নবম পে-স্কেল ২০২৬: তথ্য সংশোধন, নতুন নিয়োগ ও পিআরএল– বেতন নির্ধারণ নিয়ে ৬ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর
নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ বা পে-ফিক্সেশন নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তথ্য পরে সংশোধন করা যাবে কি না, আগের বেতন নির্ধারণীর তথ্যে ভুল থাকলে করণীয় কী, কোন কর্তৃপক্ষ ফিক্সেশন ‘সেন্ড ব্যাক’ করতে পারবেন এবং ১ জুলাই ২০২৬ বা তার পরে যোগদানকারী নতুন কর্মচারীদের বেতন কীভাবে নির্ধারিত হবে—এসব বিষয়ে জানতে আগ্রহী চাকরিজীবীরা।
একই সঙ্গে প্রেষণে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পিআরএলে (অবসরোত্তর ছুটি) থাকা ব্যক্তিদের বেতন নির্ধারণ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। প্রচারিত একটি প্রশ্নোত্তরভিত্তিক তথ্যে এসব বিষয়ে কয়েকটি ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট প্রশ্নোত্তরগুলোর সব কটি নির্দেশনা সরকারি প্রজ্ঞাপনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তাই সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় বা অর্থ বিভাগের নির্দেশনার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।
নবম পে-স্কেলের পে-ফিক্সেশন কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা
দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুমোদনের মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অর্থ বিভাগ থেকে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ প্রকাশের পর ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর বলে গণ্য করা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের জন্য iBAS++ ব্যবস্থার পে-ফিক্সেশন মডিউল ব্যবহার করা হচ্ছে। ৪ অক্টোবর অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে জনবলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাঠানোর জন্য একটি নোটিশ প্রকাশ করে। অর্থাৎ ব্যক্তিগত ও চাকরিসংক্রান্ত তথ্যের সঠিকতা নতুন বেতন নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 【turn278051view0】【turn278051view1】
২০ অক্টোবর ছিল পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করার নির্ধারিত সময়সীমা। তবে ওই সময়ের সংবাদ প্রতিবেদনে প্রতিরক্ষা ও বিচার বিভাগীয় সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ তখনো প্রক্রিয়াধীন থাকার কথা জানানো হয়েছিল। ফলে নির্ধারিত সময়সীমা পার হলেও যাঁদের তথ্য, অনুমোদন কিংবা বিশেষ শ্রেণির ফিক্সেশন নিয়ে জটিলতা রয়েছে, তাঁদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন। 【turn278051view2】
১. পারিবারিক তথ্য কি পরে আপডেট করা যাবে?
প্রচারিত প্রশ্নোত্তর অনুযায়ী, পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন হওয়ার পরও পারিবারিক তথ্য আপডেট করার সুযোগ থাকতে পারে। ফলে ফিক্সেশনের সময় পারিবারিক তথ্য দিতে ভুল হলে বা কোনো তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হচ্ছেন।
তবে পারিবারিক তথ্য আপডেটের সুযোগ থাকলেই সব ধরনের তথ্য যেকোনো সময় নিজে থেকে পরিবর্তন করা যাবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। কোন তথ্য সংশোধন করা যাবে, অনলাইনে সংশোধনের ব্যবস্থা আছে কি না এবং সংশোধনের জন্য হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট সিস্টেমের নিয়মের ওপর নির্ভর করবে।
এ কারণে ভুল তথ্য শনাক্ত হলে সেটি উপেক্ষা না করে সংশ্লিষ্ট অফিসের বেতন শাখা বা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে করণীয় জেনে নেওয়া উচিত।
২. কোন ক্ষেত্রে পে-ফিক্সেশন ‘সেন্ড ব্যাক’ করা যাবে?
পে-ফিক্সেশন প্রক্রিয়ায় ‘Send Back’ বলতে সাধারণত কোনো বিবরণী পুনরায় সংশোধন বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আগের ধাপে ফেরত পাঠানো বোঝায়। তথ্যের ভুল, অসম্পূর্ণ বিবরণী কিংবা যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে এ ধরনের ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
প্রচারিত প্রশ্নোত্তরে বলা হয়েছে, সরকারি বাজেটের আওতাভুক্ত বা GoB Staff-এর ক্ষেত্রে DDO (Drawing and Disbursing Officer) ফিক্সেশন সেন্ড ব্যাক করতে পারবেন। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় SDO ও GoB Staff—উভয় ধরনের ফিক্সেশন সেন্ড ব্যাক করতে পারবে বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ক্ষমতা ও সিস্টেমে নির্ধারিত অনুমোদনের স্তর গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো বিবরণী ভুল থাকলে সংশোধনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ছবিতে উল্লিখিত ক্ষমতা ও প্রক্রিয়াগুলোকে চূড়ান্ত সরকারি নির্দেশনা হিসেবে গ্রহণ করার আগে সংশ্লিষ্ট অফিসের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
৩. ২০১৫ সালের পে-ফিক্সেশনের Tab-4 ও Tab-5-এ ভুল থাকলে কী করবেন?
