জিপিএফ কর্তনের অসংগতিতে বেতন বিল সাবমিটে জটিলতা, সংশোধনের সুযোগ ডিডিও অপশনে
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী নতুন বেতন নির্ধারণ ও বেতন বিল দাখিলের প্রক্রিয়ায় সরকারি কর্মচারীদের জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (জিপিএফ) কর্তন নিয়ে নতুন করে জটিলতার অভিযোগ উঠেছে। মূল বেতনের নির্ধারিত সীমার সঙ্গে জিপিএফ চাঁদার পরিমাণের অসংগতি থাকলে আইবাস++ (iBAS++) সিস্টেমে বেতন বিল প্রস্তুত ও দাখিল করতে সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি স্ক্রিনশটে জিপিএফ কর্তনের হারসংক্রান্ত ত্রুটির বার্তা দেখা গেছে। সেখানে বলা হয়েছে, জিপিএফ সাবস্ক্রিপশন রেট নির্ধারিত সীমার মধ্যে নেই। এটি মূল বেতনের ৫ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে হবে। ফলে যেসব কর্মচারীর জিপিএফ কর্তনের হার নির্ধারিত সীমার বাইরে রয়েছে, তাঁদের তথ্য সংশোধন করার প্রয়োজন হতে পারে।
জিপিএফ কর্তনের হার নিয়ে কেন সমস্যা হচ্ছে?
প্রকাশিত স্ক্রিনশটের বার্তা অনুযায়ী, জিপিএফ চাঁদার হার মূল বেতনের ৫ শতাংশের কম অথবা ২৫ শতাংশের বেশি হলে সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দিতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, শুধু হার নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকলেই সব ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
কর্মচারীদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বার্ষিক বর্ধিত বেতন যুক্ত হওয়ার পর যাঁরা নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে জিপিএফ কর্তন বাড়িয়েছেন, তাঁদের কারও কারও ক্ষেত্রে আগের মূল বেতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্তনের হার পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
এ ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন এবং ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বার্ষিক বর্ধিত বেতন যুক্ত হওয়ার পর নির্ধারিত মূল বেতনের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে সবার ক্ষেত্রে একই নিয়মে কর্তন কমাতে হবে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের নির্দেশনা ও সিস্টেমে সংরক্ষিত তথ্য যাচাই করা জরুরি।
বেতন বিল সাবমিট করতে পারছেন না কেউ কেউ
জিপিএফ কর্তনসংক্রান্ত ত্রুটির কারণে বেতন বিল প্রস্তুত ও দাখিল করতে সমস্যার কথা জানিয়েছেন কয়েকজন সরকারি কর্মচারী। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, জিপিএফের তথ্য সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেতন বিলের পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না।
একজন কর্মচারীর মন্তব্যে বলা হয়েছে, জিপিএফের জমার হার ৫ শতাংশের কম থাকলেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, আরেকজন কর্মচারী জানিয়েছেন, জিপিএফ কর্তনের হার ৫ থেকে ২৫ শতাংশের মধ্যে থাকলে তাঁদের ক্ষেত্রে সমস্যা হয়নি এবং তাঁরা বেতন বিল সাবমিট করতে পেরেছেন।
এ ধরনের অভিজ্ঞতার পার্থক্য থেকে বোঝা যায়, সমস্যাটি নির্দিষ্ট কর্মচারীর জিপিএফ তথ্য, মূল বেতনের হিসাব অথবা সিস্টেমে সংরক্ষিত তথ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই সব কর্মচারীর ক্ষেত্রে একই কারণ ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
ডিডিও অপশনে জিপিএফ সংশোধনের সুযোগ
কর্মচারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আইবাস++ সিস্টেমের ডিডিও (DDO) অপশনে জিপিএফ সংশোধনের ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে। তবে এই সুবিধা সবার জন্য একইভাবে কার্যকর কি না এবং সংশোধনের পরপরই বেতন বিল দাখিল করা যাবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
যেসব কর্মচারীর জিপিএফ কর্তনের হার নির্ধারিত সীমার বাইরে রয়েছে বা মূল বেতনের সঙ্গে কর্তনের তথ্যের অসংগতি রয়েছে, তাঁদের নিজ উদ্যোগে অনুমানভিত্তিক পরিবর্তন না করে ডিডিওর সহায়তা নেওয়া উচিত।
