ভবিষ্য তহবিলে ‘সুদ/ইনক্রিমেন্ট’ নয়, ব্যবহার হবে ‘মুনাফা’ শব্দ: অর্থ বিভাগের নির্দেশনা
সরকারি কর্মচারীদের ভবিষ্য তহবিলের (GPF) হিসাব প্রদান ও তহবিল-সংক্রান্ত দাপ্তরিক কার্যক্রমে ‘সুদ/ইনক্রিমেন্ট’ শব্দের পরিবর্তে ‘মুনাফা’ শব্দ ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। ২০২০ সালের ১৭ জুন জারি করা এ সংক্রান্ত চিঠিতে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগের প্রবিধি-১ অধিশাখা থেকে জারি করা চিঠিটির স্মারক নম্বর ০৭.০০.০০০০.১৭১.১৩.০০২.১৮-৩২। এতে উল্লেখ করা হয়, ‘সরকারি কর্মচারীগণের পেনশন সহজীকরণ আদেশ, ২০২০’-এর বিধান অনুযায়ী অবসরগামী কর্মচারীর ভবিষ্য তহবিলের স্থিতি প্রদানের সময় জমাকৃত অর্থের সঙ্গে প্রাপ্য মুনাফা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
কেন ‘সুদ’ থেকে ‘মুনাফা’ শব্দে পরিবর্তন?
চিঠিতে বলা হয়, এর আগে ‘পেনশন সহজীকরণ আদেশ, ২০০৯’-এ ভবিষ্য তহবিলের ক্ষেত্রে ‘মুনাফা’র পরিবর্তে ‘সুদ’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২০ সালের আদেশে ভবিষ্য তহবিলের আর্থিক সুবিধাকে ‘মুনাফা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ফলে ভবিষ্য তহবিলের হিসাব প্রদানসংক্রান্ত প্রচলিত ফরমেও একই পরিভাষা ব্যবহার করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
অর্থাৎ, এটি কেবল কোনো কর্মচারীর ব্যক্তিগত জিপিএফ হিসাবের অঙ্ক পরিবর্তনের নির্দেশ নয়; মূলত সরকারি হিসাব-ফরম, নথি ও দাপ্তরিক পরিভাষায় একটি পরিবর্তন আনার নির্দেশনা।
General Provident Fund Rules, 1979-এও পরিভাষাগত পরিবর্তন
অর্থ বিভাগের চিঠিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। ১৯ অক্টোবর ২০০৯ সালের এসআরও নং-২৩৪-আইন/২০০৯ অনুযায়ী General Provident Fund Rules, 1979-এ ‘interest’ শব্দের পরিবর্তে ‘interest or increment’ শব্দ ব্যবহার করা হয়।
এই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ভবিষ্য তহবিলের হিসাব প্রদানসংক্রান্ত বিদ্যমান ফরম এবং তহবিল-সংক্রান্ত অন্যান্য ক্ষেত্রে ‘সুদ/ইনক্রিমেন্ট’ শব্দের পরিবর্তে ‘মুনাফা’ শব্দ লিপিবদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়।
কোন কোন ক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে?
অর্থ বিভাগের নির্দেশনার মূল লক্ষ্য ছিল ভবিষ্য তহবিল-সংক্রান্ত হিসাব প্রদান ফরম ও অন্যান্য দাপ্তরিক নথিতে পরিভাষার সামঞ্জস্য আনা। ফলে জিপিএফের হিসাব বিবরণী, অবসরকালীন ভবিষ্য তহবিলের স্থিতি, সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ নথি এবং তহবিল-সংক্রান্ত অন্যান্য ফরমে পুরোনো ‘সুদ/ইনক্রিমেন্ট’ শব্দের বদলে ‘মুনাফা’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
চিঠিতে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এলপিসি ও অবসরকালীন হিসাবেও ‘মুনাফা’ গুরুত্বপূর্ণ
২০২০ সালের পেনশন সহজীকরণ আদেশের বিধান অনুযায়ী কর্মচারীর এলপিসি (Last Pay Certificate)-তে ভবিষ্য তহবিলের জমাকৃত অর্থের সঙ্গে প্রাপ্য মুনাফা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে অবসরগামী কর্মচারীর ভবিষ্য তহবিলের স্থিতি প্রদানের আদেশ জারির সময়ও সংশ্লিষ্ট হিসাব বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এ কারণে অবসর ও পেনশন নিষ্পত্তির সঙ্গে যুক্ত হিসাবরক্ষণ কার্যক্রমেও ‘মুনাফা’ শব্দটির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এটি কি জিপিএফের অর্থ বা হারের পরিবর্তন?
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বোঝা জরুরি—‘সুদ/ইনক্রিমেন্ট’ থেকে ‘মুনাফা’ শব্দ ব্যবহারের নির্দেশনা নিজে থেকে জিপিএফের জমা, মুনাফার হার বা কর্মচারীর প্রাপ্য অর্থের পরিমাণ পরিবর্তনের আদেশ নয়।
মূল নির্দেশনাটি হচ্ছে দাপ্তরিক হিসাব ও ফরমে ব্যবহৃত পরিভাষা পরিবর্তন। অর্থাৎ, আগে যেখানে ‘সুদ/ইনক্রিমেন্ট’ লেখা হতো, সেখানে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ‘মুনাফা’ লিখতে হবে। সাম্প্রতিক ব্যাখ্যামূলক আলোচনাতেও ১৭ জুন ২০২০-এর এই নির্দেশনাকে মূলত পরিভাষাগত পরিবর্তন হিসেবেই তুলে ধরা হয়েছে।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ?
জিপিএফ সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চাকরির সময়ে নিয়মিত চাঁদা জমা হওয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত নিয়মে ওই অর্থের ওপর প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা হিসাব করা হয়। অবসরের সময় ভবিষ্য তহবিলের চূড়ান্ত স্থিতি নির্ধারণেও এসব হিসাব গুরুত্বপূর্ণ।
তাই সরকারি কর্মচারীদের জিপিএফ স্টেটমেন্ট, এলপিসি, অবসরকালীন হিসাব বা ভবিষ্য তহবিলের নথিতে ‘সুদ’ বা ‘ইনক্রিমেন্ট’-এর পরিবর্তে ‘মুনাফা’ শব্দ দেখতে পাওয়া এই নির্দেশনারই অংশ।
নির্দেশনার সারকথা
অর্থ বিভাগের ১৭ জুন ২০২০-এর নির্দেশনায় মূলত তিনটি বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে—
- ভবিষ্য তহবিলের হিসাব প্রদানসংক্রান্ত বিদ্যমান ফরমে ‘সুদ/ইনক্রিমেন্ট’-এর পরিবর্তে ‘মুনাফা’ লিখতে হবে।
- ভবিষ্য তহবিল-সংক্রান্ত অন্যান্য দাপ্তরিক ক্ষেত্রেও একই পরিভাষা ব্যবহার করতে হবে।
- সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নিতে হবে।
সব মিলিয়ে, ১৭ জুন ২০২০-এর এই নির্দেশনা জিপিএফের অর্থনৈতিক হিসাবের চেয়ে সরকারি হিসাব ব্যবস্থায় ব্যবহৃত পরিভাষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। বিশেষ করে পেনশন, এলপিসি ও ভবিষ্য তহবিলের হিসাব নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ‘মুনাফা’ শব্দটি ব্যবহারের প্রশাসনিক ভিত্তি এই নির্দেশনার মাধ্যমে আরও স্পষ্ট করা হয়।


