Pay Scale fixation Process 2026 । সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন স্কেল ফিক্সেশন কিভাবে হবে?
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন স্কেলে বেতন নির্ধারণ বা ফিক্সেশন প্রক্রিয়া নিয়ে মাঠ পর্যায়ে দীর্ঘদিনের কৌতূহল ও জটিলতা নিরসনে সামনে এসেছে দুটি স্পষ্ট গাণিতিক পদ্ধতি। সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি হিসাব ও নীতিমালার আলোকে বেতন স্কেল ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে প্রধানত দুটি নিয়মের কথা বলা হয়েছে—‘পার্থক্য যোগ পদ্ধতি’ এবং ‘ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর পদ্ধতি’। এই দুই পদ্ধতির সুনির্দিষ্ট প্রয়োগ এবং এর ফলে কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধার তারতম্য নিয়ে তৈরি হয়েছে বিস্তারিত বিশ্লেষণ।
১. পার্থক্য যোগ পদ্ধতি (Difference Addition Method)
পার্থক্য যোগ পদ্ধতিতে পুরনো স্কেলের মূল বেতনের সাথে নির্ধারিত পার্থক্য নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে যোগ করে নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়। এই পদ্ধতির মূল ভিত্তি হলো একজন কর্মচারী পুরনো স্কেলে কত বছর চাকরি সম্পন্ন করেছেন এবং সেই অনুযায়ী তার ইনক্রিমেন্টসহ মূল বেতন কত বৃদ্ধি পেয়েছে তার গাণিতিক পার্থক্য নির্ণয় করা।
প্রায়োগিক উদাহরণ:
পুরাতন স্কেল: ১৪তম পে কোড
প্রারম্ভিক বেসিক: ১০,২০০ টাকা
৫ বছর পর ইনক্রিমেন্টসহ বেসিক: ১৩,০৫০ টাকা
পার্থক্য নির্ধারণ: ১৩,০৫০ − ১০,২০০ = ২,৮৫০ টাকা
নতুন স্কেলে বেতন: ১৪তম গ্রেডে যদি প্রাথমিক বেতন ২১,০০০ টাকা ধরা হয়, তবে নতুন বেসিক হবে ২১,০০০ + ২,৮৫০ = ২৩,৮৫০ টাকা।
নিকটতম ধাপ ফিক্সেশন: যদি ২৩,৮৫০ টাকা পে স্কেল টেবিলে সরাসরি উপস্থিত না থাকে, তবে তার পরবর্তী নিকটতম উচ্চতর ধাপ (যেমন: ২৩,৯০০ টাকা) নতুন বেসিক হিসেবে গণ্য করা হবে।
২. ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর পদ্ধতি (Increment Factor Method)
দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর পদ্ধতি, যা মূলত একটি আনুপাতিক বা গুণনীয়ক ভিত্তিক হিসাব। এই পদ্ধতিতে পুরনো স্কেলের ইনক্রিমেন্টসহ বর্তমান বেসিককে পুরনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন দিয়ে ভাগ করে একটি ‘ফ্যাক্টর’ বা গুণনীয়ক বের করা হয়। এরপর নতুন স্কেলের নির্ধারিত প্রারম্ভিক বেসিকের সাথে ওই ফ্যাক্টর গুণ করে নতুন প্রাথমিক বেসিক গণনা করা হয়।

নিকটতম ধাপ ফিক্সেশন: পে স্কেল টেবিলে ২৬,৮৮০ টাকা সরাসরি না থাকলে পরবর্তী নিকটতম উচ্চতর ধাপ (যেমন: ২৭,০০০ টাকা) নতুন বেসিক হিসেবে চূড়ান্ত করা হবে।
পদ্ধতি দুটির তুলনামূলক সারসংক্ষেপ
| পদ্ধতির নাম | মূল ভিত্তি | সুবিধা |
| পার্থক্য যোগ পদ্ধতি | পুরাতন ও বর্তমান বেসিকের পরম পার্থক্য নতুন স্কেলে যোগ করা | হিসাব প্রক্রিয়া সহজ এবং সরাসরি বোধগম্য |
| ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর পদ্ধতি | অনুপাত বা গুণনীয়ক বের করে নতুন স্কেলের সাথে গুণ করা | দীর্ঘমেয়াদী ইনক্রিমেন্ট ও শতাংশের সুফল পাওয়া যায় |
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বেতন ফিক্সেশনের এই স্বচ্ছ নীতিমালা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে মাঠ পর্যায়ে হিসাবরক্ষক অফিস ও কর্মচারীদের মধ্যকার জটিলতা অনেকাংশে কমে আসবে এবং সরকারি চাকুরিজীবীরা তাদের ন্যায্য আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবেন।



