আইবাস++ । পে ফিক্সেশন । ই-ফাইলিং

iBAS++-এ পে-ফিক্সেশন করতে গিয়ে ‘আপনার অফিসের জন্য ফিচারটি চালু হয়নি’—কেন দেখাচ্ছে, করণীয় কী?

জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণের অনলাইন কার্যক্রম iBAS++-এ শুরু হওয়ার পর অনেকেই পে-ফিক্সেশন করতে গিয়ে নতুন ধরনের বার্তার মুখোমুখি হচ্ছেন। লগইন করার পর “Sorry, this feature is not currently released for your office. Please follow the notice.”—অর্থাৎ, “দুঃখিত, আপনার অফিসের জন্য এই ফিচারটি বর্তমানে চালু করা হয়নি। নোটিশ অনুসরণ করুন”—এমন বার্তা দেখাচ্ছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি স্ক্রিনশটে ঠিক এই বার্তাই দেখা গেছে। ফলে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—পে-ফিকেশন কি বন্ধ হয়ে গেছে, নাকি তাদের তথ্যের কোনো সমস্যা রয়েছে?

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, এটি সাধারণভাবে ব্যক্তিগত তথ্য ভুল থাকার কারণে দেখানো কোনো ত্রুটির বার্তা নয়। বরং iBAS++-এর পে-ফিকেশন সুবিধা অফিস বা সংশ্লিষ্ট হিসাব কার্যালয়ভিত্তিক ধাপে ধাপে চালু করার প্রক্রিয়ার সঙ্গে এটি সম্পর্কিত।

স্ক্রিনশটে আসলে কী দেখা যাচ্ছে?

প্রকাশিত স্ক্রিনশটে iBAS++-এর বাম পাশের মেনুতে Pay Fixation-2026 → GoB Staff → Running অপশন দেখা যাচ্ছে। কিন্তু মূল অংশে একটি সতর্কবার্তা এসেছে—

“Sorry, this feature is not currently released for your office. Please follow the notice.”

এর নিচে Error লেখা এবং Continue বাটন রয়েছে।

অর্থাৎ, ব্যবহারকারী পে-ফিকেশন মডিউলে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারছেন, কিন্তু তার সংশ্লিষ্ট অফিসের জন্য নির্দিষ্ট ফিচারটি এখনো সিস্টেমে উন্মুক্ত করা হয়নি।

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—“Error” লেখা থাকলেও এটি যে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের ভুল বা পে-ফিকেশনের হিসাবের ভুল, এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

সব অফিসে একসঙ্গে পে-ফিকেশন চালু হয়নি

iBAS++-এর বর্তমান লগইন পেজে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া বিভিন্ন CAFO কার্যালয়ে Pay Fixation-2026 কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে সিস্টেমে সংশ্লিষ্ট অফিসভিত্তিক কার্যক্রম চালুর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ, কেন্দ্রীয়ভাবে পে-ফিকেশন কার্যক্রম শুরু হলেও সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর কিংবা মাঠপর্যায়ের অফিসের জন্য একই মুহূর্তে একই ফিচার উন্মুক্ত করা হচ্ছে না।

এ কারণেই একজন কর্মচারী নিজের সহকর্মী বা অন্য কোনো অফিসের কর্মচারীকে পে-ফিকেশন করতে দেখলেও নিজের আইডিতে একই সুবিধা নাও পেতে পারেন।

কেন ধাপে ধাপে চালু করা হচ্ছে?

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বিপুলসংখ্যক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন পুনর্নির্ধারণ করতে হচ্ছে। এজন্য iBAS++-এ শুধু কর্মচারীর নাম ও বর্তমান বেতন দিলেই হবে না; সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর পদ, গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, বর্তমান মূল বেতন, পূর্ববর্তী পে-ফিকেশন এবং পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেডসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন হচ্ছে।

অর্থ বিভাগের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর এবং মাঠপর্যায়ের অফিসগুলোর প্রতিষ্ঠানভিত্তিক জনবলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ ও পাঠানোর কার্যক্রমও চলছে। ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ও iBAS++ Pay Fixation-sub-system-এ জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ বাস্তবায়নের জন্য জনবলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাঠানোর বিষয়ে নোটিশ প্রকাশ করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও ৪ অক্টোবর একই ধরনের তথ্য পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও মাঠপর্যায়ের কার্যালয়গুলোকে নির্দেশ দিয়েছে।

এ থেকে বোঝা যায়, সফটওয়্যারে কর্মচারীর তথ্য প্রস্তুত ও অফিসভিত্তিক কনফিগারেশন একটি চলমান প্রক্রিয়া।

পে-ফিকেশন শুরু হলেও সবার জন্য একই দিনে নয়

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেলের পে-ফিকেশন কার্যক্রম ১ অক্টোবর থেকে শুরু হলেও অফিসভেদে iBAS++ মডিউল চালুর সময় আলাদা রাখা হয়েছে। বিভিন্ন হিসাব কার্যালয় পর্যায়ক্রমে কার্যক্রমের আওতায় আসছে। Bangladesh Service Rules

প্রকাশিত সময়সূচির তথ্যে দেখা যায়, ঢাকার সংশ্লিষ্ট হিসাব কার্যালয়গুলোর কার্যক্রম আগে চালু করা হয়েছে এবং এরপর বিভাগ ও মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন হিসাব কার্যালয় পর্যায়ক্রমে যুক্ত হচ্ছে।

তাই কারও স্ক্রিনে “feature is not currently released for your office” দেখালে প্রথমেই ধরে নেওয়া ঠিক হবে না যে তার পে-ফিকেশনে সমস্যা হয়েছে।

আজ ৮ অক্টোবর থেকে কিছু হিসাব কার্যালয়ে কার্যক্রম চালুর তথ্য

বর্তমান iBAS++ পেজে CAFO পর্যায়ের কার্যক্রম চালুর পাশাপাশি সিস্টেমের জরুরি নোটিশও দেওয়া হয়েছে। সেখানে ৮ অক্টোবর রাত ১১টা থেকে ৯ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত জাতীয় ডাটা সেন্টারের রক্ষণাবেক্ষণের কারণে সিস্টেম বন্ধ থাকার কথা জানানো হয়েছে। iBAS++ Portal

অন্যদিকে প্রকাশিত সময়সূচির তথ্যে ৮ অক্টোবর থেকে ঢাকা বিভাগসহ কিছু DCA/DFO/UAO পর্যায়ের কার্যক্রম চালুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে আজ বা পরবর্তী নির্ধারিত সময়ে কোনো অফিসের জন্য মডিউল উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, ব্যক্তিগতভাবে সবার জন্য একই সময়ে অপশন দেখা যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

পে-ফিকেশনের আগে কী প্রস্তুত রাখবেন?

যাদের অফিসের জন্য মডিউল চালু হয়েছে বা শিগগির চালু হবে, তাদের আগে থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য প্রস্তুত রাখা উচিত। নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণত যেসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে তার মধ্যে রয়েছে—

  • জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য;
  • জন্মতারিখ;
  • বর্তমান পদ ও গ্রেড;
  • চাকরিতে যোগদানের তারিখ;
  • ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত মূল বেতন;
  • পূর্ববর্তী পে-ফিকেশনের তথ্য;
  • পদোন্নতির তথ্য;
  • উচ্চতর গ্রেড/টাইম স্কেল/সিলেকশন গ্রেডের তথ্য, যেখানে প্রযোজ্য;
  • বদলি বা পদায়নসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য;
  • সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ ও প্রমাণপত্র।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, পে-ফিকেশনের সময় কর্মচারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ, বর্তমান পদ ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং বিদ্যমান মূল বেতনের তথ্য দিতে হবে। পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড থাকলে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও অফিস আদেশও প্রস্তুত রাখতে হবে।

‘Error’ দেখে কি আবার রেজিস্ট্রেশন করতে হবে?

না, শুধু এই বার্তা দেখে নতুন করে রেজিস্ট্রেশন, তথ্য পরিবর্তন বা বারবার পে-ফিকেশন করার চেষ্টা করা উচিত নয়।

কারণ স্ক্রিনশটে যে বার্তাটি দেখা যাচ্ছে তার মূল বক্তব্য হলো “not currently released for your office”। অর্থাৎ সমস্যাটি ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট অফিসের জন্য ফিচারটি উন্মুক্ত না থাকার সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তাই একই বার্তা বারবার দেখালে প্রথমে সংশ্লিষ্ট অফিসের প্রশাসন/হিসাব শাখা অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসাব কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করাই যুক্তিযুক্ত।

কখন চিন্তার কারণ হতে পারে?

তবে অফিসের জন্য মডিউল আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার পরও যদি কোনো কর্মচারীর ক্ষেত্রে—

  • লগইন করা না যায়,
  • কর্মচারীর তথ্য না আসে,
  • পদ বা গ্রেড ভুল দেখা যায়,
  • পূর্ববর্তী পে-ফিকেশন পাওয়া না যায়,
  • বেতন ভুল দেখায়,
  • পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেডের তথ্য না আসে,
  • অথবা পে-ফিকেশন সাবমিট করতে গিয়ে আলাদা কোনো ত্রুটি দেখায়,

তাহলে বিষয়টি আলাদাভাবে সংশ্লিষ্ট অফিস বা হিসাবরক্ষণ কর্তৃপক্ষকে জানানো প্রয়োজন হতে পারে।

অর্থাৎ “ফিচার চালু হয়নি” এবং “তথ্য ভুল”—এই দুটি বিষয় এক নয়।

নতুন পে-স্কেলে বকেয়া পাওয়ার সঙ্গেও পে-ফিকেশনের সম্পর্ক

নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর বেতন নির্ধারণের সঙ্গে বকেয়া হিসাবও যুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী পে-ফিকেশন শেষ হলে অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে প্রায় তিন মাসের বকেয়া দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে; বকেয়ার পরিমাণ কর্মচারীর গ্রেড, আগের মূল বেতন ও সংশোধিত মূল বেতনের ওপর নির্ভর করবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আগের ও সংশোধিত মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ, ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত ৭০ শতাংশ এবং ১ জুলাই ২০২৭ থেকে পূর্ণ সংশোধিত মূল বেতন কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

ফলে বর্তমানে iBAS++-এর পে-ফিকেশন নিয়ে কর্মচারীদের আগ্রহ ও উদ্বেগ—দুটিই বেশি।

তাহলে স্ক্রিনশটে দেখানো কর্মচারীর করণীয় কী?

স্ক্রিনশটের তথ্য অনুযায়ী সবচেয়ে বাস্তবসম্মত করণীয় হলো—

১. আতঙ্কিত না হওয়া।
এটি দেখে ধরে নেওয়া যাবে না যে পে-ফিকেশন বাতিল হয়েছে।

২. নিজের অফিসের জন্য মডিউল চালু হয়েছে কি না যাচাই করা।
iBAS++-এর অফিসভিত্তিক রিলিজ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

৩. সংশ্লিষ্ট অফিসের নোটিশ অনুসরণ করা।
স্ক্রিনশটেও সরাসরি “Please follow the notice” বলা হয়েছে।

৪. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা।
বিশেষ করে পূর্ববর্তী পে-ফিকেশন, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড বা টাইম স্কেলের তথ্য।

৫. মডিউল চালুর পর সঠিক তথ্য দিয়ে পে-ফিকেশন করা।

৬. অফিসের জন্য মডিউল চালু হওয়ার পরও সমস্যা থাকলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা।

শেষ কথা

iBAS++-এ “Sorry, this feature is not currently released for your office” বার্তাটি বর্তমানে অনেকের কাছে আতঙ্কের কারণ হলেও এর সরল অর্থ হলো—সংশ্লিষ্ট অফিসের জন্য পে-ফিকেশন ফিচারটি তখনও সিস্টেমে উন্মুক্ত করা হয়নি।

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ বাস্তবায়নের কাজ যেহেতু অফিস ও হিসাব কার্যালয়ভিত্তিক ধাপে এগোচ্ছে, তাই একজন কর্মচারীর অ্যাকাউন্টে অপশন দেখা গেলেও অন্যজনের অ্যাকাউন্টে একই সময়ে নাও দেখা যেতে পারে। iBAS++-এর বর্তমান নোটিশ ও সরকারি দপ্তরগুলোর তথ্যও দেখাচ্ছে যে কর্মচারীদের তথ্য সংগ্রহ, অফিসভিত্তিক ডাটা প্রস্তুত এবং পে-ফিকেশন কার্যক্রম একসঙ্গে চলমান রয়েছে।

অতএব, এই বার্তা দেখলে আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নিজের অফিসের জন্য মডিউল চালুর নির্ধারিত সময়ের অপেক্ষা করা এবং অফিসিয়াল নোটিশ অনুসরণ করা।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *