পেনশন । লাম্পগ্র্যান্ট I পিআরএলসরকারি বিভিন্ন ধরণের ভাতা ২০২৬

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ ডাটাবেইজ: সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ও পেনশনের হিসাব যেভাবে নির্ধারিত হবে

বেতন স্কেল ২০২৬ ডাটাবেইজ

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন মূল বেতন, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, উচ্চতর গ্রেড, বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা এবং অবসরভোগীদের পেনশন নিয়ে তৈরি হয়েছে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর বিস্তারিত তথ্যভান্ডার। এতে গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো থেকে শুরু করে বেতন নির্ধারণের নিয়ম, বর্ধিত বেতন প্রদানের সময়সূচি, বিভিন্ন ভাতার হার এবং পেনশন পুনর্নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

তথ্যভান্ডারে সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ প্রকাশের কথা উল্লেখ রয়েছে। আদেশটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর বলে গণ্য করার বিধানও সেখানে তুলে ধরা হয়েছে।

তবে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং সম্পূর্ণ বর্ধিত বেতন পাওয়ার সময় এক নয়। তথ্যভান্ডারে বেতন বৃদ্ধির সুবিধা তিন ধাপে কার্যকর করার যে সময়সূচি দেওয়া হয়েছে, সে অনুযায়ী কর্মচারীদের প্রাপ্য বেতন নির্ধারণ করতে হবে।

২০টি গ্রেডে নতুন বেতন কাঠামো

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর তথ্যভান্ডারে প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বেতনের বিভিন্ন ধাপ সংকলন করা হয়েছে। গ্রেড অনুযায়ী মূল বেতনের প্রারম্ভিক অঙ্ক, পরবর্তী ধাপ এবং সর্বোচ্চ বেতনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

তথ্যভান্ডারে উল্লেখিত কয়েকটি গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতনের চিত্র হলো—

গ্রেডপ্রারম্ভিক মূল বেতন
১ম গ্রেড১,৫৬,০০০ টাকা
২য় গ্রেড১,৩২,০০০ টাকা
৩য় গ্রেড১,১৩,০০০ টাকা
৪র্থ গ্রেড১,০০,০০০ টাকা
৫ম গ্রেড৮৬,০০০ টাকা
৬ষ্ঠ গ্রেড৭১,০০০ টাকা
৭ম গ্রেড৫৮,০০০ টাকা
৮ম গ্রেড৪৬,০০০ টাকা
৯ম গ্রেড৪৪,০০০ টাকা
১০ম গ্রেড৩২,০০০ টাকা
১১তম গ্রেড২৫,০০০ টাকা
১২তম গ্রেড২৪,৩০০ টাকা
১৩তম গ্রেড২৪,০০০ টাকা
১৪তম গ্রেড২৩,৫০০ টাকা
১৫তম গ্রেড২২,৮০০ টাকা
১৬তম গ্রেড২১,৯০০ টাকা
১৭তম গ্রেড২১,৪০০ টাকা
১৮তম গ্রেড২১,০০০ টাকা
১৯তম গ্রেড২০,৫০০ টাকা
২০তম গ্রেড২০,০০০ টাকা

তথ্যভান্ডারে আরও উল্লেখ রয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদের নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদের নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

এগুলো সংকলিত তথ্যভান্ডারে উল্লেখিত অঙ্ক। সরকারি বেতন নির্ধারণের আগে মূল গেজেটের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ ও গ্রেডভিত্তিক বেতন ধাপ যাচাই করা প্রয়োজন।

তিন ধাপে বাড়বে মূল বেতন

নতুন বেতন কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্য একবারে সম্পূর্ণ যুক্ত না করে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ধাপে ধাপে কার্যকর করা।

তথ্যভান্ডারে সংকলিত বিধান অনুযায়ী, ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মচারীদের জন্য প্রথম ধাপে বেতন পার্থক্যের ৪০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ধাপে ৭০ শতাংশ প্রযোজ্য হবে। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ধাপে ৭৫ শতাংশ প্রযোজ্য হবে।

সময়কাল৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব১০ম–২০তম গ্রেড
১ জুলাই–৩১ ডিসেম্বর ২০২৬পার্থক্যের ৪০%পার্থক্যের ৫০%
১ জানুয়ারি–৩০ জুন ২০২৭পার্থক্যের ৭০%পার্থক্যের ৭৫%
১ জুলাই ২০২৭ থেকেপূর্ণ নতুন মূল বেতনপূর্ণ নতুন মূল বেতন

এখানে শতাংশের হিসাব নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ওপর প্রযোজ্য। অর্থাৎ, কোনো কর্মচারীর নতুন স্কেলে নির্ধারিত মূল বেতন থেকে পুরোনো মূল বেতন বাদ দিয়ে যে পার্থক্য পাওয়া যাবে, তার নির্ধারিত অংশ সংশ্লিষ্ট সময়ে বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে।

উদাহরণ দিয়ে বুঝুন

ধরা যাক, একজন কর্মচারীর পুরোনো মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং নতুন স্কেলে নির্ধারিত মূল বেতন ৩০ হাজার টাকা।

দুই বেতনের পার্থক্য ১০ হাজার টাকা।

১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে পার্থক্যের ৫০ শতাংশ প্রযোজ্য হলে বর্ধিত অংশ হবে ৫ হাজার টাকা। দ্বিতীয় ধাপে পার্থক্যের ৭৫ শতাংশ হিসাব করলে বর্ধিত অংশ দাঁড়াবে ৭ হাজার ৫০০ টাকা। তৃতীয় ধাপে পূর্ণ নতুন মূল বেতন কার্যকর হলে মূল বেতন হবে ৩০ হাজার টাকা।

এটি কেবল হিসাব বোঝানোর উদাহরণ। প্রকৃত বেতন নির্ধারণের সময় সংশ্লিষ্ট গ্রেড, ইনক্রিমেন্ট, প্রযোজ্য বিধান এবং বেতন নির্ধারণী বিবরণী বিবেচনা করতে হবে।

১ জুলাই থেকে বকেয়া বেতন কীভাবে হিসাব হবে

তথ্যভান্ডারে সংকলিত আদেশে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের বেতন বকেয়া হিসেবে প্রাপ্য হওয়ার বিধান উল্লেখ রয়েছে।

তবে বকেয়া হিসাবের ক্ষেত্রে শুধু নতুন স্কেলের সম্পূর্ণ মূল বেতন ধরে হিসাব করলে চলবে না। সংশ্লিষ্ট সময়ে কার্যকর বর্ধিত বেতনের হার, পুরোনো মূল বেতন, নতুন স্কেলে নির্ধারিত বেতন এবং ইতোমধ্যে পরিশোধিত অর্থ বিবেচনা করতে হবে।

বকেয়া হিসাবের ক্ষেত্রে সাধারণত যেসব তথ্য প্রয়োজন হবে—

  • ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত বা প্রাপ্য মূল বেতন।
  • নতুন স্কেলে নির্ধারিত মূল বেতন।
  • সংশ্লিষ্ট গ্রেডের জন্য প্রযোজ্য বর্ধিত বেতনের হার।
  • ইতোমধ্যে পরিশোধিত বেতন ও ভাতার হিসাব।
  • বিশেষ সুবিধা ও অন্যান্য প্রযোজ্য সমন্বয়।
  • প্রযোজ্য কর্তন এবং হিসাবরক্ষণ অফিসের যাচাই।

তথ্যভান্ডারে আরও বলা হয়েছে, নতুন আদেশ কার্যকর হওয়ার আগের সময়ে আহরিত বিশেষ সুবিধা নির্ধারিত নিয়মে বকেয়ার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। তাই বকেয়া পাওনার সঠিক অঙ্ক জানতে ব্যক্তিগত বেতন বিবরণী ও সংশ্লিষ্ট বিধান যাচাই করা জরুরি।

পুরোনো মূল বেতন থেকে নতুন বেতন নির্ধারণের নিয়ম

নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে কর্মচারী পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে আছেন, নাকি তার চেয়ে বেশি বেতন পাচ্ছেন, তা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রারম্ভিক ধাপে বেতন পাওয়া কর্মচারী

কোনো কর্মচারী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে থাকলে তাঁর নতুন বেতন সংশ্লিষ্ট গ্রেডের নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ অনুযায়ী নির্ধারণের বিধান রয়েছে।

তথ্যভান্ডারে দেওয়া উদাহরণ অনুযায়ী, পুরোনো ১৬তম গ্রেডে ৯ হাজার ৩০০ টাকা মূল বেতন পাওয়া কর্মচারীর নতুন মূল বেতন ২১ হাজার ৯০০ টাকা নির্ধারণের উদাহরণ রয়েছে।

প্রারম্ভিক ধাপের চেয়ে বেশি বেতন পাওয়া কর্মচারী

যাঁরা পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের চেয়ে বেশি মূল বেতন পাচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রথমে পুরোনো মূল বেতন থেকে পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন বাদ দিয়ে পার্থক্য বের করতে হবে।

এরপর নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক মূল বেতনের সঙ্গে সেই পার্থক্য যোগ করতে হবে। যোগফল নতুন স্কেলের কোনো নির্ধারিত ধাপের সঙ্গে না মিললে পরবর্তী উচ্চতর ধাপ প্রযোজ্য হবে।

উদাহরণ হিসেবে, পুরোনো মূল বেতন ১৩ হাজার ৭৯০ টাকা এবং পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা হলে পার্থক্য দাঁড়ায় ১ হাজার ২৯০ টাকা।

নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন ২৫ হাজার টাকা হলে—

২৫,০০০ + ১,২৯০ = ২৬,২৯০ টাকা।

নতুন স্কেলে এই অঙ্কের নির্ধারিত ধাপ না থাকায় তথ্যভান্ডারের উদাহরণে পরবর্তী উচ্চতর ধাপ ২৬ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে পদোন্নতি, প্রেষণ, ছুটি, সাময়িক বরখাস্ত এবং অবসর-উত্তর ছুটির ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান প্রযোজ্য হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ অনুসরণ করতে হবে।

বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিধান

তথ্যভান্ডারে সংকলিত আদেশ অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির নির্ধারিত তারিখ ১ জুলাই।

নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের সময় ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে একটি বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি প্রদানের বিধান উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি ১ জুলাই ২০২৭ থেকে পূর্ণ নতুন মূল বেতন বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ প্রদানের কথা বলা হয়েছে।

নতুন যোগদানকারী কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ইনক্রিমেন্টের যোগ্যতা নির্ধারণে ন্যূনতম ছয় মাসের কোয়ালিফাইং চাকরির মেয়াদ বিবেচ্য হবে বলে তথ্যভান্ডারে উল্লেখ রয়েছে।

তবে প্রথম নিয়োগ, অগ্রিম ইনক্রিমেন্ট এবং সরাসরি নবম গ্রেডে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান রয়েছে। বিসিএস ক্যাডারে সরাসরি নবম গ্রেডে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং নবম গ্রেডে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন নির্ধারণের নিয়মও এক নয়।

একই পদে আট বছর চাকরির পর উচ্চতর গ্রেড

দীর্ঘদিন একই পদে কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের জন্য উচ্চতর গ্রেডের বিধান গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যভান্ডারে সংকলিত আদেশ অনুযায়ী, পদোন্নতি ছাড়া একই পদে আট বছর পূর্ণ হলে, চাকরি সন্তোষজনক থাকা সাপেক্ষে নবম বছরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাওয়ার বিধান উল্লেখ রয়েছে।

প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর আরও ছয় বছর পদোন্নতি ছাড়া কর্মরত থাকলে এবং চাকরি সন্তোষজনক হলে সপ্তম বছরে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধানও তুলে ধরা হয়েছে।

তবে উচ্চতর গ্রেড এবং পদোন্নতি এক বিষয় নয়। উচ্চতর গ্রেডের মাধ্যমে বেতন কাঠামোর সুবিধা পাওয়া গেলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চতর পদে নিয়োগ বা পদোন্নতি নিশ্চিত করে না।

এ ক্ষেত্রে কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ, পদোন্নতির ইতিহাস, আগে পাওয়া সিলেকশন গ্রেড বা টাইম স্কেল এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধার তথ্য যাচাই করতে হবে।

তথ্যভান্ডারে ১ জুলাই ২০২৬-এর আগে আট বছর পূর্ণ হয়েছে, কিন্তু দশ বছর পূর্ণ হয়নি—এমন স্থায়ী কর্মচারীদের জন্য নির্দিষ্ট শর্তে ওই তারিখ থেকে উচ্চতর গ্রেডের সুবিধার বিধানও উল্লেখ করা হয়েছে।

বাড়িভাড়া ভাতা: নতুন হার কার্যকর হবে কখন

সরকারি কর্মচারীদের জন্য বাড়িভাড়া ভাতার হার গ্রেড ও কর্মস্থলের অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল। তথ্যভান্ডারে সংকলিত বিধান অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আহরিত বা প্রাপ্য অঙ্কে বাড়িভাড়া ভাতা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত প্রদানের কথা বলা হয়েছে। নতুন আদেশে নির্ধারিত শতাংশ অনুযায়ী বাড়িভাড়া ভাতা প্রদানের সময় শুরু হবে ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে।

তথ্যভান্ডারে উল্লেখিত গ্রেডভিত্তিক হার হলো—

গ্রেডঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশননির্ধারিত অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও উল্লেখিত এলাকাঅন্যান্য স্থান
১৬–২০৬০%৫০%৪৫%
১০–১৫৫০%৪০%৩৫%
৫–৯৪৫%৩৫%৩০%
১–৪৪০%৩০%২৫%

শতকরা হারের হিসাব মূল বেতনের ভিত্তিতে করা হবে। তবে কোন কোন শহর বা এলাকা দ্বিতীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হবে, তা মূল আদেশের তালিকা দেখে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

সরকারি বাসস্থানে বসবাসকারী বা ভাড়াবিহীন বাসস্থানের অধিকারী কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বাড়িভাড়া ভাতা পাওয়ার ওপর বিধিনিষেধ থাকতে পারে। স্বামী-স্ত্রী উভয়েই সরকারি চাকরিতে কর্মরত এবং সরকারি বাসস্থানে বসবাস করলে বাসা বরাদ্দের তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসা ভাতা: কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের হার

তথ্যভান্ডারে চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক পৃথক হার উল্লেখ করা হয়েছে।

কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের জন্য

  • ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত মাসিক চিকিৎসা ভাতা ৩ হাজার টাকা।
  • ৫০ বছর এক দিন থেকে পিআরএল শেষ হওয়া পর্যন্ত মাসিক চিকিৎসা ভাতা ৪ হাজার টাকা।

অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্য

বয়সমাসিক চিকিৎসা ভাতা
৫০ বছর পর্যন্ত৩,০০০ টাকা
৫০ বছর এক দিন থেকে ৬০ বছর৪,০০০ টাকা
৬০ বছর এক দিন থেকে ৭০ বছর৫,০০০ টাকা
৭০ বছরের বেশি৬,০০০ টাকা

একাধিক পারিবারিক পেনশনভোগী থাকলে মূল পেনশনভোগীর প্রাপ্য চিকিৎসা ভাতা আনুপাতিক হারে বণ্টনের বিধানও তথ্যভান্ডারে উল্লেখ রয়েছে।

তাই চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কর্মচারীর বয়স, অবসরের অবস্থা এবং পারিবারিক পেনশনের ধরন বিবেচনা করতে হবে।

টিফিন, যাতায়াত ও শিক্ষা সহায়ক ভাতা

মূল বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণির কর্মচারীর জন্য আলাদা ভাতার বিধান রয়েছে। তথ্যভান্ডারে সংকলিত হার অনুযায়ী—

ভাতার নামপ্রযোজ্য শ্রেণিমাসিক হার
টিফিন ভাতা১১তম–২০তম গ্রেড৫০০ টাকা
যাতায়াত ভাতা১১তম–২০তম গ্রেড; সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মস্থল হলে৬০০ টাকা
মোবাইল ভাতা৫ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব৫০০ টাকা
মোবাইল ভাতা৬ষ্ঠ–২০তম গ্রেড১৫০ টাকা
ধোলাই ভাতাযাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য৩০০ টাকা
কার্যভার ভাতাচলতি বা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারী১,৫০০ টাকা

টিফিন ভাতার ক্ষেত্রে লাঞ্চ ভাতা বা বিনামূল্যে দুপুরের খাবার পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

শিক্ষা সহায়ক ভাতার ক্ষেত্রে সন্তানপ্রতি মাসিক ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য মাসিক ১ হাজার টাকা প্রদানের বিধান তথ্যভান্ডারে উল্লেখ রয়েছে। নির্ধারিত শর্তে ২৩ বছর বয়স পর্যন্ত সন্তানের জন্য এ ভাতা প্রাপ্য হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

স্বামী-স্ত্রী উভয়ে সরকারি কর্মচারী হলে সন্তান গণনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য জনপ্রতি মাসিক ৩ হাজার টাকা হারে, অনধিক দুই সন্তানের জন্য ভাতার বিধানও তথ্যভান্ডারে তুলে ধরা হয়েছে।

এ ছাড়া পাহাড়ি এলাকা, হাওর, দ্বীপ ও চর এলাকায় কর্মরত কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত শর্তে বিশেষ ভাতা এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণকাজে প্রেষণে থাকা নবম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মচারীদের জন্য মূল বেতনের ১০ শতাংশ প্রেষণ ভাতার বিধান উল্লেখ রয়েছে।

উৎসব ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা

তথ্যভান্ডারে সংকলিত আদেশ অনুযায়ী, উৎসব ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে।

৩০ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত প্রাপ্য অঙ্কে অন্যান্য ভাতা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত প্রদানের বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে নতুন আদেশে নির্ধারিত হারে ভাতা প্রদানের কথা বলা হয়েছে।

বাংলা নববর্ষ ভাতার হার আহরিত মূল বেতনের ১৫ শতাংশ বলে তথ্যভান্ডারে উল্লেখ রয়েছে। উৎসব ভাতা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্য বছরে দুটি উৎসব ভাতার বিধানও তুলে ধরা হয়েছে। তবে পেনশন সমর্পণ, নিট পেনশনের পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শর্তের কারণে ব্যক্তিভেদে হিসাবের পার্থক্য হতে পারে।

পেনশন বাড়বে কত: পাঁচটি স্ল্যাবে হিসাব

নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে অবসরভোগীদের নিট পেনশন বৃদ্ধির বিষয়টিও তথ্যভান্ডারে গুরুত্ব পেয়েছে। সেখানে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত নিট পেনশনের পরিমাণ অনুযায়ী পাঁচটি স্ল্যাবে বৃদ্ধির হার উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমান নিট পেনশনউল্লেখিত বৃদ্ধির হারনতুন নিট পেনশনের নির্ধারিত সীমা
সর্বনিম্ন থেকে ৯,০০০ টাকা১০০%১০,০০০–১৮,০০০ টাকা
৯,০০১–২০,০০০ টাকা৭৫%১৮,০০১–৩৫,০০০ টাকা
২০,০০১–৩০,০০০ টাকা৬৫%৩৫,০০১–৪৯,০০০ টাকা
৩০,০০১–৪০,০০০ টাকা৬০%৪৯,০০১–৬২,০০০ টাকা
৪০,০০১ টাকা ও তদূর্ধ্ব৫৫%৬২,০০১–৭০,২০০ টাকা

এখানে নিট পেনশনের স্ল্যাব অনুযায়ী বৃদ্ধির হার এবং নির্ধারিত সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সীমা একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। শুধু বৃদ্ধির শতাংশ দিয়ে পেনশনের চূড়ান্ত অঙ্ক নির্ধারণ করা যাবে না।

তথ্যভান্ডারে আরও উল্লেখ রয়েছে, ৭০ হাজার ২০০ টাকার অতিরিক্ত নিট পেনশন ইতোমধ্যে উত্তোলনকারী অবসরভোগী পরবর্তী বার্ষিক বৃদ্ধি কার্যকর হওয়ার আগে বিদ্যমান নিট পেনশনই পাবেন।

পেনশনও ধাপে ধাপে কার্যকর হবে

তথ্যভান্ডারে সংকলিত বিধান অনুযায়ী, অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের নিট পেনশন বৃদ্ধির সুবিধাও ধাপে ধাপে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।

সময়কালনিট পেনশন ২০,০০১ টাকা ও তদূর্ধ্বনিট পেনশন ১–২০,০০০ টাকা
১ জুলাই–৩১ ডিসেম্বর ২০২৬পার্থক্যের ৪০%পার্থক্যের ৫০%
১ জানুয়ারি–৩০ জুন ২০২৭পার্থক্যের ৭০%পার্থক্যের ৭৫%
১ জুলাই ২০২৭ থেকেপূর্ণ নতুন নিট পেনশনপূর্ণ নতুন নিট পেনশন

এখানে নতুন স্কেলে নির্ধারিত নিট পেনশন এবং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত নিট পেনশনের পার্থক্যের ওপর সংশ্লিষ্ট শতাংশ প্রযোজ্য হবে।

অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্য ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের নিট পেনশন বকেয়া হিসেবে প্রাপ্য হওয়ার বিধানও তথ্যভান্ডারে উল্লেখ রয়েছে।

তবে অবসরের তারিখ, অবসর-উত্তর ছুটি, পেনশন সমর্পণের পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট বিধানের কারণে পেনশনের হিসাব ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

iBAS++-এ বেতন নির্ধারণ: যেসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ

নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে তথ্যভান্ডারে iBAS++ ব্যবস্থায় অনলাইনে তথ্য পূরণ, যাচাই এবং অনুমোদনের প্রক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছে।

সাধারণভাবে কর্মচারীর পরিচয়, পদ, গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন এবং চাকরির রেকর্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে। এরপর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বেতন নির্ধারণী বিবরণী জমা দিয়ে ডিডিও এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্তৃপক্ষের যাচাই সম্পন্ন করতে হবে।

বেতন নির্ধারণের সময় কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—

১. জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সঠিক থাকা।

২. চাকরিতে যোগদানের তারিখ ও পদবির রেকর্ডের সঙ্গে বেতনসংক্রান্ত তথ্যের মিল থাকা।

৩. ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন সঠিকভাবে উল্লেখ করা।

৪. প্রযোজ্য ইনক্রিমেন্ট ও উচ্চতর গ্রেডের তথ্য যাচাই করা।

৫. চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণী বিবরণী অনুমোদিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া।

পরিচয়পত্র বা চাকরির তথ্যের সঙ্গে অমিল থাকলে বেতন নির্ধারণের আগে সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। তাই অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অফিসের নথিপত্রের সঙ্গে সব তথ্য মিলিয়ে নেওয়া উচিত।

কারা নতুন বেতন আদেশের আওতার বাইরে

তথ্যভান্ডারে সংকলিত বিধান অনুযায়ী, সব ধরনের সরকারি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন বেতন আদেশের আওতায় পড়বেন না।