জিপিএফের তথ্য সংশোধনের আগে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন—
১. ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন কত ছিল।
২. ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বার্ষিক বর্ধিত বেতন যুক্ত হওয়ার পর মূল বেতন কত নির্ধারিত হয়েছে।
৩. বর্তমানে জিপিএফ বাবদ কত টাকা কর্তন করা হচ্ছে।
৪. কর্তনের পরিমাণ মূল বেতনের ৫ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে কি না।
৫. আইবাস++ সিস্টেমে জিপিএফসংক্রান্ত কোনো ত্রুটি বা অসংগতি দেখাচ্ছে কি না।
এসব তথ্য যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন করতে হবে। সংশোধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করাই নিরাপদ।
জিপিএফ বৃদ্ধি অপশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার তথ্য
কর্মচারীদের আলোচনায় কিছু সময়ের জন্য জিপিএফ বৃদ্ধি করার অপশন বন্ধ থাকার কথাও উঠে এসেছে। তাঁদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, বেতন বিল ক্লিয়ার হওয়ার পর জিপিএফের তথ্য পরিবর্তনের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।
তবে এই সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা, পুনরায় চালু করা কিংবা বেতন বিল দাখিলের পর পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা এখানে পাওয়া যায়নি। তাই বিষয়টিকে নিশ্চিত সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
যাঁদের ক্ষেত্রে জিপিএফ বৃদ্ধির অপশন ব্যবহার করা যাচ্ছে না, তাঁরা নিজ নিজ ডিডিও বা সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে বর্তমান প্রক্রিয়া জেনে নিতে পারেন।
বেতন বিল সাবমিটের আগে করণীয়
জিপিএফসংক্রান্ত ত্রুটির কারণে বেতন বিল আটকে গেলে প্রথমেই ত্রুটির বার্তাটি ভালোভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এরপর মূল বেতন, জিপিএফ কর্তনের পরিমাণ এবং সিস্টেমে সংরক্ষিত তথ্যের মধ্যে কোনো অসংগতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।
সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নিতে পারেন—
- আইবাস++ সিস্টেমে প্রদর্শিত ত্রুটির বার্তা সংরক্ষণ করা।
- জিপিএফ কর্তনের বর্তমান হার ও টাকার পরিমাণ যাচাই করা।
- ডিডিওর মাধ্যমে জিপিএফ সংশোধনের সুযোগ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা।
- প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের পরামর্শ নেওয়া।
- সংশোধনের পর বেতন বিল পুনরায় প্রস্তুত ও দাখিলের চেষ্টা করা।
বিশেষ করে, বেতন বিল দাখিলের আগে জিপিএফের তথ্য পরিবর্তন করলে তার প্রভাব বেতন হিসাবের ওপর পড়তে পারে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
দ্রুত সমাধানের দাবি
নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ ও বিল দাখিলের কার্যক্রম চলমান থাকায় জিপিএফ কর্তনসংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কর্মচারীরা। তাঁদের মতে, সিস্টেমে জিপিএফ সংশোধনের প্রক্রিয়া স্পষ্ট করা হলে বেতন বিল দাখিলের ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব কমানো সম্ভব হবে।
এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জিপিএফ কর্তনের হার, বার্ষিক বর্ধিত বেতনের পর কর্তন পুনর্নির্ধারণ এবং ডিডিও অপশনে সংশোধনের পদ্ধতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন।
শেষ কথা
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বেতন বিল দাখিলের সময় জিপিএফ কর্তনসংক্রান্ত ত্রুটি দেখা দিলে মূল বেতন ও কর্তনের হিসাব যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে। তবে শুধু ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতনের ভিত্তিতে সবার জিপিএফ কর্তন পুনর্নির্ধারণ করতে হবে—এমন কোনো সাধারণ নির্দেশনা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কর্মচারীদের অনুমানভিত্তিক পরিবর্তন করা উচিত নয়।


