পে ফিক্সেশন ২০২৬: কোন বিভাগে কত তারিখে শুরু হবে, জেনে নিন বিস্তারিত সময়সূচি
নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ বাস্তবায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পে ফিক্সেশন বা নতুন বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম এখন মাঠপর্যায়ে বিস্তৃত হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণের এই প্রক্রিয়া iBAS++-এর Pay Fixation Module-এর মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে। অর্থ বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে বিভিন্ন হিসাবরক্ষণ কার্যালয়কে এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর থেকে ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগের সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে, ১২ অক্টোবর থেকে চট্টগ্রাম বিভাগে, ১৫ অক্টোবর থেকে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে এবং ১৮ অক্টোবর থেকে খুলনা ও বরিশাল বিভাগে পে ফিক্সেশন কার্যক্রম বিস্তৃত হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন—পে ফিক্সেশন সবার জন্য একই দিনে শুরু হচ্ছে না। এর আগে নির্দিষ্ট পর্যায়ের হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পরবর্তী ধাপে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলো যুক্ত হচ্ছে। তাই শুধু কর্মস্থলের বিভাগ নয়, সংশ্লিষ্ট অফিস কোন হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের আওতাধীন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
বিভাগভিত্তিক পে ফিক্সেশন শুরুর সম্ভাব্য তারিখ
প্রকাশিত ধাপভিত্তিক সময়সূচি অনুযায়ী—
| বিভাগ | পে ফিক্সেশন শুরুর তারিখ |
|---|---|
| ঢাকা বিভাগ | ৮ অক্টোবর ২০২৬ |
| রাজশাহী বিভাগ | ৮ অক্টোবর ২০২৬ |
| চট্টগ্রাম বিভাগ | ১২ অক্টোবর ২০২৬ |
| সিলেট বিভাগ | ১৫ অক্টোবর ২০২৬ |
| ময়মনসিংহ বিভাগ | ১৫ অক্টোবর ২০২৬ |
| রংপুর বিভাগ | ১৫ অক্টোবর ২০২৬ |
| খুলনা বিভাগ | ১৮ অক্টোবর ২০২৬ |
| বরিশাল বিভাগ | ১৮ অক্টোবর ২০২৬ |
অর্থাৎ, ৮ অক্টোবর থেকেই বড় পরিসরে মাঠপর্যায়ের পে ফিক্সেশন কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে। এরপর ১২, ১৫ ও ১৮ অক্টোবর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগ এই কার্যক্রমের আওতায় আসবে।
৮ অক্টোবর: ঢাকা ও রাজশাহী
প্রথম বড় ধাপে ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগের সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়গুলো পে ফিক্সেশন কার্যক্রমের আওতায় আসার কথা রয়েছে। ফলে এসব অঞ্চলের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ৮ অক্টোবর একটি গুরুত্বপূর্ণ তারিখ।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ৮ অক্টোবর প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ব্যক্তিগত ফিক্সেশন সম্পন্ন হয়ে যাবে। বরং সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে কার্যক্রম চালু হওয়ার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তথ্য যাচাই ও পে ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে পারবেন।
১২ অক্টোবর: চট্টগ্রাম বিভাগ
পরবর্তী ধাপে ১২ অক্টোবর থেকে চট্টগ্রাম বিভাগের সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়গুলো পে ফিক্সেশন কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তাই এই তারিখের পর iBAS++-এ সংশ্লিষ্ট সুবিধা সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি যাচাই করতে হবে।
১৫ অক্টোবর: সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর
১৫ অক্টোবর থেকে একসঙ্গে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়গুলো কার্যক্রমের আওতায় আসার কথা রয়েছে।
এই তিন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১৫ অক্টোবর গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তবে ব্যক্তিগত পে ফিক্সেশনের সময় সংশ্লিষ্ট অফিসের তথ্য প্রস্তুতি ও হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করতে পারে।
১৮ অক্টোবর: খুলনা ও বরিশাল
সবশেষ ধাপে ১৮ অক্টোবর থেকে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে পে ফিক্সেশন কার্যক্রম চালুর কথা রয়েছে। এভাবে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণের আওতায় আনা হবে।
১ অক্টোবর থেকে কি পে ফিক্সেশন শুরু হয়নি?
এখানেই রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত ধাপভিত্তিক সূচি অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকেই নির্দিষ্ট কিছু কেন্দ্রীয়/নির্ধারিত হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ৫ অক্টোবর ঢাকার সংশ্লিষ্ট সিএও/হিসাবরক্ষণ কার্যালয় এবং পরবর্তী সময়ে ৮, ১২, ১৫ ও ১৮ অক্টোবর বিভিন্ন অঞ্চলের কার্যালয় যুক্ত হওয়ার সূচি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ৫ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে পে ফিক্সেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তাই ‘পে ফিক্সেশন ৮ অক্টোবর থেকে শুরু’—এ কথাটি মূলত বিভাগভিত্তিক মাঠপর্যায়ের ধাপের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সার্বিকভাবে কার্যক্রম এর আগেই নির্দিষ্ট কার্যালয়ে শুরু হয়েছে।
iBAS++-এ কীভাবে হবে পে ফিক্সেশন?
নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা হবে iBAS++ Pay Fixation Module-এর মাধ্যমে। সরকারি চাকরিজীবীদের প্রয়োজনীয় চাকরিসংক্রান্ত তথ্য অনলাইনে যাচাই ও প্রদান করতে হবে।
পে ফিক্সেশনের সময় সাধারণত যেসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হবে, তার মধ্যে রয়েছে—
- জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য;
- জন্মতারিখ;
- বর্তমান পদ ও গ্রেড;
- চাকরিতে যোগদানের তারিখ;
- ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন;
- আগের বেতন নির্ধারণের তথ্য;
- পদোন্নতির তথ্য;
- উচ্চতর গ্রেডের তথ্য;
- টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেডের তথ্য;
- সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ ও চাকরির রেকর্ড।
বিশেষ করে যাদের পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড রয়েছে, তাদের পুরোনো তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পূর্বের বেতন নির্ধারণের ইতিহাস নতুন বেতন নির্ধারণের হিসাবকে প্রভাবিত করতে পারে।
ভুল তথ্য দিলে কী হতে পারে?
পে ফিক্সেশন অনলাইনে সম্পন্ন হলেও এটি শুধু তথ্য পূরণ করে শেষ করার বিষয় নয়। সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় তথ্য যাচাই করবে। তথ্যের সঙ্গে চাকরির রেকর্ড বা পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের তথ্যের অসঙ্গতি থাকলে সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।
তাই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উচিত পে ফিক্সেশনের আগে সার্ভিস বই, আগের পে ফিক্সেশন, পদোন্নতি/উচ্চতর গ্রেডের আদেশ এবং ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতনের তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে নেওয়া।
অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে কি বকেয়া পাওয়া যাবে?
নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ায় পে ফিক্সেশন সম্পন্ন হওয়ার পর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের বেতন পার্থক্য হিসাব করার সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, নতুন বেতন নির্ধারণের পর অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে প্রায় তিন মাসের বকেয়া পাওয়ার বিষয়টি রয়েছে। তবে প্রত্যেকের বকেয়ার পরিমাণ এক হবে না; তা গ্রেড, ৩০ জুনের মূল বেতন, নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত মূল বেতন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট তথ্যের ওপর নির্ভর করবে।
অর্থাৎ কারও বেতন যতটা বৃদ্ধি পাবে, তার ওপর ভিত্তি করেই সংশ্লিষ্ট সময়ের বকেয়া হিসাব করা হবে।
পে ফিক্সেশনের পর কী হবে?
পে ফিক্সেশন চূড়ান্ত হলে নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে নিয়মিত বেতন বিল তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে পুরোনো ও নতুন বেতনের পার্থক্য অনুযায়ী বকেয়া পাওনার হিসাবও নির্ধারণ করা হবে।
বর্তমানে অর্থ বিভাগের লক্ষ্য হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো পে ফিক্সেশন প্রক্রিয়া শেষ করা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ২০ অক্টোবরের মধ্যে কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশনার কথা বলা হয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের এখন যা করতে হবে
পে ফিক্সেশনের নির্ধারিত তারিখ সামনে রেখে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি—
প্রথমত, নিজের অফিস কোন হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের আওতাধীন তা নিশ্চিত করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, নির্ধারিত তারিখের আগে iBAS++-এ পে ফিক্সেশন সুবিধা সক্রিয় না থাকলে বারবার চেষ্টা না করে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
তৃতীয়ত, ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন ও আগের পে ফিক্সেশনের তথ্য হাতে রাখতে হবে।
চতুর্থত, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড থাকলে সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ ও তারিখ যাচাই করতে হবে।
পঞ্চমত, পে ফিক্সেশন সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন নির্ধারিত মূল বেতন, গ্রেড এবং অন্যান্য তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে দেখতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখযোগ্য। ৮, ১২, ১৫ ও ১৮ অক্টোবরের বিভাগভিত্তিক তারিখগুলো বিভিন্ন প্রকাশিত সময়সূচি ও প্রতিবেদনে এসেছে; তবে প্রত্যেক বিভাগের প্রতিটি অফিসের জন্য একই দিনে ব্যক্তিগত ফিক্সেশন সম্পন্ন হবে—এমন অর্থ করা ঠিক নয়। বাস্তবে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়, অফিসের তথ্য প্রস্তুতি এবং iBAS++-এ কার্যক্রম সক্রিয় হওয়ার ওপর নির্ভর করবে। সরকারি iBAS++ পোর্টালে Pay Fixation-2026 কার্যক্রম চালু থাকার তথ্যও দেখা যাচ্ছে।
শেষ কথা
নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো সঠিকভাবে পে ফিক্সেশন সম্পন্ন করা। সার্বিক কার্যক্রম ৫ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও অঞ্চলভেদে এটি পর্যায়ক্রমে চালু হচ্ছে। প্রকাশিত বিভাগভিত্তিক সূচি অনুযায়ী ৮ অক্টোবর ঢাকা ও রাজশাহী, ১২ অক্টোবর চট্টগ্রাম, ১৫ অক্টোবর সিলেট-ময়মনসিংহ-রংপুর এবং ১৮ অক্টোবর খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়গুলো কার্যক্রমের আওতায় আসবে।
ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের আওতাভুক্তি, iBAS++-এ তথ্যের সঠিকতা এবং পূর্বের বেতন নির্ধারণের রেকর্ড যাচাই করা। কারণ নতুন বেতন শুধু নির্ধারিত হলেই হবে না—ভবিষ্যতের বেতন, ইনক্রিমেন্ট ও বকেয়া হিসাবও এই তথ্যের ওপর নির্ভর করবে।
নোট: বিভাগভিত্তিক সূচির উপস্থাপনায় বিভিন্ন প্রতিবেদনে কিছু পার্থক্য দেখা গেছে। তাই চূড়ান্তভাবে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়/অর্থ বিভাগের সর্বশেষ নির্দেশনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।



