নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নে আইএমএফের সতর্কবার্তা, উদ্বেগের কেন্দ্রে চার ইস্যু
দেশের চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সম্প্রতি অর্থবিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের অনুষ্ঠিত পৃথক বৈঠকে এ পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে।
পে-স্কেল পেছানোর পেছনে আইএমএফের যুক্তি
আইএমএফ জানিয়েছে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। সংস্থাটির উদ্বেগের মূল কারণগুলো হলো:
রাজস্ব ঘাটতি ও বাজেট চাপ: সরকারের রাজস্ব আয় প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় বাজেটের ওপর বড় ধরনের চাপ রয়েছে।
মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি: বর্তমান বাজারে মূল্যস্ফীতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে বাজারে অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহ বাড়বে, যা ভোগ ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে।
পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি: বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধি সরকারের বিদ্যমান পরিচালন ব্যয়কে অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।
অর্থনীতির আরও তিনটি ইস্যুতে উদ্বেগ
কেবল পে-স্কেল নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে আরও তিনটি বিষয়ে দ্রুত সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছে আইএমএফ। এগুলো হলো:
১. সরকারি ভর্তুকি কমিয়ে আনা।
২. ব্যাংকিং খাতের প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার।
৩. রাজস্ব প্রশাসনের আধুনিকায়ন।
সরকারের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খোসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গেও আলোচনা করেছে আইএমএফ প্রতিনিধি দল। অর্থমন্ত্রী গণমাধ্যমকে জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে প্রতিটি সংস্কার ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে। রাতারাতি বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় এবং এ বিষয়ে আইএমএফও একমত পোষণ করেছে। সরকার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেই পর্যায়ক্রমে সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করবে।
আইএমএফ প্রতিনিধি দল বর্তমান আলোচনা শেষে সংস্কার কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়ে একটি চূড়ান্ত মূল্যায়ন প্রদান করবে, যা দেশের ভবিষ্যৎ ঋণ কর্মসূচি এবং বাজেট ব্যবস্থাপনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।



