সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকবে শপিংমল ও দোকানপাট : নতুন নির্দেশনা জারি
সারাদেশের শপিংমল, মার্কেট ও দোকানসমূহ এখন থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কড়াকড়ির প্রেক্ষাপটে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর আবেদনের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আজ (৫ এপ্রিল, ২০২৬) বিদ্যুৎ বিভাগের উন্নয়ন-১ শাখা থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। উপ-সচিব মোহাম্মদ সোলায়মান স্বাক্ষরিত এই আদেশে বলা হয়েছে, ৪ এপ্রিল ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এক সভায় এই সম্মতি প্রদান করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনের মূল বিষয়সমূহ:
সময়সীমা: দেশের সকল শপিংমল, মার্কেট ও দোকানসমূহ সন্ধ্যা ০৭:০০ ঘটিকা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
মেলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্যতা: বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান এবং অনুষ্ঠিতব্য মেলা, বাণিজ্য মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও এই একই সময়সীমা (সন্ধ্যা ৭টা) কার্যকর হবে।
বিলবোর্ড বন্ধের নির্দেশ: বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সকল বিলবোর্ডের বাতি আবশ্যিকভাবে সন্ধ্যা ০৭:০০ টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাস্তবায়ন: বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট:
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে সরকার সম্প্রতি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিভিন্ন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর আগে দোকানপাট সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতিসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন জানান। ব্যবসায়ীদের লোকসানের আশঙ্কা এবং জনভোগান্তির কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা করার অনুমোদন দেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে গুরুত্ব:
সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এই সিদ্ধান্ত সাময়িক। সন্ধ্যা ৭টার পর আলোকসজ্জা ও অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধ রাখতে ব্যবসায়ীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। জরুরি সেবাসমূহ (যেমন: হাসপাতাল, ফার্মেসি ইত্যাদি) এই নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে।
এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল দফতর, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এবং সকল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিকে (ডিপিডিসি, ডেসকো, ওজোপাদিকো, নেসকো) অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে।
সূত্র: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় (বিদ্যুৎ বিভাগ)।