পুরোনো জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী করা পে-ফিক্সেশনের তথ্য নতুন বেতন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আগের ফিক্সেশনের Tab-4 ও Tab-5-এ ভুল থাকা কিংবা পুরোনো বেতন নির্ধারণীর তথ্য মনে না থাকার কারণে কিছু কর্মচারী সমস্যায় পড়তে পারেন।
প্রচারিত প্রশ্নোত্তরে বলা হয়েছে, পে-ফিক্সেশন-২০২৬ সম্পন্ন হওয়ার পরও হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের মাধ্যমে আগের ফিক্সেশনের সংশ্লিষ্ট তথ্য আপডেট করার সুযোগ থাকবে।
তবে ভুলের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা পূর্ববর্তী অফিস আদেশের প্রয়োজন হতে পারে। পদোন্নতি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড কিংবা উচ্চতর গ্রেডের কারণে বেতন পরিবর্তিত হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট আদেশ ও নথি প্রস্তুত রাখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বেতন নির্ধারণে আগের বেতন-ইতিহাস যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা অর্থ বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত সংবাদেও উঠে এসেছে। 【turn278051view1】
সুতরাং পুরোনো তথ্য ভুল থাকলে অনুমানের ভিত্তিতে নতুন তথ্য বসানো উচিত নয়। বরং সার্ভিস বুক, পূর্ববর্তী ফিক্সেশন বিবরণী ও প্রাসঙ্গিক অফিস আদেশের সঙ্গে মিলিয়ে সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
৪. ১ জুলাই ২০২৬ বা তার পরে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের বেতন কীভাবে নির্ধারিত হবে?
নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেতন নির্ধারণের বিষয়টি অন্যদের তুলনায় আলাদা হতে পারে। প্রচারিত প্রশ্নোত্তরে বলা হয়েছে, যাঁদের যোগদানের তারিখ ১ জুলাই ২০২৬ অথবা এর পরবর্তী কোনো দিন, তাঁদের নবনিযুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় ‘Fixation Eligibility’ অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত DDO-এর মাধ্যমে তাঁদের বেতন নির্ধারণ করা যাবে না।
এর অর্থ হলো, শুধু চাকরিতে যোগদান করলেই সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর পে-ফিক্সেশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে—এমন নয়। তাঁর নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য, যোগদানের তারিখ এবং সিস্টেমে বেতন নির্ধারণের যোগ্যতা অনুমোদনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এ ধরনের কর্মচারীদের নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র, পদ ও গ্রেডসংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা উচিত। পে-ফিক্সেশন মডিউলে প্রয়োজনীয় অনুমোদন না এলে সংশ্লিষ্ট DDO বা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী করণীয় জানতে হবে।
এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি: নবনিযুক্ত কর্মচারীদের বিষয়ে প্রচারিত প্রশ্নোত্তরের ব্যাখ্যাটি সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা দিয়ে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নির্দিষ্ট কর্মচারীর ক্ষেত্রে কোন অনুমোদন লাগবে, তা তাঁর চাকরির ধরন ও প্রযোজ্য বিধানের ওপর নির্ভর করতে পারে।
৫. প্রেষণে থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কখন নির্ধারণ হবে?
প্রেষণে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে আলাদা প্রশ্ন রয়েছে। প্রচারিত প্রশ্নোত্তরে বলা হয়েছে, এ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য সিস্টেম প্রস্তুত হলে যথাসময়ে পরবর্তী আপডেট জানানো হবে।
প্রেষণে কর্মরত ব্যক্তিদের চাকরির অবস্থান, মূল দপ্তর, প্রেষণকারী ও পদায়নকারী কর্তৃপক্ষের তথ্য এবং বেতন প্রদানের ব্যবস্থার কারণে তাঁদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে। তবে প্রচারিত প্রশ্নোত্তরে সিস্টেম প্রস্তুতের নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।
তাই প্রেষণে থাকা কর্মচারীদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো তারিখে পে-ফিক্সেশন শুরু হবে—এমন ঘোষণা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রশাসন বা হিসাব শাখা এবং অর্থ বিভাগের পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন।
প্রেষণসংক্রান্ত অফিস আদেশ, বর্তমান পদায়ন এবং বেতন-সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ রাখা ভবিষ্যৎ প্রক্রিয়াকে সহজ করতে পারে।
৬. পিআরএলে থাকা এবং পিআরএল শেষ হওয়া কর্মচারীদের পে-ফিক্সেশন কবে হবে?
