সরকারি কর্মচারীদের পদমর্যাদা নির্ধারণে নতুন স্পষ্টীকরণ: শ্রেণির পরিবর্তে এখন ‘গ্রেড’ই মুখ্য
সরকারি চাকরিতে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণিভিত্তিক বিভাজন পুরোপুরি বিলুপ্ত করার বিষয়টি পুনরায় স্পষ্ট করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এখন থেকে সরকারি কর্মচারীরা তাদের বেতন স্কেলের ২০টি গ্রেড অনুযায়ী পরিচিত হবেন। পদমর্যাদা, আর্থিক সুবিধা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই নতুন কাঠামোই একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হবে।
মন্ত্রণালয়ের মূল নির্দেশনা
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-১ শাখার প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫’ এর অনুচ্ছেদ ৮ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের পূর্বতন শ্রেণিভিত্তিক বিভাজনের পরিবর্তে বেতন স্কেলের গ্রেডভিত্তিক পরিচিতি কার্যকর করা হয়েছে। এই নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এ ২০টি গ্রেড উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন পদমর্যাদা ও গ্রেড বিন্যাস
আদেশে উল্লিখিত ২০টি গ্রেডের সাথে পূর্বতন শ্রেণিগুলোর সমমর্যাদা নিম্নরূপভাবে স্পষ্ট করা হয়েছে:
গ্রেড ১ থেকে ৯: পূর্বতন ১ম শ্রেণি (গ্যাজেটেড)।
গ্রেড ১০ থেকে ১৩: পূর্বতন ২য় শ্রেণি (যে সমস্ত পদ ২য় শ্রেণির গ্যাজেটেড পদমর্যাদা সম্পন্ন বলে সরকারি আদেশে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখপূর্বক সৃষ্টি করা হয়েছে)।
গ্রেড ১৩ থেকে ১৬: পূর্বতন ৩য় শ্রেণি (যে সমস্ত পদ গ্যাজেটেড পদমর্যাদা সম্পন্ন বলে সরকারি আদেশে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি)।
গ্রেড ১৭ থেকে ২০: পূর্বতন ৪র্থ শ্রেণি।
আর্থিক ও প্রশাসনিক প্রভাব
আদেশে বিশেষভাবে বলা হয়েছে যে, বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেড নিয়ে অস্পষ্টতা দূর করতে গ্যাজেটেড ও নন-গ্যাজেটেড পদের পার্থক্য স্পষ্ট করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি-বিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনয়নের লক্ষ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেছে।
প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপটি সরকারি চাকরিতে আধুনিকায়ন এবং বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক। এখন থেকে সকল নিয়োগ, পদোন্নতি এবং সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে গ্রেড ভিত্তিক পরিচিতি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশেষ করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এখন থেকে শ্রেণির পরিবর্তে গ্রেড উল্লেখ করতে হবে।
উৎস: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও জাতীয় বেতন স্কেল সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা।



