পে-স্কেল প্রকাশের দাবিতে ঢাবি চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারীদের সংবাদ সম্মেলন আজ
নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে রাজপথে নামছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারীরা। আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করতে আজ বিকাল ৪:০০ টায় এক সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী সমিতি।
সংবাদ সম্মেলনের বিস্তারিত:
সময়: আজ বিকাল ৪:০০ ঘটিকা।
স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী সমিতি কার্যালয় (নীলক্ষেত মোড়, বেনবেজের বিপরীতে)।
আহ্বায়ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী সমিতি।
পটভূমি ও প্রত্যাশা
দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীরা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছেন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা মনে করছেন, বর্তমান বেতন কাঠামো দিয়ে জীবনযাত্রা নির্বাহ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় তারা হতাশ। আজকের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন এবং দাবি আদায়ে কঠোর কোনো কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্দোলনের লক্ষ্য
১. অনতিবিলম্বে নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা।
২. দ্রব্যমূল্যের সাথে সঙ্গতি রেখে অন্তর্বর্তীকালীন মহার্ঘ ভাতা নিশ্চিত করা।
৩. কর্মচারীদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিবেচনা করা।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সকল সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ কর্মচারীদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন। এই সংবাদ সম্মেলনের পর থেকেই নতুন ধাপের আন্দোলনের সূচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।
কোথায় আসতে হবে সবাইকে?
সংবাদ সম্মেলনের জন্য সবাইকে নিম্নলিখিত স্থানে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে: স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী সমিতি কার্যালয়। ঠিকানা: নীলক্ষেত মোড় (বেনবেজ-এর বিপরীত পাশে), ঢাকা। সময়: আজ বিকাল ৪:০০ টায়।
কেন সংবাদ সম্মেলন ডাকতে হচ্ছে?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী সমিতিকে মূলত পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশে বিলম্ব এবং ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে না পারার সংকট থেকে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকতে হচ্ছে।
তথ্যাদি বিশ্লেষণ করলে সংবাদ সম্মেলন ডাকার প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশে বিলম্ব: সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল নতুন (নবম) পে-স্কেল ঘোষণা করা। সরকার ইতিপূর্বে বিভিন্ন আশ্বাস দিলেও এখনো গেজেট প্রকাশিত হয়নি। কর্মচারীদের মতে, এই গেজেট প্রকাশ না হওয়া তাদের প্রতি এক ধরনের অবহেলা।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি: বর্তমান বাজারে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের বর্তমান বেতন দিয়ে মাস চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তারা মনে করছেন, দ্রুত পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হলে তারা পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করবেন।
বেতন বৈষম্য নিরসন: বর্তমান বেতন কাঠামোতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তুলনায় নিম্নপদের কর্মচারীদের বেতনের ব্যবধান বা বৈষম্য অনেক বেশি। এই বৈষম্য কমিয়ে একটি সম্মানজনক বেতন কাঠামো নির্ধারণের দাবি দীর্ঘদিনের।
পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা: শুধু দাবি জানিয়ে ফল না আসায়, এখন রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। আজকের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা ধর্মঘট, মানববন্ধন বা ঘেরাও কর্মসূচির মতো বড় কোনো আন্দোলনের ডাক দেবেন, যাতে সরকার বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।
মূলত, দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় এবং নিজেদের অধিকার আদায়ের শেষ চেষ্টা হিসেবেই তারা আজ বিকাল ৪টায় সাংবাদিকদের সামনে নিজেদের দুঃখ-দুর্দশা ও আন্দোলনের পরিকল্পনা তুলে ধরবেন।