পিআরএল বা অবসরোত্তর ছুটিতে থাকা কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ নিয়ে বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে যাঁরা ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে পিআরএলে ছিলেন, যাঁদের পিআরএল ওই তারিখে বা তার পরে শেষ হয়েছে কিংবা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে কোন তারিখ ধরে বেতন নির্ধারণ হবে—এ প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রচারিত প্রশ্নোত্তরে বলা হয়েছে, এ শ্রেণির কর্মচারীদের পিআরএল শেষ হওয়ার পর ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের ভিত্তিতে বেতন নির্ধারণের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সিস্টেম প্রস্তুত হলে পরবর্তী আপডেট জানানো হবে। ওই শ্রেণির কেউ এখনই ফিক্সেশন করার চেষ্টা করলে সেই প্রচেষ্টা বাতিল হয়ে যেতে পারে বলেও প্রশ্নোত্তরে উল্লেখ রয়েছে।
এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। প্রথমত, বেতন নির্ধারণের কার্যকর তারিখ এবং দ্বিতীয়ত, ফিক্সেশন করার জন্য সিস্টেমে প্রবেশ ও অনুমোদনের সময়—দুটো এক বিষয় নয়। কোনো কর্মচারীর ক্ষেত্রে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ প্রযোজ্য হলেও তাঁর ফিক্সেশন সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট সিস্টেমের অনুমোদন বা নির্দেশনার ওপর নির্ভর করতে পারে।
তাই পিআরএলে থাকা বা পিআরএল শেষ হওয়া কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নিজে থেকে বারবার ফিক্সেশন করার চেষ্টা না করে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় কিংবা অফিসের বেতন শাখা থেকে নির্দেশনা নেওয়া উচিত। ছবিতে দেওয়া ব্যাখ্যাটি অনুসরণ করার আগে এর প্রযোজ্যতা ও বর্তমান সিস্টেম-অবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
অক্টোবরের বেতন ও বকেয়া পাওনার বিষয়েও নজর রাখতে হবে
নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও বর্ধিত বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। অর্থ বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় তিন মাসের বকেয়া পাওনা সমন্বয়ের পরিকল্পনা ছিল। তবে প্রত্যেক কর্মচারীর বকেয়ার পরিমাণ এক হবে না; আগের মূল বেতন, নতুন নির্ধারিত বেতন, গ্রেড এবং প্রযোজ্য কার্যকর তারিখ অনুযায়ী হিসাব পরিবর্তিত হবে। 【turn278051view1】【turn278051view2】
তাই বেতন নির্ধারণের পর নতুন বেতন বিবরণী এবং বকেয়ার হিসাব যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অসংগতি দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট অফিসের বেতন শাখা বা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।
কর্মচারীদের এখন কী করা উচিত?
নতুন পে-ফিক্সেশন নিয়ে জটিলতা এড়াতে প্রথমেই নিজের ব্যক্তিগত তথ্য, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, পদ, গ্রেড এবং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত মূল বেতনের তথ্য যাচাই করা উচিত। আগের পদোন্নতি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড কিংবা উচ্চতর গ্রেডের আদেশ থাকলে সেগুলোও প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন।
যাঁদের তথ্য ভুল, তাঁদের সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। আর নবনিযুক্ত, প্রেষণে কর্মরত বা পিআরএলে থাকা কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সাধারণ ফিক্সেশন প্রক্রিয়া সবার জন্য একইভাবে প্রযোজ্য হবে—এমন ধারণা না করে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন।
সতর্কতা: প্রচারিত প্রশ্নোত্তরভিত্তিক ছবিতে ‘আইবাস হেল্পডেস্ক’ সূত্রের উল্লেখ থাকলেও এর প্রতিটি বক্তব্যের সমর্থনে পৃথক সরকারি আদেশ যাচাই করা যায়নি। এ কারণে এটিকে স্বতন্ত্র সরকারি প্রজ্ঞাপনের বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অর্থ বিভাগ, সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় বা নিজ দপ্তরের অনুমোদিত নির্দেশনা যাচাই করুন।
শেষ কথা
নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য, আগের বেতন-ইতিহাস, যোগদানের তারিখ এবং প্রযোজ্য অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ কর্মচারীদের পাশাপাশি নবনিযুক্ত, প্রেষণে থাকা এবং পিআরএল-সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্যও প্রক্রিয়াগত পার্থক্য থাকতে পারে। তাই শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত প্রশ্নোত্তরের ওপর নির্ভর না করে সরকারি নির্দেশনার সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।



