পে ফিক্সেশন নিয়ে অযথা আতঙ্ক নয়: (*) চিহ্নিত ঘরই আগে পূরণ করুন, TIN নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই
তুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনলাইন পে ফিক্সেশন কার্যক্রম এখন চলমান। অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম ২০ অক্টোবরের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। নতুন বেতন নির্ধারণের পাশাপাশি জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বকেয়া বেতনের হিসাবও পে ফিক্সেশনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
পে ফিক্সেশন শুরু হওয়ার পর থেকেই অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে বিভিন্ন তথ্য পূরণ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কোন ঘর পূরণ করা বাধ্যতামূলক, কোন তথ্য না দিলেও হবে এবং TIN নম্বর দিতে হবে কি না—এসব প্রশ্ন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা চলছে।
তবে পে ফিক্সেশন ফরমের কাঠামো বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট—প্রতিটি ঘরকে সমানভাবে বাধ্যতামূলক ধরে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। ফরমে যে ফিল্ডগুলোতে () বা স্টার চিহ্ন রয়েছে, সেগুলোই বাধ্যতামূলক হিসেবে বিবেচনা করে তথ্য পূরণ করা উচিত। ফলে কোনো ঘরে () না থাকলে সেটি নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হয়ে তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই।
TIN নিয়ে কেন এত আলোচনা?
পে ফিক্সেশন ফরমে TIN নম্বরের ঘর থাকায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী মনে করছেন, TIN না দিলে হয়তো পে ফিক্সেশন সাবমিট করা যাবে না। কিন্তু ফরমের ঘরে তথ্য চাওয়া হয়েছে বলেই সেটি অবশ্যই বাধ্যতামূলক—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই।
বর্তমান পে ফিক্সেশন ফরমের বিশ্লেষণে সাধারণ তথ্যের অংশে NID, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর, নাম, TIN ও ই-মেইলসহ বিভিন্ন তথ্যের ঘর দেখা যাচ্ছে। তবে কোন তথ্য বাধ্যতামূলক, তা বোঝার ক্ষেত্রে (*) চিহ্নই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। Alamin Tech
অর্থাৎ, TIN-এর ঘরে যদি (*) চিহ্ন না থাকে, তাহলে শুধু TIN না থাকার কারণে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে TIN দেওয়ার ঘরটি যদি ঐচ্ছিক থাকে, তাহলে সেটিকে বাধ্যতামূলক ধরে নিয়ে পে ফিক্সেশন আটকে আছে বা আটকে যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয়।
তবে এখানে একটি সতর্কতা জরুরি—সিস্টেমে কোনো ফিল্ডে (*) দেখা গেলে সেটি অবশ্যই পূরণ করতে হবে। একইভাবে পরবর্তীতে iBAS++ কর্তৃপক্ষ কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বাধ্যতামূলক করার জন্য নতুন নির্দেশনা দিলে সেই নির্দেশনাই অনুসরণ করতে হবে।
পে ফিক্সেশনে আসলে কোন তথ্যগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
পে ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য হলো একজন কর্মচারীর চাকরি ও বেতনের ইতিহাসের সঙ্গে নতুন বেতন নির্ধারণের তথ্য সঠিকভাবে মিলিয়ে নেওয়া। সরকারি তথ্য অনুযায়ী NID, জন্মতারিখ, বর্তমান পদ ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং বিদ্যমান মূল বেতনের তথ্য দিতে হবে। পূর্ববর্তী পে ফিক্সেশন, পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড থাকলে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও অফিস আদেশও প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
বিশেষ করে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে বিদ্যমান মূল বেতন এবং চাকরির বিভিন্ন পরিবর্তনের তথ্য সঠিক হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নতুন বেতন নির্ধারণ এবং জুলাই থেকে বকেয়া হিসাবের সঙ্গে এসব তথ্য সরাসরি সম্পর্কিত।
