চেকে স্বাক্ষর করতে পারছেন না অসুস্থ পেনশনভোগী, কীভাবে উঠবে পেনশনের টাকা? জানুন নিয়ম
দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, বার্ধক্য কিংবা শারীরিক অক্ষমতার কারণে অনেক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী নিজের ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করতে পারেন না। কেউ বিছানায় শয্যাশায়ী, কেউ চোখে ঠিকমতো দেখতে পান না, আবার কারও হাত-পা প্রায় অচল হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকের চেকে স্বাক্ষর করতে না পারায় নিজের প্রাপ্য পেনশনের টাকা উত্তোলন নিয়ে বিপাকে পড়েন অনেক পেনশনভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।
বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে নিয়মিত অর্থের প্রয়োজন হয়। অথচ অসুস্থতার কারণে ব্যাংকে যাওয়া কিংবা চেকে স্বাক্ষর করা সম্ভব না হলে পরিবারের সদস্যদের পড়তে হয় নানা সমস্যায়।
এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী গুরুতর অসুস্থ হয়ে চেকে স্বাক্ষর করতে না পারলে তাঁর পেনশনের টাকা উত্তোলনের উপায় কী? পরিবারের সদস্যরা কি সেই টাকা তুলতে পারবেন? ডিজিটাল ব্যাংকিং, এটিএম কার্ড কিংবা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে কি সমস্যার সমাধান সম্ভব?
সরকারি পেনশনসংক্রান্ত বিধিবিধান ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গুরুতর অসুস্থ পেনশনভোগীদের জন্য প্রাসঙ্গিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা রয়েছে। তবে কোন পদ্ধতিতে টাকা তোলা যাবে, তা নির্ভর করবে পেনশন প্রদানের ব্যবস্থা, ব্যাংক হিসাবের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর।
চেকে স্বাক্ষর করতে না পারলে প্রথমে কী করবেন?
কোনো অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী অসুস্থতার কারণে চেকে স্বাক্ষর করতে না পারলে প্রথমেই তাঁর পেনশন যে ব্যাংক শাখায় জমা হয়, সেই শাখার ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে রোগীর শারীরিক অবস্থা বিস্তারিত জানিয়ে বিকল্পভাবে হিসাব পরিচালনা বা অর্থ উত্তোলনের বৈধ ব্যবস্থা সম্পর্কে লিখিতভাবে জানতে হবে।
এ ক্ষেত্রে ব্যাংক সাধারণত গ্রাহকের পরিচয়, হিসাবের মালিকানা, স্বাক্ষর যাচাইয়ের অবস্থা এবং অর্থ উত্তোলনের আবেদনকারীর আইনগত ক্ষমতা বিবেচনা করবে। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, পেনশনসংক্রান্ত নথি ও অন্যান্য কাগজপত্র চাইতে পারে।
তবে শুধু স্বামী বা স্ত্রী কিংবা সন্তান হওয়ার কারণে অন্য কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পেনশনভোগীর ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা তোলার অধিকার পান না। ব্যাংকের অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।
গুরুতর অসুস্থ পেনশনভোগীর জন্য রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নির্দেশনা
বাংলাদেশের সরকারি পেনশনসংক্রান্ত তথ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎস হলো হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের অধীন প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (পেনশন ও ফান্ড ম্যানেজমেন্ট)-এর দপ্তর।
দপ্তরটির প্রকাশিত সচরাচর জিজ্ঞাসার তথ্য অনুযায়ী, গুরুতর অসুস্থ পেনশনভোগীকে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার বা ইএফটির আওতায় আনতে সব ক্ষেত্রে তাঁর সশরীরে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়।
সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে, গুরুতর অসুস্থ পেনশনভোগীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পে-পয়েন্ট অফিস নিজস্ব নিয়ম বা ব্যবস্থাপনায় তাঁকে ইএফটির আওতায় আনার ব্যবস্থা করবে। এ বিষয়ে ২৮ জুলাই ২০১৯ তারিখের একটি সরকারি স্মারকের উল্লেখ রয়েছে।
অর্থাৎ, গুরুতর অসুস্থতার কারণে পেনশনভোগী নিজে সংশ্লিষ্ট অফিসে যেতে না পারলেও তাঁর পেনশন প্রদানের পদ্ধতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইএফটির মাধ্যমে পেনশনের টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া এবং সেই হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন করা দুটি আলাদা বিষয়। ইএফটি চালু থাকলেও হিসাব পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যাংকের নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
পেনশনসংক্রান্ত সরকারি তথ্যসূত্র: প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (পেনশন ও ফান্ড ম্যানেজমেন্ট)
ইএফটির মাধ্যমে পেনশন নেওয়া যায় কি?
ইএফটি বা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হয়। এতে পেনশনভোগীকে প্রতি মাসে পেনশনের টাকা পাওয়ার জন্য হাতে লেখা চেক জমা দিতে হয় না।
কোনো পেনশনভোগীর পেনশন এখনো চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করা হলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় ও ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে ইএফটির আওতায় আসার যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে হবে।
বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ পেনশনভোগীর ক্ষেত্রে তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় কীভাবে প্রয়োজনীয় যাচাই সম্পন্ন করা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পে-পয়েন্ট অফিসের নির্দেশনা নেওয়া উচিত।
সরকারি পেনশন দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইএফটির আওতায় থাকা পেনশনভোগীদের সাধারণভাবে ১১ মাসে একবার হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে আসতে হয়। তবে গুরুতর অসুস্থ পেনশনভোগীর ক্ষেত্রে কীভাবে যাচাই সম্পন্ন হবে, তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এটিএম কার্ড দিয়ে কি পেনশনের টাকা তোলা সম্ভব?
বর্তমানে অনেক ব্যাংক গ্রাহকদের ডেবিট কার্ড বা এটিএম কার্ডের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের সুবিধা দিয়ে থাকে। পেনশনভোগীর ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে উপযুক্ত কার্ড যুক্ত থাকলে এবং কার্ডটি সচল থাকলে ব্যাংকের নির্ধারিত সীমা ও নিয়ম অনুযায়ী এটিএম থেকে টাকা তোলা সম্ভব হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে।
প্রথমত, পেনশনভোগীর নামে ব্যাংক হিসাব থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী কার্ড ব্যবহারের সুবিধা থাকতে হবে।
দ্বিতীয়ত, কার্ডের পিন ও অন্যান্য নিরাপত্তাব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখতে হবে। কার্ড ব্যবহারের জন্য অন্য কাউকে পিন জানিয়ে দেওয়া বা অনিরাপদভাবে কার্ড হস্তান্তর করা ঝুঁকিপূর্ণ।
তৃতীয়ত, পেনশনভোগী নিজে কার্ড ব্যবহার করতে অক্ষম হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁর হয়ে কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন কি না, তা ব্যাংকের কাছে স্পষ্টভাবে জেনে নিতে হবে। পরিবারের সদস্য হলেই অন্যের কার্ড ব্যবহার করার স্বয়ংক্রিয় অধিকার সৃষ্টি হয় না।
অতএব, এটিএম কার্ড অনেক ক্ষেত্রে অর্থ উত্তোলন সহজ করতে পারে; তবে গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তির পক্ষে কার্ড ব্যবহার সম্ভব না হলে বিকল্প অনুমোদিত ব্যবস্থার প্রয়োজন হতে পারে।
ব্যাংকের মোবাইল অ্যাপ দিয়ে কি সমস্যার সমাধান হবে?
ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রসারের ফলে বর্তমানে অনেক ব্যাংক মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, বিল পরিশোধ এবং অন্যান্য ব্যাংকিং সেবা দিয়ে থাকে।
পেনশনভোগীর হিসাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ডিজিটাল ব্যাংকিং সুবিধা চালু থাকলে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করা থাকলে এসব সেবা কাজে লাগানো যেতে পারে।
তবে ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহার করতে সাধারণত নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর, পাসওয়ার্ড, পিন, ওটিপি কিংবা অন্য কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে। ব্যাংকভেদে নিয়ম আলাদা।
এখানে মনে রাখতে হবে, ডিজিটাল ব্যাংকিং সুবিধা থাকা মানেই অন্য কেউ পেনশনভোগীর পরিচয়ে তাঁর হিসাব পরিচালনা করতে পারবেন, এমন নয়।
পেনশনভোগী নিজে অ্যাপ ব্যবহার করতে না পারলে ব্যাংকের কাছে অনুমোদিত বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে কারও সঙ্গে ওটিপি, পিন বা গোপন পাসওয়ার্ড ভাগ করে নেওয়া উচিত নয়।
স্ত্রী বা সন্তান কি পেনশনের টাকা তুলতে পারবেন?
এটি অনেক পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
কোনো পেনশনভোগী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর স্ত্রী, সন্তান বা অন্য নিকটাত্মীয়কে চিকিৎসা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর জন্য অর্থের ব্যবস্থা করতে হয়। কিন্তু ব্যাংক হিসাবের মালিকানা এবং অর্থ উত্তোলনের আইনগত ক্ষমতা পৃথক বিষয়।
পেনশনভোগী জীবিত থাকলে তাঁর ব্যাংক হিসাব থেকে অন্য কেউ অর্থ তুলতে পারবেন কি না, তা ব্যাংকের অনুমোদিত পদ্ধতি এবং প্রযোজ্য আইনগত ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে।
এ ক্ষেত্রে ব্যাংককে লিখিতভাবে জানিয়ে জানতে হবে, অসুস্থ পেনশনভোগীর পক্ষে হিসাব পরিচালনা করতে কী ধরনের অনুমোদন, ক্ষমতাপত্র বা বিকল্প যাচাই প্রয়োজন।
সরকারি পেনশনসংক্রান্ত নথিপত্রেও অবসর ভাতা ও আনুতোষিক উত্তোলনের জন্য ক্ষমতা অর্পণ এবং অভিভাবক মনোনয়নের প্রত্যয়নপত্রের উল্লেখ রয়েছে। তবে এই নথি থাকলেই জীবিত পেনশনভোগীর চলতি ব্যাংক হিসাব থেকে যেকোনো ব্যক্তি টাকা তুলতে পারবেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। কোন নথি কোন পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারি পেনশনসংক্রান্ত বিধি ও ফরম: অর্থ বিভাগের পেনশন আইন ও সংশ্লিষ্ট নথি
অসুস্থ পেনশনভোগীর জন্য কোন কোন কাগজপত্র প্রস্তুত রাখবেন?
