নৈমিত্তিক । অর্জিত । মাতৃত্বকালীন

সরকারি চাকরিতে অগ্রিম ছুটির নিয়ম: প্রাপ্য ছুটি না থাকলেও কি ১২ মাস ছুটি পাওয়া যায়?

সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর বিভিন্ন কারণে কর্মচারীদের ছুটির প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু সব সময় ছুটির হিসাবে পর্যাপ্ত অর্জিত ছুটি জমা থাকে না। দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা, চিকিৎসা কিংবা বিশেষ প্রয়োজনে ছুটির প্রয়োজন হলেও অনেক কর্মচারী বুঝতে পারেন না, প্রাপ্য ছুটি না থাকলে কীভাবে ছুটি নেওয়া সম্ভব।

সরকারি চাকরির বিধিমালায় এ ধরনের পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট শর্তে প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি (Leave Not Due) মঞ্জুর করার বিধান রয়েছে। প্রচলিতভাবে অনেকে একে অগ্রিম ছুটি বা Advance Leave বলেও উল্লেখ করেন।

তবে এ ছুটি সাধারণ অর্জিত ছুটির মতো নয়। এর জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট যোগ্যতা, ছুটির সর্বোচ্চ সীমা, বেতন নির্ধারণের নিয়ম এবং ছুটি শেষে পুনরায় দায়িত্ব পালনের শর্ত। বিশেষ করে চাকরি স্থায়ী কি না, চিকিৎসা সনদ রয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর ক্ষেত্রে কোন ছুটিবিধি প্রযোজ্য—এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রাপ্যতাবিহীন বা অগ্রিম ছুটি কী?

প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি হলো এমন এক ধরনের ছুটি, যা নির্দিষ্ট বিধান ও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একজন যোগ্য সরকারি কর্মচারীকে তাঁর অর্জিত ছুটির হিসাবের বাইরে বা ভবিষ্যতে অর্জিতব্য ছুটির বিপরীতে মঞ্জুর করা যেতে পারে।

সহজভাবে বলা যায়, কোনো কর্মচারীর ছুটির হিসাবে পর্যাপ্ত ছুটি জমা নেই, কিন্তু বিশেষ প্রয়োজনে তাঁকে ছুটি দিতে হচ্ছে—এমন পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য বিধি অনুসারে প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি বিবেচনা করা যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, ছুটির আবেদন করলেই তা মঞ্জুর হয়ে যায় না। কর্মচারীর চাকরির ধরন, প্রযোজ্য বিধিমালা, আবেদনের কারণ এবং ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালন করে ছুটি অর্জনের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

১. কারা প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি পেতে পারেন?

নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯-এর বিধি ৫ অনুযায়ী, অবসর-উত্তর ছুটির ক্ষেত্র ব্যতীত স্থায়ী সরকারি কর্মচারীকে নির্দিষ্ট শর্তে প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি দেওয়া যেতে পারে।

এখানে চাকরির স্থায়িত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শুধু দীর্ঘদিন সরকারি চাকরি করলেই কোনো অস্থায়ী কর্মচারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ছুটির অধিকারী হবেন—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর চাকরির প্রকৃতি, স্থায়ীকরণের অবস্থা এবং তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছুটিবিধি যাচাই করা প্রয়োজন।

২. চিকিৎসা সনদ থাকলে কত দিন ছুটি পাওয়া যায়?

নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯-এর বিধি ৫-এর সাধারণ বিধান অনুসারে, যোগ্য স্থায়ী সরকারি কর্মচারীকে চিকিৎসা সনদের ভিত্তিতে সমগ্র চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি মঞ্জুর করা যেতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা বা চিকিৎসার প্রয়োজনে অর্জিত ছুটি অপর্যাপ্ত হলে এই বিধান প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

তবে ১২ মাস ছুটি পাওয়া কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়। চিকিৎসা সনদ দাখিল, আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা, প্রযোজ্য বিধান এবং অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়গুলো বিবেচ্য।

গুরুত্বপূর্ণ: ১২ মাসের সীমাটি প্রযোজ্য বিধির অধীনে সমগ্র চাকরিজীবনের সর্বোচ্চ সীমা; এটি প্রত্যেকবার ১২ মাস করে ছুটি পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না।

৩. চিকিৎসা সনদ ছাড়া কত দিন অগ্রিম ছুটি পাওয়া যায়?

একই বিধি অনুযায়ী, চিকিৎসা সনদ ছাড়া প্রাপ্যতাবিহীন ছুটির ক্ষেত্রে সমগ্র চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ তিন মাসের সীমা প্রযোজ্য।

অর্থাৎ, প্রযোজ্য বিধান ও অন্যান্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একজন যোগ্য স্থায়ী সরকারি কর্মচারী চিকিৎসা সনদ ছাড়াও সীমিত মেয়াদে এ ধরনের ছুটি পেতে পারেন।

তবে চিকিৎসা সনদ ছাড়া ছুটি নেওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর কারণ, ছুটির প্রয়োজনীয়তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন: তিন মাস বা ১২ মাস হলো সর্বোচ্চ সীমা, নিশ্চিতভাবে মঞ্জুরযোগ্য ছুটির পরিমাণ নয়।

৪. অগ্রিম ছুটিকালীন বেতন কত পাওয়া যায়?

