পে ফিক্সেশনে নতুন জটিলতা, সমাধানে ৬ দফা দাবি: ২০ অক্টোবরের মধ্যে বেতন নির্ধারণ শেষ করার নির্দেশনা
নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণ বা পে ফিক্সেশন কার্যক্রম ঘিরে ব্যস্ততা বাড়ছে। iBAS++ পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম শুরু হলেও সার্ভারে প্রবেশের সমস্যা, বিভিন্ন অপশনে ত্রুটি, চাকরির তথ্যের অসংগতি এবং পূর্ববর্তী উচ্চতর গ্রেডের হিসাব নিয়ে জটিলতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে পে ফিক্সেশন পদ্ধতি সহজ করার জন্য ছয় দফা সংশোধনের আবেদনও জানানো হয়েছে।
প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ৫ অক্টোবর থেকে পে ফিক্সেশন কার্যক্রম শুরু করে ২০ অক্টোবরের মধ্যে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হলে শুধু অনলাইনে তথ্য পূরণ করলেই হবে না; ব্যক্তিগত তথ্য, চাকরির ইতিহাস, পূর্ববর্তী মূল বেতন এবং প্রযোজ্য অফিস আদেশও সঠিকভাবে যাচাই করতে হবে।
জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া পাওনা অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ অর্থের পরিমাণ সবার জন্য এক হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর পুরোনো মূল বেতন, নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত মূল বেতন, গ্রেড, কার্যকর তারিখ এবং প্রযোজ্য ধাপের হিসাব অনুযায়ী বকেয়া নির্ধারিত হবে।
প্রতিবেদনে উল্লেখিত ধাপভিত্তিক বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ৭০ শতাংশ এবং ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে পুরো নতুন মূল বেতন কার্যকরের কথা বলা হয়েছে। নতুন কাঠামোর ভাতা কার্যকরের সময়সূচি আলাদা হতে পারে। তাই মূল বেতনের বকেয়া ও ভাতার হিসাব এক করে দেখা উচিত নয়।
পে ফিক্সেশন সহজ করতে ছয় দফা সংশোধনের আবেদন
৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি iBAS++-এর পে ফিক্সেশন পদ্ধতি সহজ করার জন্য অতিরিক্ত হিসাব মহা নিয়ন্ত্রক (হিসাব) বরাবর ছয় দফা সংশোধনের আবেদন জানিয়েছে। আবেদনে সার্ভারে প্রবেশের সমস্যা, তথ্য নির্বাচনসংক্রান্ত ত্রুটি এবং অপ্রয়োজনীয় তথ্য পূরণের জটিলতা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. প্রথম যোগদানের পদবি ও দপ্তরের নাম তালিকায় না পাওয়া গেলে সরাসরি টাইপ করে লেখার সুযোগ রাখা।
২. বদলির তারিখ ও বদলির দপ্তরের তথ্য চাওয়ার প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করা।
৩. আগে iBAS++-এ সংরক্ষিত স্ত্রী ও সন্তানের তথ্য এনআইডি নম্বরের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আনার ব্যবস্থা করা।
৪. পে ফিক্সেশনে প্রয়োজন নেই—এমন অতিরিক্ত তথ্য ও অপশন কমানো।
৫. সাবস্ট্যানটিভ গ্রেড এবং বর্তমান গ্রেডের পার্থক্যের কারণে বাড়িভাড়া ভাতার তথ্য প্রদর্শনে যে সমস্যা হচ্ছে, তা সমাধানের ব্যবস্থা করা।
৬. পে ফিক্সেশন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কার্যকর করতে সিস্টেমে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা।
এগুলো কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রস্তাব; সবগুলো ইতোমধ্যে অনুমোদিত বা কার্যকর হয়েছে—এমন নিশ্চিত তথ্য প্রতিবেদনে নেই।
উচ্চতর গ্রেড, টাইম স্কেল ও পদোন্নতির হিসাবেও সতর্কতা জরুরি
পে ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো চাকরির পূর্ববর্তী ইতিহাস। কোনো কর্মচারী আগে টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড, উচ্চতর গ্রেড বা পদোন্নতির মাধ্যমে বেতন নির্ধারণের সুবিধা পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ ও পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণপত্রের সঙ্গে নতুন হিসাব মিলিয়ে দেখতে হবে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, একই পদে আগের কাঠামোয় একাধিক সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়া কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নতুন কাঠামোয় আবার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ সীমিত হতে পারে। তবে ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও প্রযোজ্য বিধান যাচাই ছাড়া সবার ক্ষেত্রে একই সিদ্ধান্ত দেওয়া যাবে না।
কোনো কর্মচারীর নতুন মূল বেতন প্রত্যাশার তুলনায় কম দেখালে প্রথমেই ধরে নেওয়া উচিত নয় যে সিস্টেমে ভুল হয়েছে। আগে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতির কার্যকর তারিখ, আগের উচ্চতর গ্রেড এবং চাকরির রেকর্ড যাচাই করতে হবে। এরপর প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের মাধ্যমে সংশোধন করতে হবে।
পে ফিক্সেশনে সমস্যা হলে কী করবেন?
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ—
- ব্যক্তিগত তথ্য ভুল হলে: এনআইডি, জন্মতারিখ, নাম ও চাকরির নথি মিলিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সংশোধন করুন।
- মূল বেতন ভুল দেখালে: ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন এবং আগের বেতন নির্ধারণপত্র যাচাই করুন।
- পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেডের হিসাব না মিললে: সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশ ও সার্ভিস বুক প্রস্তুত রেখে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সহায়তা নিন।
- মডিউল চালু না থাকলে: বারবার তথ্য জমা না দিয়ে অফিসের প্রশাসন শাখা ও হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
- বকেয়া কম দেখালে: নতুন মূল বেতন, কার্যকর তারিখ এবং প্রযোজ্য ধাপ অনুযায়ী হিসাব যাচাই করুন।
- আবেদন জমা হলে: কনফার্মেশন বার্তা বা অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণ করুন এবং অনুমোদনের অবস্থা যাচাই করুন।
পে ফিক্সেশনের জন্য কেবল সরকারি iBAS++ পোর্টাল ব্যবহার করুন: https://ibas.finance.gov.bd/ । অপরিচিত ওয়েবসাইট বা ব্যক্তির কাছে এনআইডি, পাসওয়ার্ড, ওটিপি কিংবা বেতনসংক্রান্ত গোপন তথ্য দেবেন না।
শেষ কথা
নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী পে ফিক্সেশন কার্যক্রমে অনলাইন ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি তথ্যের নির্ভুলতা, চাকরির পূর্ববর্তী ইতিহাস যাচাই এবং হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০ অক্টোবরের মধ্যে কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও কোনো অফিসে মডিউল চালু না থাকা, তথ্যের অসংগতি কিংবা উচ্চতর গ্রেডের হিসাবসংক্রান্ত জটিলতার কারণে ব্যক্তিগত প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে।
কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হলো—প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখা, সরকারি পোর্টালের নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং কোনো অসংগতি দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা সংশোধন করা। এতে ভুল বেতন নির্ধারণ ও বকেয়া হিসাবের জটিলতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।


