নতুন প্রজ্ঞাপনে বাড়ল মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা, কিন্তু সরকারি চাকরিজীবীদের প্রশ্ন—‘পে-স্কেল কবে?’
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নতুন প্রজ্ঞাপনে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার এবং শহিদ বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সম্মানি ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি হওয়া এ প্রজ্ঞাপনে বিভিন্ন শ্রেণির ভাতা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার ধারাবাহিকতায় কার্যকর হচ্ছে।
ছবিতে দেখা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক মূল ভাতা, উৎসব ভাতা, মহান বিজয় দিবস ভাতা এবং বাংলা নববর্ষ ভাতার পরিমাণ নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার এবং শহিদ বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের জন্যও বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের পঙ্গুত্বের শ্রেণি অনুযায়ী মাসিক ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, খাদ্য ভাতা ও উৎসব ভাতার হার আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ রয়েছে, নির্দিষ্ট শ্রেণির যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অতিরিক্ত সহায়ক ভাতা এবং শহিদ বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের জন্য বিশেষ আর্থিক সুবিধা বহাল থাকবে। এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সামাজিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে এই নতুন প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মন্তব্য করছেন, একের পর এক বিভিন্ন খাতের প্রজ্ঞাপন জারি হলেও বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশিত হয়নি।
অনেক সরকারি চাকরিজীবীর ভাষায়, “নতুন নতুন প্রজ্ঞাপন দেখে আশায় বুক বাঁধি—এই বুঝি আমাদের পে-স্কেলের সুখবর এলো। কিন্তু দিনশেষে আক্ষেপটাই থেকে যায়। সবারটাই তো হচ্ছে, আমাদের পে-স্কেলের সূর্যটা আর কবে উদিত হবে?”—এমন মন্তব্য এখন বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপকভাবে শেয়ার হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল এবং সেই প্রস্তাব বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। অন্যদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে আলোচনা চলমান থাকলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত গেজেট বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়নি।
সরকারি চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশের প্রত্যাশা, অন্যান্য আর্থিক সুবিধার মতোই খুব শিগগিরই নবম পে-স্কেল সম্পর্কেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব নয়।