ব্যাংক ও হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে যোগাযোগের সময় প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঙ্গে রাখলে প্রক্রিয়াটি সহজ হতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী নিচের কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে:
১. পেনশনভোগীর জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি।
২. পেনশন পেমেন্ট অর্ডার (পিপিও) এবং সংশ্লিষ্ট পেনশন বই বা ডি-হাফের কাগজপত্র, যদি প্রযোজ্য হয়।
৩. ব্যাংক হিসাবের তথ্য ও সাম্প্রতিক ব্যাংক বিবরণী।
৪. পেনশনভোগীর চিকিৎসাসংক্রান্ত সনদ বা হাসপাতালের প্রতিবেদন।
৫. পেনশনভোগীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা এবং ব্যাংকে উপস্থিত হতে না পারার কারণ উল্লেখ করে আবেদন।
৬. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পেনশনভোগীর সঙ্গে সম্পর্কের প্রমাণ, প্রয়োজন হলে।
৭. ব্যাংক বা হিসাবরক্ষণ কার্যালয় থেকে চাওয়া অন্যান্য নথিপত্র।
এগুলো সম্ভাব্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা। সব ক্ষেত্রে সব নথি বাধ্যতামূলক নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও হিসাবরক্ষণ কার্যালয় থেকে নির্দিষ্ট তালিকা জেনে নেওয়াই উত্তম।
কোথায় যোগাযোগ করবেন?
অসুস্থতার কারণে পেনশনভোগী চেকে স্বাক্ষর করতে না পারলে একসঙ্গে দুটি জায়গায় যোগাযোগ করা সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে।
প্রথমত, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা: ব্যাংকের ব্যবস্থাপকের কাছে লিখিত আবেদন দিয়ে জানতে হবে, গ্রাহক স্বাক্ষর করতে অক্ষম হলে কীভাবে তাঁর হিসাব থেকে আইনসম্মতভাবে অর্থ উত্তোলন করা যাবে।
দ্বিতীয়ত, সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়: পেনশন ইএফটির আওতায় আনা, পরিচয় যাচাই, পেনশন প্রদানের পদ্ধতি পরিবর্তন এবং গুরুতর অসুস্থ পেনশনভোগীর ক্ষেত্রে বিশেষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে হবে।
এ ছাড়া পেনশনসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (পেনশন ও ফান্ড ম্যানেজমেন্ট) দপ্তরের হটলাইন নম্বর ০৯৬০৯-০০০৫৫৫-এ যোগাযোগ করা যেতে পারে।
দপ্তরটির সরকারি ওয়েবসাইট: পেনশন ও ফান্ড ম্যানেজমেন্ট দপ্তর
পেনশন উত্তোলনে অযথা বিলম্ব হলে কী করবেন?
ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগের পরও সমাধান না হলে প্রথমে লিখিত আবেদন জমা দিয়ে গ্রহণের প্রমাণ বা ডায়েরি নম্বর সংগ্রহ করা উচিত।
আবেদনে পেনশনভোগীর অসুস্থতার বিবরণ, চেকে স্বাক্ষর করতে না পারার কারণ, চিকিৎসার ব্যয় এবং দ্রুত অর্থ উত্তোলনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা যেতে পারে।
এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কিংবা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আবেদনটির অগ্রগতি জানতে হবে।
প্রয়োজনে সরকারি পেনশন দপ্তরের হটলাইনে যোগাযোগ করে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
দীর্ঘদিন ক্যানসারে আক্রান্ত বা গুরুতর অসুস্থ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীর ক্ষেত্রে চেকে স্বাক্ষর করতে না পারা মানেই তাঁর পেনশন পাওয়ার অধিকার শেষ হয়ে যাওয়া নয়। তবে পেনশনের টাকা কীভাবে উত্তোলন করা যাবে, তা নির্ভর করবে তাঁর পেনশন প্রদানের পদ্ধতি, ব্যাংকের নিয়ম এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ওপর।
তাই শুধু এটিএম কার্ড বা মোবাইল অ্যাপের ওপর নির্ভর না করে ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ পেনশনভোগীকে ইএফটির আওতায় আনার বিষয়ে সরকারি নির্দেশনায় যে সুযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে, সেটি তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না, তা দ্রুত যাচাই করা উচিত।