প্রাপ্যতাবিহীন ছুটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি সাধারণত অর্ধ-গড় বেতনে মঞ্জুর করা হয়।

এর অর্থ এই নয় যে কর্মচারী তাঁর মূল বেতনের অর্ধেকই সব ক্ষেত্রে হাতে পাবেন। ছুটিকালীন বেতন নির্ধারণের জন্য প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বেতনের হিসাব করতে হয়।

অর্ধ-গড় বেতনে ছুটি মঞ্জুর হলে ছুটিকালীন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসরণ করতে হবে।

তাই অগ্রিম ছুটির আবেদন করার আগে নিজের ছুটির ধরন, বেতন নির্ধারণের ভিত্তি এবং অন্যান্য প্রযোজ্য আর্থিক সুবিধা সম্পর্কে দপ্তরের হিসাব শাখা থেকে নিশ্চিত হওয়া ভালো।

৫. অগ্রিম ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিলে কী হবে?

প্রাপ্যতাবিহীন ছুটির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর একটি হলো ছুটি শেষে পুনরায় দায়িত্ব পালন এবং ভবিষ্যতে ছুটি অর্জনের বিষয়টি।

নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯-এর বিধি ৫ অনুসারে, এ ধরনের ছুটি ভোগ শেষে কর্মে প্রত্যাবর্তনের পর ভোগ করা ছুটির সমপরিমাণ ছুটি পুনরায় অর্জন না করা পর্যন্ত কর্মচারী নতুন করে ছুটি প্রাপ্য হবেন না।

সহজ উদাহরণ দেওয়া যাক।

ধরা যাক, একজন কর্মচারী তিন মাস প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি ভোগ করলেন। ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগদানের পর তাঁকে প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী এমন পরিমাণ দায়িত্বকাল অতিবাহিত করতে হবে, যাতে ভোগ করা ছুটির সমপরিমাণ ছুটি পুনরায় অর্জিত হয়।

এটি ছুটি অর্জনের হিসাবসংক্রান্ত শর্ত। এখানে দায়িত্ব পালনের নির্দিষ্ট সময় সবার ক্ষেত্রে একই হবে—এমনটি বলা যায় না; সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর ছুটি অর্জনের হার ও প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী হিসাব করতে হবে।

৬. অগ্রিম ছুটি মঞ্জুরের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ কী বিবেচনা করবেন?

প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি মঞ্জুরের ক্ষেত্রে শুধু কর্মচারীর ছুটির হিসাব নয়, ভবিষ্যতে তাঁর দায়িত্ব পালনের সম্ভাবনাও গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের প্রাসঙ্গিক বিধান অনুসারে, ছুটি মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষকে সন্তুষ্ট হতে হয় যে যুক্তিসংগতভাবে বিবেচনা করলে কর্মচারী ছুটি শেষে দায়িত্বে ফিরে আসবেন এবং ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালন করে ছুটি অর্জন করতে পারবেন।

এ ধরনের ছুটি সাধারণত বিশেষ পরিস্থিতিতে বিবেচিত হয়। তাই ব্যক্তিগত প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে আবেদন করলেই তা অনুমোদিত হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

এ ছাড়া ছুটি মঞ্জুরের আগে কর্মচারীর চাকরির ধরন, ছুটির কারণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা যাচাই করা জরুরি।

৭. অগ্রিম ছুটি নিয়ে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করা যাবে কি?

প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি ভোগরত অবস্থায় স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের আবেদন করলে ছুটির ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের বিধি ১৮৪-এর অধীন প্রাসঙ্গিক বিধান ও নোটে প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি এবং স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের বিষয়ে শর্ত উল্লেখ রয়েছে।

তাই এ ধরনের ছুটি চলাকালে অবসরের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রশাসন শাখা ও হিসাব শাখার পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

বিশেষ করে অবসরের কার্যকর তারিখ, ছুটি বাতিলের প্রযোজ্যতা এবং চাকরিকালসংক্রান্ত হিসাব যাচাই না করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

৮. অগ্রিম ছুটি কি পেনশনযোগ্য চাকরিকাল হিসেবে গণ্য হবে?

