৩৩ লাখ সরকারি চাকরিজীবীর বেতন বাড়ছে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ: ২ বছরের মধ্যে ৩ ধাপে বাস্তবায়ন
দেশের প্রায় ৩৩ লাখ সরকারি চাকরিজীবী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য একটি বড় আর্থিক সুখবর নিয়ে আসছে নতুন বেতন কাঠামো। বর্তমান বাজারদর ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর চূড়ান্ত রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে। এর পেছনে সরকারের মোট অতিরিক্ত ব্যয় হবে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।
দুই বছরের মধ্যে তিন ধাপে বাস্তবায়ন
প্রস্তাবিত এই বেতন কাঠামো একসঙ্গে কার্যকর না করে দুই বছরের মধ্যে তিনটি সুনির্দিষ্ট ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। গ্রেড অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধির হার বিভাজন করা হয়েছে নিম্নরূপ:
জুলাই ২০২৬: ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের জন্য ৪০% এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য ৫০% বৃদ্ধি।
জানুয়ারি ২০২৭: ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের জন্য ৩০% এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য ২৫% বৃদ্ধি।
জুলাই ২০২৭: ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের জন্য ৩০% এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য ২৫% বৃদ্ধি।
এর ফলে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবেন, যা মাঠ প্রশাসন ও তৃণমূলের কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবীদের পেনশন বৃদ্ধি
বর্তমান চাকরিজীবীদের পাশাপাশি লক্ষাধিক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী এবং তাদের পরিবারের আর্থিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে পেনশনের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। মাসিক পেনশনের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে ৫টি স্লটে এই বৃদ্ধি কার্যকর হবে:
৯ হাজার টাকা বা কম: ১০০% বৃদ্ধি
৯০০১ থেকে ২০,০০০ টাকা: ৭৫% বৃদ্ধি
২০,০০১ থেকে ৩০,০০০ টাকা: ৬৫% বৃদ্ধি
৩০,০০১ থেকে ৪০,০০০ টাকা: ৬০% বৃদ্ধি
৪০,০০১ টাকা বা বেশি: ৫৫% বৃদ্ধি
অর্থনৈতিক প্রভাব ও প্রত্যাশা
অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, মূল্যস্ফীতির এই সময়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও পেনশন বাড়ানোর এই উদ্যোগ প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। সরকারের ওপর অতিরিক্ত ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকার বাজেট চাপ সত্ত্বেও জনকল্যাণমুখী এই পদক্ষেপটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।



