Pay Fixation Form New 2026 : ম্যানুয়ালি নতুন পে ফিক্সেশনকারীগণ অটো হিসাবের সাথে মিলিয়ে নিতে পারেন
জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ নতুন মূল বেতন হিসাব এবং সম্ভাব্য বকেয়া নির্ণয়ের জন্য তৈরি করা হয়েছে একটি বিশেষ বেতন নির্ধারণী ফরম। ফরমটিতে কর্মচারীর বর্তমান গ্রেড, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত মূল বেতন এবং ব্যক্তিগত বেতনের তথ্য ইনপুট দিলে নির্দিষ্ট সূত্র অনুসারে নতুন বেতনের হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেখানোর ব্যবস্থা রয়েছে।
ফরমটির হিসাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্তে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে বর্ধিত বেতনের একটি অংশ, ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে পরবর্তী অংশ এবং ১ জুলাই ২০২৭ থেকে অবশিষ্ট অংশ হিসাবের কাঠামো রাখা হয়েছে। তবে ফরমে ব্যবহৃত এই সূত্র ও হারকে সরকারি বেতন নির্ধারণের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট সরকারি গেজেট, প্রযোজ্য বিধান এবং iBAS++ বা অনুমোদিত পে-ফিক্সেশন ব্যবস্থায় যাচাই করা প্রয়োজন।
বেতন নির্ধারণে কোন তথ্যগুলো প্রয়োজন?
প্রস্তুত করা ফরমটিতে বেতন নির্ধারণের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কর্মচারীর বর্তমান গ্রেড, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত মূল বেতন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পিপি বা ব্যক্তিগত বেতন।
এ ছাড়া কর্মচারীর নাম, পদবি, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, অফিসের নাম, মোবাইল নম্বর, জন্মতারিখ এবং চাকরিতে প্রথম যোগদানের তারিখ সংরক্ষণের সুবিধা রাখা হয়েছে।
ফরমটির ব্যবহারবিধি অনুযায়ী, প্রথমে কর্মচারীর তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। এরপর বেতন নির্ধারণী অংশে গ্রেড নির্বাচন করে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন দিতে হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য ইনপুট দেওয়ার পর ফরমের নির্ধারিত সূত্র অনুযায়ী অন্যান্য হিসাব তৈরি হবে।
এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ফরমটিতে কর্মচারীর তথ্য সংরক্ষণ করা ঐচ্ছিক। অর্থাৎ, শুধু গ্রেড ও মূল বেতন দিয়েও হিসাব তৈরির ব্যবস্থা রয়েছে। তবে কর্মচারীর পরিচিতিসহ পূর্ণাঙ্গ ফরম তৈরি করতে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত ও চাকরিসংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে।
১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন নির্ধারণের হিসাব
ফরমটিতে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখকে নতুন বেতন নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ কার্যকর তারিখ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে প্রথমে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন ও পিপি যোগ করে মোট বেতন নির্ণয় করা হয়।
এরপর ২০১৫ সালের বেতনস্কেল অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে তুলনা করে পার্থক্য নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তী ধাপে ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত বা ফরমে সংরক্ষিত স্কেল অনুযায়ী প্রাপ্য বেতনধাপ নির্বাচন করা হয়।
ফরমটিতে নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন, প্রাপ্য বেতনধাপ, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ বেতন এবং বেতন বৃদ্ধির বিভিন্ন অংশ আলাদাভাবে দেখানোর ব্যবস্থা রয়েছে।
এ কারণে কর্মচারীরা নিজেদের বেতনের হিসাব বুঝতে পারবেন। তবে চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু স্বয়ংক্রিয় হিসাবের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট বিধি, চাকরির রেকর্ড এবং অনুমোদিত হিসাবরক্ষণ কর্তৃপক্ষের যাচাই অনুসরণ করতে হবে।
২০২৬ ও ২০২৭ সালে ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধির হিসাব
ফরমটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নতুন বেতন বৃদ্ধির বিভিন্ন পর্যায়ের হিসাব। এতে গ্রেডভেদে ভিন্ন শতাংশ ব্যবহার করা হয়েছে।
ফরমে সংরক্ষিত সূত্র অনুযায়ী, ১ থেকে ৯ নম্বর গ্রেডের ক্ষেত্রে প্রথম পর্যায়ে বেতন বৃদ্ধির পার্থক্যের ৪০ শতাংশ এবং পরবর্তী পর্যায়ে মোট পার্থক্যের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হিসাব করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ১০ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডের ক্ষেত্রে প্রথম পর্যায়ে ৫০ শতাংশ এবং পরবর্তী পর্যায়ে ৭৫ শতাংশ ব্যবহার করা হয়েছে।
ফরমটির হিসাবের কাঠামো নিচে তুলে ধরা হলো।
| বেতন নির্ধারণের পর্যায় | ১–৯ নম্বর গ্রেড | ১০–২০ নম্বর গ্রেড |
|---|---|---|
| প্রথম পর্যায়: ১ জুলাই ২০২৬ | পার্থক্যের ৪০% | পার্থক্যের ৫০% |
| দ্বিতীয় পর্যায়: ১ জানুয়ারি ২০২৭ | মোট পার্থক্যের ৭০% পর্যন্ত | মোট পার্থক্যের ৭৫% পর্যন্ত |
| তৃতীয় পর্যায়: ১ জুলাই ২০২৭ | মোট পার্থক্যের ১০০% | মোট পার্থক্যের ১০০% |
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: টেবিলের হারগুলো আপলোড করা HTML ফাইলের গণনা-সূত্র থেকে নেওয়া হয়েছে। এগুলোকে সরকারি গেজেটে চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হার হিসেবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বেতন কার্যকরের প্রকৃত তারিখ ও শতাংশ জানতে সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশ যাচাই করতে হবে।
গ্রেডভেদে বেতন কাঠামোতে কী রয়েছে?
ফরমটির কোডে ২০টি গ্রেডের জন্য আলাদা প্রারম্ভিক বেতন এবং সর্বোচ্চ বেতনের তথ্য রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গ্রেডের একাধিক বেতনধাপ সংরক্ষিত রয়েছে।
নিচে ফরমে ব্যবহৃত কয়েকটি গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন ও সর্বোচ্চ বেতনের তথ্য দেওয়া হলো।
| গ্রেড | প্রারম্ভিক বেতন | ফরমে প্রদর্শিত সর্বোচ্চ বেতন |
|---|---|---|
| ১ম গ্রেড | ৭৮,০০০ টাকা | ৭৮,০০০ টাকা |
| ২য় গ্রেড | ৬৬,০০০ টাকা | ৬৬,০০০ টাকা |
| ৩য় গ্রেড | ৫৬,৫০০ টাকা | ৭৪,৪০০ টাকা |
| ৪র্থ গ্রেড | ৫০,০০০ টাকা | ৭১,২০০ টাকা |
| ৫ম গ্রেড | ৪৩,০০০ টাকা | ৬৯,৮৫০ টাকা |
| ৬ষ্ঠ গ্রেড | ৩৫,৫০০ টাকা | ৬৭,০১০ টাকা |
| ৭ম গ্রেড | ২৯,০০০ টাকা | ৬৩,৪১০ টাকা |
| ৮ম গ্রেড | ২৩,০০০ টাকা | ৫৫,৪৭০ টাকা |
| ৯ম গ্রেড | ২২,০০০ টাকা | ৫৩,০৬০ টাকা |
| ১০ম গ্রেড | ১৬,০০০ টাকা | ৩৮,৬৪০ টাকা |
| ১১তম গ্রেড | ১২,৫০০ টাকা | ৩০,২৩০ টাকা |
| ১২তম গ্রেড | ১১,৩০০ টাকা | ২৭,৩০০ টাকা |
| ১৩তম গ্রেড | ১১,০০০ টাকা | ২৬,৫৯০ টাকা |
| ১৪তম গ্রেড | ১০,২০০ টাকা | ২৪,৬৮০ টাকা |
| ১৫তম গ্রেড | ৯,৭০০ টাকা | ২৩,৪৯০ টাকা |
| ১৬তম গ্রেড | ৯,৩০০ টাকা | ২২,৪৯০ টাকা |
| ১৭তম গ্রেড | ৯,০০০ টাকা | ২১,৮০০ টাকা |
| ১৮তম গ্রেড | ৮,৮০০ টাকা | ২১,৩১০ টাকা |
| ১৯তম গ্রেড | ৮,৫০০ টাকা | ২০,৫৭০ টাকা |
| ২০তম গ্রেড | ৮,২৫০ টাকা | ২০,০১০ টাকা |
উপরের পরিসংখ্যানগুলো আপলোড করা ফরমের অভ্যন্তরীণ ডেটা থেকে সংগৃহীত। এগুলো সরকারি গেজেটের সঙ্গে স্বাধীনভাবে মিলিয়ে দেখা হয়নি। বিশেষ করে সর্বোচ্চ বেতনের ঘরে কিছু গ্রেডের তথ্য নতুন স্কেলের সর্বোচ্চ ধাপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে হতে পারে। তাই প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে তথ্যগুলো মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।
বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ বেতন কীভাবে নির্ধারণ হবে?
ফরমটিতে শুধু নতুন বেতনধাপ নির্ধারণের হিসাব রাখা হয়নি; বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টসহ বেতন হিসাবের ব্যবস্থাও রয়েছে।
এতে প্রথমে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে নির্ধারিত বেতন দেখানো হয়। এরপর একই তারিখে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ প্রাপ্য বেতন হিসাব করা হয়। পরবর্তী ধাপে ১ জানুয়ারি ২০২৭ এবং ১ জুলাই ২০২৭ তারিখের বেতন নির্ধারণের হিসাব যুক্ত করা হয়েছে।
তবে বাস্তবে ইনক্রিমেন্ট প্রাপ্যতা নির্ভর করতে পারে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর চাকরির রেকর্ড, ইনক্রিমেন্টের তারিখ, প্রযোজ্য বিধান এবং কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর। ফরমে দেখানো তারিখ বা হিসাব সবার ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
একইভাবে পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, অগ্রিম ইনক্রিমেন্ট কিংবা বিশেষ চাকরিগত পরিস্থিতির জন্য আলাদা বিধান প্রযোজ্য হলে সাধারণ হিসাবের বাইরে অতিরিক্ত যাচাই প্রয়োজন হতে পারে।
বকেয়া বেতনের হিসাব কীভাবে করা যাবে?
ফরমটিতে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নির্দিষ্ট মাসের বকেয়া হিসাব করার একটি পৃথক সুবিধা রয়েছে। এতে বকেয়া মাসের সংখ্যা সর্বোচ্চ ১২ পর্যন্ত দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বকেয়া নির্ণয়ের জন্য দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ:
১. সংশ্লিষ্ট মাসে ফরম অনুযায়ী প্রাপ্য মোট বেতন।
২. ওই সময়ে কর্মচারী বাস্তবে যে মোট বেতন উত্তোলন করেছেন।
ফরমটির সূত্র অনুযায়ী, মাসিক বকেয়া নির্ধারণ করা হয় প্রাপ্য বেতন থেকে উত্তোলিত মোট বেতন বাদ দিয়ে। এরপর সংশ্লিষ্ট মাসগুলোর পার্থক্য যোগ করে মোট বকেয়া হিসাব করা হয়।
উদাহরণ হিসেবে, কোনো কর্মচারীর প্রাপ্য মাসিক বেতন ৩০,০০০ টাকা এবং ওই মাসে উত্তোলিত মোট বেতন ২৫,০০০ টাকা হলে, সরল হিসাব অনুযায়ী ওই মাসের পার্থক্য হবে ৫,০০০ টাকা। একই পার্থক্য একাধিক মাসে থাকলে সংশ্লিষ্ট মাসগুলোর হিসাব যোগ করে মোট বকেয়া পাওয়া যাবে।
তবে এটি কেবল গাণিতিক উদাহরণ। প্রকৃত বকেয়া নির্ধারণে মাসভেদে প্রাপ্য বেতন, ইতোমধ্যে উত্তোলিত অর্থ, ভাতা, কর্তন এবং প্রযোজ্য সরকারি নির্দেশনা বিবেচনা করতে হবে।
ফরমটিতে আরও বলা হয়েছে, উত্তোলিত বেতনের ঘর ফাঁকা রাখলে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মোট বেতনকে ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হবে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ইনক্রিমেন্ট বা অন্য কোনো কারণে উত্তোলিত বেতন পরিবর্তিত হয়ে থাকলে প্রকৃত অঙ্কটি দিতে হবে।
এ কারণে বকেয়া নির্ধারণের সময় বেতন বিল ও উত্তোলনের তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফরমে কর্মচারীর তথ্য সংরক্ষণ ও প্রিন্টের সুবিধা
HTML ফরমটিতে কর্মচারীর ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ, পদবি ও অফিসের তালিকা ব্যবস্থাপনা এবং বেতনস্কেলের ধাপ সম্পাদনার সুবিধা রাখা হয়েছে।
এতে কর্মচারীর নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, পদবি, অফিস, মোবাইল নম্বর, জন্মতারিখ, চাকরিতে প্রথম যোগদানের তারিখ এবং যোগদানের সময়কার গ্রেড সংরক্ষণ করা যায়।
এ ছাড়া ফরমে প্রস্তুত করা বেতন নির্ধারণী বিবরণী A4 কাগজে প্রিন্ট অথবা PDF হিসেবে সংরক্ষণের সুবিধা রয়েছে। প্রয়োজন হলে কর্মচারীর তথ্য ও অন্যান্য তালিকার ব্যাকআপও ডাউনলোড করা যায়।
তবে ফরমটির কোড অনুযায়ী, সংরক্ষিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্রাউজারের স্থানীয় স্টোরেজে থাকে। ফলে ব্রাউজারের ডেটা মুছে গেলে তথ্য হারিয়ে যেতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণ করলে নিয়মিত ব্যাকআপ রাখা প্রয়োজন।
ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, মোবাইল নম্বর ও চাকরির তথ্য অনিরাপদ বা অন্যের সঙ্গে শেয়ার করা কম্পিউটারে সংরক্ষণ না করাই ভালো।
iBAS++-এর সঙ্গে এই ফরমের সম্পর্ক কী?
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। আপলোড করা HTML ফাইলের ভেতরেই উল্লেখ রয়েছে যে এটি সহায়ক হিসাব তৈরির জন্য ব্যবহৃত হবে। অফিসিয়াল বেতন নির্ধারণ ও প্রতিপাদনের কাজ iBAS++ বা অনুমোদিত পে-ফিক্সেশন ব্যবস্থায় সম্পন্ন করতে হবে।
অর্থাৎ, ফরমে হিসাব তৈরি হওয়া মানেই সরকারি বেতন নির্ধারণ চূড়ান্ত হয়েছে—এমন নয়। একইভাবে ফরমে ‘চূড়ান্ত’ নির্বাচন করলেও সেটি সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের বিকল্প নয়।
ফরমটির কোডে ‘গেজেট এস.আর.ও. ৩৪৭-আইন/২০২৬’ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শুধু HTML ফাইলে এই রেফারেন্স থাকার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট গেজেটের সত্যতা, পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু বা ফরমের সব হিসাবের সরকারি অনুমোদন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে সরকারি গেজেটের মূল কপি যাচাই করা প্রয়োজন।
বেতন নির্ধারণের আগে কর্মচারীদের করণীয়
বেতন নির্ধারণে ভুল এড়াতে সরকারি কর্মচারীদের কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
প্রথমত, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন ও প্রযোজ্য ব্যক্তিগত বেতনের তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, নিজের গ্রেড ও প্রাপ্য বেতনধাপ সংশ্লিষ্ট সরকারি স্কেলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।
তৃতীয়ত, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের তারিখ, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড এবং অন্যান্য চাকরিগত সুবিধার তথ্য সঠিকভাবে বিবেচনা করতে হবে।
চতুর্থত, বকেয়া নির্ধারণের সময় প্রতিটি মাসে বাস্তবে উত্তোলিত বেতন এবং প্রাপ্য বেতনের পার্থক্য যাচাই করতে হবে।
পঞ্চমত, স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হিসাবকে চূড়ান্ত না ধরে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস, আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা বা অনুমোদিত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে।
শেষ কথা
জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের হিসাব বুঝতে এবং সম্ভাব্য বকেয়ার পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা পেতে প্রস্তুত করা HTML ফরমটি একটি সহায়ক ডিজিটাল উপকরণ। এতে গ্রেড নির্বাচন, মূল বেতন ইনপুট, ইনক্রিমেন্টসহ বেতন নির্ধারণ, ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধির হিসাব এবং বকেয়া গণনার সুবিধা রয়েছে।
তবে ফরমটিতে ব্যবহৃত বেতনস্কেল, সর্বোচ্চ বেতনের তথ্য, বৃদ্ধির হার এবং কার্যকর তারিখগুলো সরকারি গেজেটের সঙ্গে যাচাই না করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। সরকারি কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—নিজের চাকরির রেকর্ড ও প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী সঠিক বেতন নির্ধারণ নিশ্চিত করা এবং অনুমোদিত ব্যবস্থায় চূড়ান্ত প্রতিপাদন সম্পন্ন করা।



