আইবাস++ । পে ফিক্সেশন । ই-ফাইলিং

পে-ফিকেশনের সর্বশেষ SMS পেলেই বুঝবেন অনুমোদন সম্পন্ন, রিপোর্টে মিলবে ভেরিফিকেশন নম্বর ও QR কোড

সরকারি কর্মচারীদের অনলাইনে পে-ফিকেশন কার্যক্রমে আবেদন দাখিল থেকে শুরু করে হিসাবরক্ষণ অফিসের চূড়ান্ত অনুমোদন পর্যন্ত কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হয়। প্রতিটি ধাপে মোবাইল ফোনে আসা SMS কর্মচারীকে তাঁর আবেদনের অগ্রগতি সম্পর্কে ধারণা দেয়। বিশেষ করে হিসাবরক্ষণ অফিস কর্তৃক পে-ফিকেশন অনুমোদনের বার্তাটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই বার্তাটি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মচারী অনলাইনে তাঁর অনুমোদিত বেতন নির্ধারণী বিবরণী যাচাই করতে পারেন।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি SMS-এর স্ক্রিনশটে দেখা যাচ্ছে, গ্রামীণফোন নম্বরে পাঠানো বার্তায় লেখা রয়েছে— “আপনার বেতন নির্ধারণী বিবরণী হিসাবরক্ষণ অফিস কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে।” এই বার্তাটি পে-ফিকেশন প্রক্রিয়ার অনুমোদন-সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

তবে শুধু SMS-এর ওপর নির্ভর না করে অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করে অনুমোদিত বিবরণী, ভেরিফিকেশন নম্বর ও QR কোড যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ।

পে-ফিকেশন সম্পন্ন হওয়ার আগে যে তিনটি ধাপ পার হতে হয়

অনলাইনে পে-ফিকেশন আবেদনের অগ্রগতি বুঝতে কর্মচারীদের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। আবেদন দাখিল, ডিডিওর মাধ্যমে ফরওয়ার্ড এবং হিসাবরক্ষণ অফিসের অনুমোদন—এই পর্যায়গুলোর অগ্রগতি অনুযায়ী আবেদনটির অবস্থা যাচাই করা যায়।

প্রথম ধাপ: অনলাইনে পে-ফিকেশন দাখিল

কর্মচারী নিজস্ব আইডিতে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে পে-ফিকেশন বিবরণী অনলাইনে দাখিল করবেন। দাখিল সফল হলে এ-সংক্রান্ত একটি বার্তা পেতে পারেন। তবে আবেদন দাখিল করলেই তা চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়েছে—এমনটি ধরে নেওয়া যাবে না।

দ্বিতীয় ধাপ: ডিডিওর মাধ্যমে ফরওয়ার্ড

আবেদনটি সংশ্লিষ্ট ডিডিও (Drawing and Disbursing Officer)-এর মাধ্যমে হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানো হয়। এ পর্যায়ে ফরওয়ার্ড-সংক্রান্ত বার্তা পাওয়া যেতে পারে। তবে ডিডিও আবেদন ফরওয়ার্ড করলেই হিসাবরক্ষণ অফিসের অনুমোদন সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য করা যাবে না।

তৃতীয় ধাপ: হিসাবরক্ষণ অফিসের অনুমোদন

হিসাবরক্ষণ অফিস অনলাইনে পে-ফিকেশন বিবরণী অনুমোদন করলে কর্মচারীর মোবাইলে অনুমোদন-সংক্রান্ত SMS আসতে পারে। প্রতিবেদনের সঙ্গে দেওয়া স্ক্রিনশটে ঠিক এই বার্তাটিই দেখা যাচ্ছে। এটি সংশ্লিষ্ট বিবরণী অনুমোদিত হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।

তৃতীয় ও সর্বশেষ SMS-এ কী লেখা থাকে?

অনুমোদন-সংক্রান্ত SMS

“আপনার বেতন নির্ধারণী বিবরণী হিসাবরক্ষণ অফিস কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে।”

স্ক্রিনশটে দৃশ্যমান বার্তার হুবহু পাঠ।

এই SMS পাওয়ার অর্থ হলো, বার্তাটিতে উল্লেখিত বেতন নির্ধারণী বিবরণী হিসাবরক্ষণ অফিস কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। ফলে কর্মচারী তাঁর অনলাইন পে-ফিকেশন আইডিতে প্রবেশ করে অনুমোদিত বিবরণীর কপি যাচাই করতে পারেন।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি: অনুমোদনের SMS পাওয়া এবং নতুন বেতন কার্যকর হওয়া বা বকেয়া অর্থ হাতে পাওয়া একই বিষয় নয়। বেতন পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পরবর্তী কার্যক্রমও প্রয়োজন হতে পারে।

