পে স্কেল ২০১৫ । পুরাতন পে স্কেলের চার্ট দেখে নিন
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নির্ধারণ ও ইনক্রিমেন্ট হিসাবের ক্ষেত্রে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। প্রকাশিত ইনক্রিমেন্ট তালিকায় ১ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে ইনক্রিমেন্টসহ মূল বেতন কীভাবে বৃদ্ধি পায়, তার একটি গ্রেডভিত্তিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা সহায়ক ও টিফিন ভাতার কয়েকটি তথ্যও তালিকার নিচের অংশে উল্লেখ রয়েছে।
প্রদত্ত দুটি ছবিতে মূলত “জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর ইনক্রিমেন্ট তালিকা” এবং “গ্রেড ভিত্তিক ইনক্রিমেন্টসহ মূল বেতন” দেখানো হয়েছে। চাকরিজীবীদের বেতন নির্ধারণ, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট এবং বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা বোঝার ক্ষেত্রে এ তালিকা বিশেষভাবে সহায়ক।
১ থেকে ২০ গ্রেডের মূল বেতনের ভিত্তি
ছবির তালিকার প্রথম সারিতে ১ থেকে ২০ পর্যন্ত গ্রেড দেখানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট গ্রেডের প্রাথমিক মূল বেতন হিসেবে তালিকায় রয়েছে—
- ১ম গ্রেড — ৭৮,০০০ টাকা
- ২য় গ্রেড — ৬৬,০০০ টাকা
- ৩য় গ্রেড — ৫৬,৫০০ টাকা
- ৪র্থ গ্রেড — ৫০,০০০ টাকা
- ৫ম গ্রেড — ৪৩,০০০ টাকা
- ৬ষ্ঠ গ্রেড — ৩৫,৫০০ টাকা
- ৭ম গ্রেড — ২৯,০০০ টাকা
- ৮ম গ্রেড — ২৩,০০০ টাকা
- ৯ম গ্রেড — ২২,০০০ টাকা
- ১০ম গ্রেড — ১৬,০০০ টাকা
- ১১তম গ্রেড — ১২,৫০০ টাকা
- ১২তম গ্রেড — ১১,৩০০ টাকা
- ১৩তম গ্রেড — ১১,০০০ টাকা
- ১৪তম গ্রেড — ১০,২০০ টাকা
- ১৫তম গ্রেড — ৯,৭০০ টাকা
- ১৬তম গ্রেড — ৯,৩০০ টাকা
- ১৭তম গ্রেড — ৯,০০০ টাকা
- ১৮তম গ্রেড — ৮,৮০০ টাকা
- ১৯তম গ্রেড — ৮,৫০০ টাকা
- ২০তম গ্রেড — ৮,২৫০ টাকা
এগুলো ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের সংশ্লিষ্ট গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন। এরপর নির্ধারিত ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে একই গ্রেডে কর্মরত চাকরিজীবীর মূল বেতন ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পায়।
বার্ষিক ইনক্রিমেন্টে কীভাবে বেতন বাড়ে
ছবির টেবিলে একই গ্রেডের জন্য একাধিক সারিতে বিভিন্ন অঙ্কের মূল বেতন দেখানো হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, চাকরির মেয়াদ বাড়ার সঙ্গে নির্ধারিত নিয়মে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্ট যোগ হয়ে মূল বেতন পরবর্তী ধাপে যায়।
অর্থাৎ কোনো কর্মচারী নির্দিষ্ট একটি গ্রেডে থাকলে তাঁর বেতন শুধু প্রারম্ভিক মূল বেতনে স্থির থাকে না। প্রযোজ্য ইনক্রিমেন্ট পাওয়ার পর তালিকার পরবর্তী ধাপে তাঁর মূল বেতন নির্ধারিত হয়।
এ কারণে পে-ফিক্সেশন, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড এবং নতুন বেতন স্কেলে বেতন নির্ধারণের সময় আগের মূল বেতন ও অর্জিত ইনক্রিমেন্টের তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিম্ন গ্রেডের ক্ষেত্রেও রয়েছে একাধিক বেতন ধাপ
টেবিলের নিচের দিকে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের জন্যও ধারাবাহিকভাবে ইনক্রিমেন্টসহ বেতনের অঙ্ক দেওয়া হয়েছে। ফলে একজন চাকরিজীবী কোন গ্রেডে রয়েছেন এবং কতটি ইনক্রিমেন্ট পেয়েছেন—তার ওপর নির্ভর করে তাঁর মূল বেতন কত হবে তা নির্ধারণ করা যায়।
বিশেষ করে ১৬, ১৭, ১৮, ১৯ ও ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের জন্য তালিকাটি বেতন হিসাবের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব গ্রেডে প্রাথমিক মূল বেতনের পরবর্তী ধাপগুলো ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পায়।
বাড়িভাড়া ভাতার তথ্যও রয়েছে তালিকায়
ছবির নিচের অংশে সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে বাড়িভাড়া সংক্রান্ত কয়েকটি হার উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন বেতনসীমা অনুযায়ী বাড়িভাড়া নির্ধারণের তথ্য দেওয়া হয়েছে।
তালিকায় উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী—
- মূল বেতন ৮,২৫০–১৭,০০০ টাকা হলে বাড়িভাড়া ৫০ শতাংশ, ন্যূনতম ৪,৫০০ টাকা;
- মূল বেতন ১৭,০১–৩৫,০০০ টাকা হলে বাড়িভাড়া ৪৫ শতাংশ, ন্যূনতম ৮,৪০০ টাকা;
- মূল বেতন ৩৫,০০১–৫৫,০০০ টাকা হলে বাড়িভাড়া ৪০ শতাংশ, ন্যূনতম ১০,০০০ টাকা;
- মূল বেতন ৫৫,০০১ টাকা বা তার বেশি হলে বাড়িভাড়া ৩৫ শতাংশ, ন্যূনতম ১৮,০০০ টাকা।
তবে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সময়ে কার্যকর সরকারি আদেশ ও প্রজ্ঞাপন অনুসরণ করতে হবে। পুরোনো বেতন স্কেলের তালিকা দেখে বর্তমান ভাতা সরাসরি নির্ধারণ করা ঠিক নয়।
চিকিৎসা ও শিক্ষা সহায়ক ভাতার তথ্য
ছবির নিচে চিকিৎসা ভাতা ১,৫০০ টাকা, শিক্ষা সহায়ক ভাতা সন্তানপ্রতি ৫০০ টাকা, সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য ১,০০০ টাকা এবং ১১–২০তম গ্রেডের জন্য টিফিন ভাতা ২০০ টাকা—এমন তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
এগুলো মূল বেতনের অংশ নয়; বরং পৃথক ভাতা হিসেবে তালিকায় দেখানো হয়েছে। ফলে পে-ফিক্সেশনের সময় মূল বেতন এবং বিভিন্ন ভাতা আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
পে-ফিকেশনের সঙ্গে এই তালিকার গুরুত্ব
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট এবং ভাতা এক বিষয় নয়। পে-ফিকেশনের সময় নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী মূল বেতন নির্ধারণ করা হয় এবং তার ভিত্তিতে প্রযোজ্য বিভিন্ন ভাতা হিসাব করা হয়।
উদাহরণ হিসেবে, কোনো চাকরিজীবীর বেতন যদি একটি নির্দিষ্ট গ্রেডের প্রথম ধাপ থেকে শুরু হয়, পরবর্তী ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে তিনি একই গ্রেডের পরবর্তী বেতন ধাপে যেতে পারেন। আবার পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়া গেলে নতুন গ্রেডের নিয়ম অনুযায়ী তাঁর বেতন পুনর্নির্ধারণ হতে পারে।
এ কারণে শুধু বর্তমান বেতন জানলেই সবসময় সঠিক পে-ফিকেশন করা সম্ভব নয়। বর্তমান গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, সর্বশেষ ইনক্রিমেন্টের তারিখ, পূর্ববর্তী পে-ফিকেশন এবং পদোন্নতির তথ্য একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।
নতুন বেতন স্কেলের আলোচনায় পুরোনো তালিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ
বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো ও পে-ফিকেশন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা থাকায় ২০১৫ সালের বেতন স্কেলের পুরোনো ইনক্রিমেন্ট তালিকাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে পুরোনো স্কেল থেকে নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোন বেতন ধাপ থেকে হিসাব শুরু হবে এবং ইনক্রিমেন্ট কীভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে, তা বুঝতে পুরোনো বেতন কাঠামোর ধারণা প্রয়োজন।
তবে কোনো নতুন বেতন স্কেল কার্যকর হলে তার সরকারি প্রজ্ঞাপন, পে-ফিকেশন বিধিমালা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারেই চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণ করতে হবে। শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো চার্টের ভিত্তিতে ব্যক্তিগত বেতন চূড়ান্ত করা উচিত নয়।
সারসংক্ষেপ
প্রদত্ত ইনক্রিমেন্ট তালিকাটি মূলত জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর ১ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ইনক্রিমেন্টসহ মূল বেতনের ধাপগুলো বোঝার একটি সংক্ষিপ্ত নির্দেশিকা। একই গ্রেডে চাকরির মেয়াদ ও প্রাপ্য ইনক্রিমেন্টের সঙ্গে মূল বেতন ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি এখানে স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে।
বিশেষ করে পে-ফিকেশন, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড এবং নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন পুনর্নির্ধারণের আলোচনায় এই ধরনের গ্রেডভিত্তিক ইনক্রিমেন্ট তালিকা গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশ ও প্রযোজ্য বিধিমালা অনুসরণ করতে হবে।




