সর্বশেষ প্রকাশিত পোস্টসমূহ

শৃঙ্খলামূলক মামলা দুই মাসের মধ্যেই নিষ্পত্তি করতে হবে: ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের

দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অযথা জটিলতা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে কোনো ব্যাংক কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক মামলা বা বিভাগীয় কার্যক্রম বিবেচনাধীন থাকলে তা চাকরি বিধি অনুযায়ী অবশ্যই দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে

রোববার (২৬ জুলাই ২০২৬) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি-১) এ সংক্রান্ত একটি বিআরপিডি সার্কুলার লেটার নং-২৪ জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) কাছে পাঠিয়েছে।

কী বলা হয়েছে নির্দেশনায়?

সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৫ সালের ৪ মে জারি করা বিআরপিডি সার্কুলার লেটার নং-০৬-এর মাধ্যমে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে একটি নীতিমালা কার্যকর রয়েছে।

তবে বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংকে শৃঙ্খলামূলক অভিযোগ বা বিভাগীয় মামলার নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পূর্বের নির্দেশনার একটি বিধান সংশোধন করা হয়েছে। নতুন সংশোধিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে—

“যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক মামলা বিবেচনাধীন থাকে, সেক্ষেত্রে চাকরি বিধি মোতাবেক ওই মামলা দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তিযোগ্য হতে হবে।”

এছাড়া সার্কুলারে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালের পূর্ববর্তী নির্দেশনার অন্যান্য সব বিধান অপরিবর্তিত থাকবে। এই নির্দেশনা ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

কেন এ নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ?

ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল, অনেক কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক মামলা বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখা হয়। ফলে তারা অন্য কোনো ব্যাংকে চাকরির সুযোগ পেলেও মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় যোগদান করতে পারেন না। এতে ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায়ও অস্বচ্ছতা তৈরি হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা কার্যকর হলে—

  • শৃঙ্খলামূলক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত হবে।
  • কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অযথা বিলম্ব কমবে।
  • ব্যাংকগুলোর মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা ও সুশাসন বাড়বে।
  • বিভাগীয় মামলা দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখার প্রবণতা কমবে।
  • নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা আরও শক্তিশালী হবে।

ব্যাংকগুলোর জন্য কী বার্তা?

নতুন নির্দেশনার ফলে দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে এখন বিভাগীয় মামলা পরিচালনায় নির্ধারিত সময়সীমা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা অনির্দিষ্টকাল ঝুলিয়ে না রেখে চাকরি বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত ব্যাংকিং খাতে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

সোর্স

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *