বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে কৃচ্ছ্রসাধন ২০২৬ । সরকারি ব্যয়ে বড় কাটছাঁট ও স্থগিতাদেশ করেছে সরকার?
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধজনিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সরকারি ব্যয়ে কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ রোববার (৫ এপ্রিল ২০২৬) এক বিশেষ পরিপত্রের মাধ্যমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের বেশ কিছু খাতের ব্যয় স্থগিত ও সীমিত করার নির্দেশনা জারি করেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এই আদেশে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের অবশিষ্ট সময়ের জন্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত ও সংবিধিবদ্ধসহ সকল রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
যেসব খাতে ব্যয় স্থগিত করা হয়েছে:
পবরিপত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী নিম্নোক্ত খাতগুলোতে অর্থ ব্যয় আপাতত পুরোপুরি বন্ধ থাকবে:
যানবাহন ক্রয়: সকল প্রকার মোটরযান, জলযান ও আকাশযান ক্রয় বন্ধ থাকবে।
কম্পিউটার ও সরঞ্জাম: কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক খাতের বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় করা যাবে না।
বিদেশি প্রশিক্ষণ: সরকারি অর্থায়নে সকল প্রকার বিদেশি প্রশিক্ষণ, সেমিনার বা কর্মশালায় অংশগ্রহণ বন্ধ থাকবে।
ভূমি অধিগ্রহণ: পরিচালন বাজেটের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ খাত থেকে কোনো অর্থ ব্যয় করা যাবে না।
বিশেষ অগ্রিম: সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদভুক্ত বিশেষ অগ্রিম (লোন) প্রদান আপাতত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
খরচে সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ (৫০% থেকে ৮০%):
বাজেটের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে খরচের লাগাম টেনে ধরা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু খাতে বরাদ্দের একটি অংশ মাত্র ব্যয় করা যাবে:
আপ্যায়ন ব্যয়: বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে।
অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ও শোভাবর্ধন: অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ এবং অফিস বা ভবনের অভ্যন্তরীণ শোভাবর্ধন খাতে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ অর্থ ব্যয় করা যাবে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি: বিদ্যুৎ, পেট্রোল, অয়েল, লুব্রিকেন্ট এবং গ্যাস ও জ্বালানি খাতে অবশিষ্ট বরাদ্দের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ ব্যয় করা সম্ভব হবে। এর অতিরিক্ত কোনো বকেয়া দাবি ভবিষ্যতে করা যাবে না।
সেমিনার ও কনফারেন্স: এই খাতে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে, তবে আপ্যায়নের ক্ষেত্রে তা বরাদ্দের ৫০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।
ভবন নির্মাণে কড়াকড়ি:
আবাসিক ও অনাবাসিক ভবন স্থাপনের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, যদি কোনো চলমান প্রকল্পের কাজ ন্যূনতম ৭০ শতাংশ শেষ হয়ে থাকে, তবেই অর্থ বিভাগের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে বাকি অর্থ ব্যয় করা যাবে।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে উদ্ভূত অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।




