আগস্টের মাঝামাঝি নাগাদ আসতে পারে নতুন পে-স্কেলের গেজেট: প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহু প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রশাসনিক আইনি প্রক্রিয়া ও চুলচেরা বিশ্লেষণের কারণে গেজেট প্রকাশে কিছুটা সময় লাগলেও, অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই মাসের শেষভাগ অথবা আগস্টের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
কার্যকারিতা ও বাস্তবায়ন কৌশল
সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন এই বেতন কাঠামো চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকেই কার্যকর ধরা হবে। তবে মূল্যস্ফীতি ও সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে পুরো বেতন কাঠামো একবারে কার্যকর না করে কয়েক ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মূল বেতন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সমন্বয় করা হবে।
বেতন ও ভাতার প্রস্তাবনা
বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে:
বেতন বৃদ্ধির হার: ১ম থেকে ৯ম গ্রেড পর্যন্ত ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত মূল বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মূল বেতন ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় রয়েছে।
অন্যান্য সুবিধা: মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতার হার পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পেনশনভোগীদের জন্য সুখবর: পেনশনারদের জন্য বিশেষ সুবিধা হিসেবে, যাদের মাসিক পেনশন ২০,০০০ টাকার নিচে, তাদের পেনশন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়াও ৭৫ বছর ঊর্ধ্ব পেনশনভোগীদের জন্য মাসিক ১০,০০০ টাকা চিকিৎসা ভাতার সুপারিশ রয়েছে।
প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও বর্তমান অবস্থা
বর্তমানে জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ কর্তৃক প্রণীত সুপারিশসমূহ পর্যালোচনা করছে সংশ্লিষ্ট কমিটি। ১৫ জুলাই, ২০২৬ তারিখেও এই সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে যেখানে সরকারি, বিচার বিভাগীয় ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন-ভাতা চূড়ান্তকরণের কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। কমিটির এই চূড়ান্ত সুপারিশ মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং (আইনি যাচাই) শেষে প্রজ্ঞাপন বা গেজেট আকারে তা প্রকাশ করা হবে।
কেন এই বিলম্ব?
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে সরকারের বার্ষিক পরিচালন ব্যয়, রাজস্ব আয়, বাজেট ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচির শর্তাবলি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এছাড়া দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বেতন কাঠামো তৈরি করাই সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
সবমিলিয়ে, নতুন পে-স্কেল ঘোষণার মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতিশীলতা আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।