অনুমোদনের পর অনলাইনে যেভাবে পে-ফিকেশন কপি দেখবেন

অনুমোদনের বার্তা পাওয়ার পর কর্মচারীদের উচিত অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করে তাঁদের বেতন নির্ধারণী বিবরণী যাচাই করা। সাধারণভাবে অনুসরণীয় ধাপগুলো হলো:

  1. পে-ফিকেশন পোর্টালে প্রবেশ করে নিজের আইডিতে লগইন করুন।
  2. পোর্টালের Report মেন্যুতে প্রবেশ করুন।

  3. পে-ফিকেশন বা বেতন নির্ধারণী বিবরণীর সংশ্লিষ্ট রিপোর্ট নির্বাচন করুন।
  4. অনুমোদিত বিবরণীর কপি তৈরি বা ডাউনলোড করে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করুন।
  5. বিবরণীতে ভেরিফিকেশন নম্বর, QR কোড এবং অনুমোদনকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার নাম রয়েছে কি না দেখুন।

পোর্টালের সংস্করণ ও ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের অবস্থা অনুযায়ী মেন্যুর নাম বা ধাপের কিছু পার্থক্য থাকতে পারে।

ভেরিফিকেশন নম্বর ও QR কোড কেন গুরুত্বপূর্ণ?

অনুমোদিত পে-ফিকেশন বিবরণীতে ভেরিফিকেশন নম্বর এবং QR কোড দেখা গেলে সেটি নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি অনুমোদনকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার নাম থাকলে নথিতে প্রদর্শিত অনুমোদন-সংক্রান্ত তথ্য শনাক্ত করা সহজ হয়।

তবে শুধু QR কোড বা নম্বর দৃশ্যমান হলেই সব তথ্য সঠিক—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। কর্মচারীর নাম, পদবি, গ্রেড, মূল বেতন, প্রযোজ্য ইনক্রিমেন্ট এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যও মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। কোনো অসংগতি থাকলে সংশ্লিষ্ট ডিডিও বা হিসাবরক্ষণ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

পে-ফিকেশনের সর্বশেষ SMS না এলে কী করবেন?

যেসব কর্মচারী অনলাইনে পে-ফিকেশন দাখিল করেছেন, কিন্তু হিসাবরক্ষণ অফিসের অনুমোদন-সংক্রান্ত SMS পাননি, তাঁদের প্রথমেই আবেদনের বর্তমান অবস্থা যাচাই করা উচিত।

  • আবেদন দাখিল হয়েছে, কিন্তু ফরওয়ার্ড হয়নি: সংশ্লিষ্ট ডিডিওর সঙ্গে যোগাযোগ করে আবেদনের অবস্থা জানুন।

  • ডিডিও ফরওয়ার্ড করেছেন, কিন্তু অনুমোদনের SMS আসেনি: সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসে আবেদনটি কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা জানতে চান।

  • অনুমোদন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে, কিন্তু SMS আসেনি: অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করে রিপোর্ট যাচাই করুন এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট অফিসের সহায়তা নিন।

  • রিপোর্টে ভুল তথ্য দেখা যাচ্ছে: বিবরণীর কপি সংরক্ষণ করে ভুলটি চিহ্নিত করুন এবং সংশোধনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

SMS না আসার অর্থ সব ক্ষেত্রেই আবেদন বাতিল বা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে—এমন নয়। আবার SMS না পেয়েও অনুমোদন হয়ে গেছে, এমনটিও যাচাই ছাড়া ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

অনলাইন পে-ফিকেশন কার্যক্রমে প্রতিটি ধাপের অবস্থা আলাদাভাবে বুঝতে হবে। আবেদন দাখিল, ডিডিওর ফরওয়ার্ড এবং হিসাবরক্ষণ অফিসের অনুমোদন—এই তিনটি পর্যায় এক নয়। তাই নিজের মোবাইলে আসা বার্তার পাশাপাশি অনলাইন পোর্টালে প্রদর্শিত তথ্য যাচাই করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে অনুমোদন-সংক্রান্ত SMS পাওয়ার পর পে-ফিকেশন রিপোর্টের একটি কপি সংরক্ষণ করে রাখা ভালো। ভবিষ্যতে বেতন নির্ধারণ, তথ্য যাচাই বা সংশোধনের প্রয়োজন হলে নথিটি কাজে লাগতে পারে।

আপনি কি পে-ফিকেশনের তৃতীয় ও সর্বশেষ SMS পেয়েছেন? যদি পেয়ে থাকেন, তাহলে অনলাইন রিপোর্টে ভেরিফিকেশন নম্বর ও QR কোড দেখা যাচ্ছে কি না যাচাই করুন। আর যদি এখনো না পেয়ে থাকেন, তাহলে আপনার আবেদনটি ডিডিওর কাছে রয়েছে, নাকি হিসাবরক্ষণ অফিসে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে—সেটি আগে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করুন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *