৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য বড় খবর: বদলে যাচ্ছে পে-স্কেল ও ইনক্রিমেন্ট ব্যবস্থা, জুলাই থেকেই কার্যকর

সরকারি চাকরিতে বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সরকার। প্রথাগত বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাস্তব চাহিদা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি আধুনিক বেতন কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। চূড়ান্ত গ্যাজেট প্রকাশে কিছুটা বিলম্ব হলেও নতুন এই পে-স্কেল চলতি বছরের জুলাই মাস থেকেই কার্যকর বলে গণ্য করা হবে।

আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন পে-স্কেলের এই খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি শুরু করেছে অর্থ বিভাগ।

মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে ইনক্রিমেন্ট সমন্বয়

নতুন নীতিমালার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের পদ্ধতি। এখন থেকে শুধু নির্ধারিত গ্রেড অনুযায়ী নয়, বরং দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাস্তব চাহিদাকে বিবেচনায় রেখে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। মূলত সরকারের আর্থিক সক্ষমতা যাচাই, বেতন কমিশনের সুপারিশ এবং নতুন ভাতা কাঠামোর সমন্বয়ের কাজ চলার কারণেই গ্যাজেট প্রকাশে কিছুটা সময় লাগছে।

জরিপে উঠে এসেছে ব্যাপক জনমত

প্রস্তাবিত এই নীতিমালার ভিত্তি হিসেবে সরকার দেশব্যাপী একটি বৃহৎ জরিপ পরিচালনা করে। এতে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ সরকারি চাকরিজীবী, ৬১ হাজার ৫০০ সাধারণ নাগরিক এবং ৩ হাজার ৫১৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান অংশ নেন। জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে:

  • বর্তমান ইনক্রিমেন্ট ব্যবস্থার পক্ষে মত দিয়েছেন মাত্র ৫.৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী।

  • বিপরীতে, ৫০.৪৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারী দেশের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি এবং ৩১.৫৪ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে ইনক্রিমেন্ট সমন্বয়ের পক্ষে সরাসরি মত দিয়েছেন।

  • এছাড়া, জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭৯.৫ শতাংশ মানুষই ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পক্ষে জোরালো সুপারিশ করেছেন।

গ্রেডভিত্তিক নতুন ইনক্রিমেন্টের হার (প্রস্তাবিত খসড়া)

জরিপের মতামত এবং নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের বিষয়টি মাথায় রেখে খসড়া প্রস্তাবে গ্রেডভিত্তিক ইনক্রিমেন্টের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী:

  • ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড: বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশ বহাল থাকবে।

  • ৫ম গ্রেড: ইনক্রিমেন্ট হবে ৪ শতাংশ

  • ৩য় ও ৪র্থ গ্রেড: ইনক্রিমেন্ট হবে ৩.৫ শতাংশ

  • ২য় গ্রেড: ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে ২.৭৫ শতাংশ

  • ১ম গ্রেড: শীর্ষ এই গ্রেডের ইনক্রিমেন্ট হার এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।

কেমন হবে নতুন বেতন কাঠামো?

বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০০ টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে সচিব কমিটিতে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন দেড় লাখ টাকা করার এবং সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৭.৫ রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা চলছে।

এই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারী বেতন ও অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে সর্বমোট ১৬,৯৫০ টাকা পান। নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর তাদের এই মোট মাসিক আয় একলাফে বেড়ে প্রায় ৪১,৯০৮ টাকায় পৌঁছাতে পারে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় পাস হওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক গ্যাজেট প্রকাশ করা হবে, যা দেশের লক্ষ লক্ষ সরকারি চাকুরিজীবীর জীবনযাত্রায় এক বড় স্বস্তি এনে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *