ঘুষের অভিযোগে ভাইরাল ভিডিও : ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা ইমরান হোসেন সাময়িক বরখাস্ত?
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সাতৈর-খ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা ইমরান হোসেন (শেখ)-কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী এ ব্যবস্থা নিয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ফরিদপুর (রাজস্ব শাখা) থেকে ২৬ জুলাই জারি করা এক অফিস আদেশে জানানো হয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি), বোয়ালমারীর স্মারকের প্রেক্ষিতে অভিযোগটি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগে এবং একই বিধিমালার ১২(১) ধারা অনুযায়ী তাকে ২৬ জুলাই ২০২৬ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় দুই মিনিটের একটি ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অফিস কক্ষে বসে এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করছেন এবং তা গুনছেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং প্রশাসন বিষয়টি আমলে নেয়।
ভিডিওতে ওই কর্মকর্তাকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সম্পর্কেও মন্তব্য করতে শোনা যায়। এ বিষয়টিও আলোচনার জন্ম দেয়। তবে ভিডিও প্রকাশের পর অভিযুক্ত কর্মকর্তা দাবি করেন, ভিডিওতে দেখা টাকা ঘুষের নয়; বরং এটি তার পূর্বে ধার দেওয়া অর্থ ফেরত নেওয়ার ঘটনা। যদিও তিনি কার কাছ থেকে ওই টাকা নিচ্ছিলেন বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেননি।
জেলা প্রশাসনের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অফিস আদেশে জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলামের স্বাক্ষর রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
দুর্নীতির অভিযোগে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ
সরকারি কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য বা ভিডিও প্রকাশের পর তা প্রাথমিকভাবে বিশ্বাসযোগ্য মনে হলে প্রশাসন শৃঙ্খলা বিধিমালার আওতায় সাময়িক বরখাস্তসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে সাময়িক বরখাস্ত কোনো চূড়ান্ত শাস্তি নয়; পরবর্তী বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিধি অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক সুবিধা পেতে পারেন।