উল্লেখিত ব্যতিক্রমের মধ্যে রয়েছে—

  • বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে নিযুক্ত ব্যক্তিবর্গ।
  • নির্ধারিত ব্যতিক্রম ছাড়া প্রতিরক্ষা সার্ভিসের কর্মচারী।
  • পুলিশ বাহিনী এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের কর্মচারী।
  • পণ্য উৎপাদনশীল রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট শ্রেণির শ্রমিক।
  • শিক্ষানবিশ ও প্রশিক্ষণার্থী।
  • আউটসোর্সিংয়ে নিযুক্ত ব্যক্তি।
  • দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োগের নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় নিযুক্ত শ্রমিক।
  • চুক্তিভিত্তিক অথবা খণ্ডকালীন ভিত্তিতে নিযুক্ত ব্যক্তি।

কোনো কর্মচারী নতুন আদেশের আওতায় পড়বেন কি না, তা তাঁর নিয়োগের ধরন, পদ, প্রতিষ্ঠান এবং প্রযোজ্য বিধান যাচাই করে নিশ্চিত হতে হবে।

পুরোনো বেতন আদেশ ও নতুন বিধানের সম্পর্ক

তথ্যভান্ডারে উল্লেখ করা হয়েছে, চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫ রহিত করা হয়েছে। তবে আগের আদেশের অধীনে থাকা ভাতা, সুযোগ-সুবিধা এবং সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন, আদেশ, অফিস স্মারক ও পরিপত্র নতুন আদেশের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হলে বলবৎ থাকার বিধান রয়েছে।

এ কারণে পুরোনো কোনো ভাতা বা আর্থিক সুবিধা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেখতে হবে, সেটি নতুন আদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নতুন কোনো নির্দেশনা জারি হয়েছে কি না।

সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের করণীয়

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর বিভিন্ন বিধান কার্যকর হওয়ার প্রেক্ষাপটে কর্মচারীদের নিজেদের বেতন ও চাকরির রেকর্ড যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মরত কর্মচারীদের ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন, নতুন স্কেলে নির্ধারিত ধাপ, ইনক্রিমেন্ট এবং প্রযোজ্য ভাতার হিসাব মিলিয়ে দেখতে হবে। উচ্চতর গ্রেডের ক্ষেত্রে চাকরির মেয়াদ, পদোন্নতির ইতিহাস এবং আগে পাওয়া আর্থিক সুবিধার তথ্য যাচাই করতে হবে।

অন্যদিকে, অবসরভোগীদের বর্তমান নিট পেনশন, অবসরের তারিখ, পেনশন সমর্পণের তথ্য এবং প্রযোজ্য স্ল্যাব অনুযায়ী হিসাব যাচাই করা প্রয়োজন।

অনলাইনে বেতন নির্ধারণের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র, চাকরির রেকর্ড ও বেতনের তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। কোনো অমিল বা জটিলতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ডিডিও, হিসাবরক্ষণ অফিস কিংবা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।

শেষ কথা

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর তথ্যভান্ডারে বেতন নির্ধারণ, ইনক্রিমেন্ট, উচ্চতর গ্রেড, বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, শিক্ষা সহায়ক ভাতা এবং পেনশনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিধান এক জায়গায় সংকলন করা হয়েছে। এতে সরকারি কর্মচারী ও অবসরভোগীরা নিজেদের আর্থিক সুবিধা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পেতে পারেন।

তবে সংকলিত তথ্যের ভিত্তিতে ব্যক্তিগত বেতন বা পেনশনের চূড়ান্ত অঙ্ক নির্ধারণ করা উচিত নয়। সরকারি কাজে ব্যবহারের আগে বাংলাদেশ গেজেটের মূল অনুচ্ছেদ, অর্থ বিভাগের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসের যাচাই করা তথ্য অনুসরণ করা প্রয়োজন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *