পেনশনারদের চিকিৎসা ভাতা ২০২৬: বয়স কত হলে কত টাকা পাওয়া যাবে?
জাতীয় বেতন স্কেল–২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর সরকারি অবসরপ্রাপ্ত পেনশনার ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আগের ব্যবস্থায় বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হলে চিকিৎসা ভাতা ২ হাজার ৫০০ টাকা হতো। নতুন কাঠামোয় বয়সের সঙ্গে ভাতার পরিমাণ ধাপে ধাপে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।
বয়স অনুযায়ী চিকিৎসা ভাতার নতুন হার
নতুন জাতীয় বেতন স্কেল–২০২৬-সংক্রান্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী পেনশনার ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা হবে—
এক নজরে নতুন পেনশন কাঠামো
| ৩০ জুন ২০২৬-এর নিট পেনশন | বৃদ্ধির হার | নতুন নিট পেনশনের সীমা |
|---|---|---|
| ৯,০০০ টাকা বা কম | ১০০% | ১০,০০০–১৮,০০০ টাকা |
| ৯,০০১–২০,০০০ টাকা | ৭৫% | ১৮,০০১–৩৫,০০০ টাকা |
| ২০,০০১–৩০,০০০ টাকা | ৬৫% | ৩৫,০০১–৪৯,০০০ টাকা |
| ৩০,০০১–৪০,০০০ টাকা | ৬০% | ৪৯,০০১–৬২,০০০ টাকা |
| ৪০,০০১ টাকা বা বেশি | ৫৫% | ৬২,০০১–৭০,২০০ টাকা |
অর্থাৎ, নতুন ব্যবস্থায় বয়স যত বাড়বে, পেনশনারের চিকিৎসা ভাতার পরিমাণও ধাপে ধাপে বাড়বে। ৬০ বছর অতিক্রম করলে মাসে ৫ হাজার টাকা এবং ৭০ বছরের বেশি হলে মাসে ৬ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাওয়ার বিধান করা হয়েছে।
আগে কত টাকা পাওয়া যেত?
আগের বেতন কাঠামোয় সাধারণ পেনশনারদের মাসিক চিকিৎসা ভাতা ছিল ১ হাজার ৫০০ টাকা। তবে ৬৫ বছর পূর্ণ হলে অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা বেড়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা হতো। সরকারি পেনশন কর্তৃপক্ষের FAQ-তেও ৬৫ বছর পূর্ণ হলে ২ হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
নতুন কাঠামোয় সেই তুলনায় চিকিৎসা ভাতার সর্বোচ্চ হার ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৬ হাজার টাকা হয়েছে।
কত টাকা বাড়ল?
বর্তমান পুরোনো ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করলে—
- ৬৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনার: ২,৫০০ → ৬,০০০ টাকা
- বৃদ্ধি: ৩,৫০০ টাকা মাসে
- অর্থাৎ বছরে চিকিৎসা ভাতা হিসেবে অতিরিক্ত ৪২,০০০ টাকা।
আর যেসব পেনশনার আগে ১ হাজার ৫০০ টাকা পেতেন, নতুন কাঠামোর সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকার স্তরে গেলে মাসিক ব্যবধান দাঁড়াবে ৪ হাজার ৫০০ টাকা।
পেনশনার ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীরাও অন্তর্ভুক্ত
এই চিকিৎসা ভাতা শুধু চাকরি থেকে অবসর নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য নয়; আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীরাও বয়সভিত্তিক এই চিকিৎসা ভাতার আওতায় থাকবেন বলে প্রকাশিত তথ্যগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে কোনো সরকারি কর্মচারী অবসরের পর নিজে পেনশন গ্রহণ করুন অথবা যোগ্য আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগী হন—বয়স অনুযায়ী চিকিৎসা ভাতার কাঠামো প্রযোজ্য হবে।
কার্যকরের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ
জাতীয় বেতন স্কেল–২০২৬-এর সরকারি পেজ অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এবং ৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত তা হালনাগাদ করা হয়েছে।
তবে নতুন পে-স্কেলের বিভিন্ন সুবিধা একই সময়ে পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না—কিছু ভাতা ও সুবিধার ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে কার্যকরের বিধান রয়েছে। সরকারি ঘোষণাতেও বলা হয়েছে, পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন, আদেশ ও নির্দেশনা জারি করবে এবং সেখানে বেতন, বিভিন্ন ভাতা, পেনশন ও অবসর-পরবর্তী সুবিধার বিস্তারিত বিধান থাকবে।
এক নজরে ২০২৬ সালের চিকিৎসা ভাতা
৫০ বছর পর্যন্ত → ৩,০০০ টাকা
৫০ বছর ১ দিন–৬০ বছর → ৪,০০০ টাকা
৬০ বছর ১ দিন–৭০ বছর → ৫,০০০ টাকা
৭০ বছরের বেশি → ৬,০০০ টাকা
অর্থাৎ, নতুন পে-স্কেলে পেনশনারদের চিকিৎসা ভাতার মূল পরিবর্তন হলো—বয়সভিত্তিক ধাপ বাড়িয়ে সর্বোচ্চ মাসিক ৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর ২ হাজার ৫০০ টাকার তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এখানে ৫০ ও ৬০ বছরের স্তরগুলো নতুন চিকিৎসা ভাতার সামগ্রিক বয়সভিত্তিক কাঠামোর অংশ; পেনশনারদের ক্ষেত্রে অবসর-পরবর্তী বয়স অনুযায়ী প্রযোজ্য স্তরটি দেখতে হবে। চূড়ান্ত অর্থপ্রাপ্তির সময় সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রজ্ঞাপন/পেনশন কর্তৃপক্ষের হিসাবই অনুসরণযোগ্য।



