসঙ্গে নাকি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে—এসব প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর এখনো মেলেনি।
তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে এবং চলতি জুলাই মাসেই গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। কোনো কোনো প্রতিবেদনে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে গেজেট প্রকাশ হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সরকারিভাবে এখনো গেজেট প্রকাশের নির্দিষ্ট দিন-তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। ফলে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য সময়সূচিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
গেজেট প্রকাশেই মিলবে চূড়ান্ত বেতন কাঠামো
নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সবচেয়ে বড় আগ্রহ এখন গ্রেডভিত্তিক নতুন মূল বেতন নির্ধারণ নিয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ইতোমধ্যে একাধিক সম্ভাব্য বেতন কাঠামো ছড়িয়ে পড়েছে। এসব তালিকায় বিভিন্ন গ্রেডে উল্লেখযোগ্য হারে বেতন বৃদ্ধির তথ্য দেওয়া হলেও সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত গ্রেডভিত্তিক বেতন তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, গেজেট প্রকাশের পরই নতুন বেতন কাঠামোর প্রকৃত চিত্র পরিষ্কার হবে। সেখানে প্রতিটি গ্রেডের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল বেতন, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, বিদ্যমান চাকরিজীবীদের নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণ বা ফিটমেন্ট পদ্ধতি এবং কার্যকারিতার তারিখ উল্লেখ থাকার কথা।
এ কারণে গেজেট প্রকাশের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো বেতন তালিকাকে চূড়ান্ত বা সরকার অনুমোদিত বেতন কাঠামো হিসেবে গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
একবারে নয়, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের আলোচনা
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, রাজস্ব আহরণে চাপ, বাজেট ঘাটতি, মূল্যস্ফীতি এবং সরকারের সামগ্রিক ব্যয় বিবেচনায় নতুন পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
সাম্প্রতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন বা বেসিক বাড়ানোর বিষয়টি অগ্রাধিকার পেতে পারে। পরবর্তী সময়ে আর্থিক সক্ষমতা ও সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সমন্বয় করা হতে পারে।
তবে নতুন পে-স্কেল ঠিক কয় ধাপে বাস্তবায়িত হবে, প্রথম ধাপে মূল বেতন কত শতাংশ বাড়বে এবং কোন কোন ভাতা পরিবর্তন বা পুনর্বিন্যাস করা হবে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হয়নি।
আর্থিক সংকটে সুপারিশে পরিবর্তনের সম্ভাবনা
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হলে সরকারের পরিচালন ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে।
এ কারণে পে-স্কেল সংক্রান্ত আগের বিভিন্ন প্রস্তাব ও সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়নের পরিবর্তে আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কিছু পরিবর্তন আনার আলোচনা চলছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
বিশেষ করে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা পুনর্নির্ধারণ অথবা ধাপে ধাপে কার্যকরের বিষয়টি আলোচনায় থাকতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
কর্মচারী সংগঠনগুলোর দাবি—প্রথম ধাপেই পুরো মূল বেতন কার্যকর
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠনও সক্রিয় রয়েছে। সম্প্রতি একটি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকরের দাবি জানিয়ে সরকারের কাছে দুটি প্রস্তাব দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
কর্মচারী প্রতিনিধিদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে দ্রব্যমূল্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষাব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বেতন কাঠামোয় জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে ধাপে ধাপে আংশিক মূল বেতন বৃদ্ধির পরিবর্তে নতুন স্কেলের পূর্ণ মূল বেতন প্রথম ধাপেই কার্যকর করার দাবি জানানো হচ্ছে।
তবে সরকার শেষ পর্যন্ত কোন পদ্ধতিতে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
গেজেট দেরি হলে বর্ধিত বেতন কবে মিলবে?
সরকারি চাকরিজীবীদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে—গেজেট প্রকাশে দেরি হলে নতুন স্কেলের বর্ধিত বেতন কবে থেকে পাওয়া যাবে।
এক্ষেত্রে মূল বিষয় হবে সরকারি গেজেটে উল্লেখ করা ‘কার্যকারিতার তারিখ’। গেজেট প্রকাশের তারিখ এবং নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার তারিখ একই নাও হতে পারে।
সরকার যদি গেজেটে পূর্ববর্তী কোনো তারিখ থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার সিদ্ধান্ত দেয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট বিধান ও নির্দেশনা অনুযায়ী বর্ধিত বেতনের পার্থক্য বকেয়া হিসেবে পরিশোধের ব্যবস্থা থাকতে পারে। অন্যদিকে গেজেট প্রকাশের দিন বা পরবর্তী কোনো তারিখ থেকে কার্যকর করা হলে সেই তারিখ অনুযায়ী আর্থিক সুবিধা নির্ধারিত হবে।
ফলে গেজেট প্রকাশের আগে বকেয়া বেতন বা এরিয়ার সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই।
পেনশনভোগীদের মধ্যেও বাড়ছে প্রত্যাশা
নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে শুধু কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নন, অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে পেনশন, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধায় কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
তবে পেনশনভোগীদের জন্য কী ধরনের সুবিধা থাকবে এবং তা কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে সরকারিভাবে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়নি। চূড়ান্ত গেজেট ও পরবর্তী বাস্তবায়ন আদেশ প্রকাশের পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তালিকা নিয়ে সতর্কতা
নবম পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের ব্যাপক আগ্রহের সুযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের গ্রেডভিত্তিক বেতন তালিকা, গেজেটের সম্ভাব্য তারিখ এবং বাস্তবায়ন সংক্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে।
কোনো কোনো পোস্টে নির্দিষ্ট দিন গেজেট প্রকাশের দাবি করা হচ্ছে। আবার কোথাও নতুন বেতন কাঠামোর নামে বিভিন্ন অঙ্কের তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে।
কিন্তু সরকারি গেজেট, প্রজ্ঞাপন অথবা অর্থ মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক আদেশ ছাড়া এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ফলে বিভ্রান্তি এড়াতে সরকারি নথি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত যাচাইহীন তথ্য প্রচার বা শেয়ার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
এখন সবার নজর গেজেটের দিকে
সব মিলিয়ে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপেক্ষার কেন্দ্রবিন্দু এখন চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী চলতি জুলাই মাসেই গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে এবং কোনো কোনো সূত্র জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ের কথা বলছে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন এবং প্রথম পর্যায়ে মূল বেতন বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আলোচনা চলছে।
তবে গ্রেডভিত্তিক চূড়ান্ত বেতন, বেতন বৃদ্ধির হার, ভাতা কাঠামো, পেনশনভোগীদের সুবিধা, বাস্তবায়নের ধাপ এবং কার্যকারিতার তারিখ—সবকিছুর নিশ্চিত উত্তর মিলবে সরকারি গেজেট প্রকাশের পর।
তাই এখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের অপেক্ষা—কবে শেষ হবে দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং কবে প্রকাশিত হবে বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের চূড়ান্ত গেজেট।