তাড়াহুড়ো না করে তথ্য যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
পে ফিক্সেশন করতে গিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল হতে পারে তাড়াহুড়ো করে ভুল তথ্য দিয়ে সাবমিট করা। নতুন বেতন কাঠামোয় কার কত মূল বেতন হবে, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে চাকরির ইতিহাস, বর্তমান গ্রেড, পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণ ও পদোন্নতির তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন iBAS++-এর Pay Fixation মডিউলের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হচ্ছে। তথ্য দেওয়ার পর সিস্টেমে নির্ধারিত নতুন মূল বেতন প্রদর্শিত হওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। এরপর সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় তথ্য যাচাই ও অনুমোদন করা হবে। Reportbd
তাই কোনো একটি ঘর দেখে ভয় পেয়ে বারবার তথ্য পরিবর্তন করা বা ভুল তথ্য দেওয়া উচিত নয়। বরং NID, জন্মতারিখ, বর্তমান পদ, গ্রেড, যোগদানের তারিখ, ৩০ জুনের মূল বেতন এবং পূর্ববর্তী পে ফিক্সেশনের তথ্য আগে মিলিয়ে নেওয়া বেশি জরুরি।
(*) চিহ্ন দেখে ফরম পূরণ করুন
পে ফিক্সেশন নিয়ে সবচেয়ে সহজ নিয়ম হলো—ফরমে যে ঘরগুলোতে (*) রয়েছে, সেগুলো আগে সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। ঐচ্ছিক ঘরগুলো নিয়ে অযথা চাপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার: কোনো ঘর খালি থাকলে সেটি বাধ্যতামূলক নয়—এমন সিদ্ধান্ত শুধু নিজের অনুমানে নেওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট ফিল্ডে (*) আছে কি না, সিস্টেম কোনো error message দেখাচ্ছে কি না এবং সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা কী—এসব দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
iBAS++-এর বর্তমান পোর্টালেও ২০২৬ সালের Pay Fixation কার্যক্রম চালু থাকার তথ্য দেখা যাচ্ছে। iBAS++ Portal
পে ফিক্সেশন শেষ হলেই কী হবে?
পে ফিক্সেশন সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর নতুন মূল বেতন নির্ধারিত হবে। এরপর নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন বিল প্রস্তুত করা হবে। একই সঙ্গে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর নতুন বেতন কাঠামোর কারণে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বকেয়া বা অ্যারিয়ার হিসাবও নির্ধারণ করা হবে। সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে প্রায় তিন মাসের বকেয়া পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে; তবে প্রকৃত বকেয়ার পরিমাণ প্রত্যেকের গ্রেড, পুরোনো মূল বেতন ও নতুন নির্ধারিত মূল বেতনের ওপর নির্ভর করবে।
শেষ কথা
নতুন পে স্কেলের কারণে স্বাভাবিকভাবেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আগ্রহ ও উদ্বেগ দুটোই রয়েছে। কিন্তু পে ফিক্সেশন কোনো আতঙ্কের বিষয় নয়। এটি মূলত চাকরির বিদ্যমান তথ্যের ভিত্তিতে নতুন বেতন নির্ধারণের একটি অনলাইন প্রক্রিয়া।
তাই পে ফিক্সেশন করতে গিয়ে সবচেয়ে ভালো কৌশল হলো—ঠান্ডা মাথায় ফরমটি পড়ুন, (*) চিহ্নিত বাধ্যতামূলক ঘরগুলো সঠিকভাবে পূরণ করুন, NID ও চাকরির তথ্য মিলিয়ে নিন এবং সাবমিট করার আগে পুরো তথ্য পুনরায় যাচাই করুন।
TIN-এর ঘরে (*) না থাকলে শুধু TIN না থাকার কারণে দুশ্চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। তবে সিস্টেমে কোনো বাধ্যতামূলক নির্দেশনা বা error দেখালে সেটি অবশ্যই সংশোধন করতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনির্ভরযোগ্য পোস্টের পরিবর্তে iBAS++ ও অর্থ বিভাগের সর্বশেষ নির্দেশনাকে চূড়ান্ত ভিত্তি হিসেবে নেওয়াই নিরাপদ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তাড়াহুড়ো নয়, সঠিক তথ্যই পে ফিক্সেশনের মূল চাবিকাঠি।