এ প্রশ্নটি অনেক সরকারি কর্মচারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি ভোগ করলেই সব ক্ষেত্রে পেনশনযোগ্য চাকরিকাল বা অন্যান্য অবসর সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হয়ে যায়—এমন ধারণা সঠিক নয়।

এ ক্ষেত্রে ছুটির ধরন, প্রযোজ্য চাকরিবিধি, চাকরিকাল গণনার নিয়ম এবং অবসর-সংক্রান্ত বিধান বিবেচনা করতে হবে।

বিশেষ করে অগ্রিম ছুটি ভোগের পর স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ, চাকরি থেকে অবসর কিংবা অন্য কোনো কারণে চাকরির সমাপ্তি ঘটলে সংশ্লিষ্ট বিধির প্রভাব আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

সুতরাং, পেনশন ও অবসর সুবিধার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় বা পেনশন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা নেওয়া ভালো।

৯. প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি ও সাধারণ অর্জিত ছুটির পার্থক্য

দুই ধরনের ছুটির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

অর্জিত ছুটি: চাকরির বিধি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন ও নির্ধারিত নিয়মে ছুটি অর্জিত হয়। ছুটির হিসাবে প্রাপ্যতা থাকলে সংশ্লিষ্ট শর্তে তা ভোগ করা যায়।

প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি: ছুটির হিসাবে পর্যাপ্ত ছুটি না থাকলেও বিশেষ শর্তে ভবিষ্যতে ছুটি অর্জনের বিবেচনায় এ ধরনের ছুটি মঞ্জুর করা যেতে পারে।

অর্জিত ছুটির ক্ষেত্রে ছুটির হিসাবের প্রাপ্যতা প্রধান বিষয়। অন্যদিকে প্রাপ্যতাবিহীন ছুটির ক্ষেত্রে যোগ্যতা, অনুমোদন, ছুটির সীমা এবং ভবিষ্যতে ছুটি অর্জনের শর্ত বিশেষ গুরুত্ব পায়।

এ কারণে দুই ধরনের ছুটিকে একই নিয়মে বিবেচনা করা উচিত নয়।

১০. অগ্রিম ছুটির আবেদন করার আগে যেসব বিষয় যাচাই করবেন

সরকারি চাকরিজীবীরা প্রাপ্যতাবিহীন ছুটির আবেদন করার আগে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করতে পারেন।

১. চাকরি স্থায়ী হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট বিধিতে এ ছুটির যোগ্যতা রয়েছে কি না।

২. ছুটির হিসাব অনুযায়ী অর্জিত ছুটির পরিমাণ কত।

৩. চিকিৎসাজনিত কারণে আবেদন করলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সনদ ও অন্যান্য কাগজপত্র রয়েছে কি না।

৪. পূর্বে প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি ভোগ করা হয়ে থাকলে সমগ্র চাকরিজীবনের অনুমোদিত ছুটির সীমার কতটুকু অবশিষ্ট রয়েছে।

৫. আবেদনটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দাখিল করা হচ্ছে কি না।

৬. ছুটি শেষে দায়িত্বে যোগদান এবং ভবিষ্যতে ছুটি অর্জনের শর্ত কী হবে।

৭. ছুটিকালীন বেতন, চাকরিকাল এবং অবসর সুবিধার ওপর প্রযোজ্য বিধানের প্রভাব কী।

এসব বিষয় যাচাই করলে আবেদনসংক্রান্ত জটিলতা কমানো এবং ভবিষ্যতে ছুটি ও আর্থিক সুবিধা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো সম্ভব।

১১. প্রাসঙ্গিক বিধিমালা ও আইনি ভিত্তি

প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি বুঝতে প্রধানত নিচের বিধানগুলো প্রাসঙ্গিক:

  • নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯-এর বিধি ৫: প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি, যোগ্যতা এবং সর্বোচ্চ মেয়াদসংক্রান্ত বিধান।
  • বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস, পার্ট-১-এর বিধি ১৮৪: প্রাপ্যতাবিহীন ছুটিসহ বিভিন্ন ছুটি মঞ্জুরের শর্ত ও সীমা।
  • সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ১৬: প্রযোজ্য বিধান ও সরকারি আদেশ অনুসারে সরকারি কর্মচারীর ছুটি প্রাপ্যতা ও ভোগের বিষয়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের বিধি ১৮৪ এবং নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯-এর বিধি ৫-এর শর্ত ও প্রয়োগক্ষেত্র এক নয়। তাই এক বিধির অধীনে উল্লেখিত ছুটির সীমা অন্য বিধির আওতায় থাকা সব কর্মচারীর ক্ষেত্রে সরাসরি প্রয়োগ করা যাবে না।

উপসংহার

সরকারি চাকরিতে প্রাপ্যতাবিহীন বা অগ্রিম ছুটি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অর্জিত ছুটি অপর্যাপ্ত হলেও যোগ্য কর্মচারী ছুটি পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

তবে এ ছুটির ক্ষেত্রে চাকরির স্থায়িত্ব, চিকিৎসা সনদ, ছুটির সর্বোচ্চ সীমা, ছুটিকালীন বেতন এবং ভবিষ্যতে ছুটি অর্জনের শর্ত বিশেষভাবে বিবেচনা করতে হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রাপ্যতাবিহীন ছুটি কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়; এটি প্রযোজ্য বিধি ও অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মঞ্জুর করা হয়।

তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রশাসন শাখা, হিসাব শাখা অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান নিশ্চিত করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *