১৯৩৭ সালের সম্পত্তির উপর হিন্দু নারীর অধিকার প্রবর্তিত হবার পর মৃতের বিধবা, পুত্রের বিধবা এবং পৌত্রের বিধবা উত্তরাধিকার পায়, এভাবে প্রথম যে ছয়জন মৃতের সম্পত্তির উত্তরাধিকার পায়-যেমন-পুত্র, পৌত্র অর্থাৎ নাতি, প্রপৌত্র অর্থাৎ নাতির পুত্র, মৃতের বিধবা স্ত্রী।

স্ত্রী কখন সম্পত্তি বঞ্চিত হউন? হিন্দু উত্তরাধীকার আইনে অসতী বিধবা স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির উত্তরাধীকার হতে বঞ্চিত হন। তবে মৃতের বিধবা স্ত্রী আইন সঙ্গতভাবে সম্পত্তি পাওয়ার পর অসতী হলে প্রাপ্ত সম্পত্তি হতে বঞ্চিত হবেন না। অসতীত্বের কারনে কন্যা তার মৃত পিতার সম্পত্তির উত্তরাধীকার হতে এবং মাতা তার মৃত পূত্রের সম্পত্তির উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হন। তবে অসতীত্বের কারনে কোন নারী, মৃত কোন স্ত্রী-লোকের সম্পত্তির উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হবেন না। কোন হিন্দু লোক ধর্মান্তরিত হলে এ আইন অনুসারে তিনি উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হবেন। মৃতের হত্যাকারী এবং তার ওয়ারিশগণ মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হবেন।

কয়টি পদ্ধতিতে উত্তরাধিকার নির্ণয় করা হয়? হিন্দু আইনে মৃতের সম্পত্তির উত্তরাধীকার বিষয়ে দুই ধরনের উত্তরাধীকার পদ্ধতি চালু আছে যেমন- (ক) মিতক্ষরা পদ্ধতি, (খ) দায়ভাগ পদ্ধতি। বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দু ধর্মীয় লোকজন মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বন্টনের ক্ষেত্রে দায়ভাগ পদ্ধতি অনুসরণ করেন। দায়ভাগ মূলত জীমূতবাহন রচিত হিন্দু ধর্মীয় সম্পত্তির উত্তরাধীকার বিষয়ক আইন গ্রন্থ। এ আইনগ্রন্থ অনুযায়ী, যারা মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যানের জন্য পিণ্ডদানের অধিকারী, কেবলমাত্র তারাই মৃত ব্যক্তির সপিণ্ড এবং যোগ্য উত্তরাধিকারী হিসেবে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি পেয়ে থাকেন। মিতক্ষরা পদ্ধতি অনুসারে জন্ম হওয়ামাত্রই যেমন একজন পুত্র সন্তান পূর্ব পুরুষের সম্পত্তিতে পিতার সমান অংশীদারী হন, দায়ভাগ আইনে তেমনটা হয় না।

হিন্দু আইনে দত্তক নেয়া কি বৈধ? হ্যাঁ। একমাত্র হিন্দু ধর্মে দত্তক পুত্র গ্রহনের বিধান আছে। পিন্ডদানকারী পুত্র, পুত্রের পুত্র (পৌত্র বা নাতি) কিংবা পুত্রের পুত্রের পুত্র (প্রপৌত্র বা পুতি) না থাকলে পিন্ডদানের জন্য কিংবা সামাজিক কারণে নিজ বংশের ধারাকে অব্যাহত রাখার জন্য ৯ (নয়) বছরের উর্ধে নয় এমন পুত্র সন্তানকে দত্তক নেয়া যায়। দত্তকগ্রহনকারীর মৃত্যুর পর মৃতের দত্তক পুত্র মৃতের ঔরসজাত পুত্রের (১/৩) তিন ভাগের এক ভাগ সম্পত্তি পাবেন। হিন্দু দায়ভাগ আইনে কোন সন্ন্যাসী ব্যক্তি উত্তরাধিকার হন না। এ আইনে সন্ন্যাসী ব্যক্তিকে মৃত ধরা হয় এবং তিনি সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হন। মৃত ব্যক্তির অন্ধ, বধির, মূক, অঙ্গহীন, পুরুষত্বহীন বা হাবাগোবা, পুরুষ ও মহিলা ওয়ারিশ থাকলে হিন্দু আইনে এমন ব্যক্তিগণ উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হবেন। আইনের দৃষ্টিতে এমন ব্যক্তিগণকে মৃত হিসেবে বিবেচনা করে তাদের সন্তানগণ পিতামহ ও পিতামহীর সম্পদে উত্তরাধিকারী হন।

হিন্দু বিধবা নারীর সম্পত্তিতে অধিকার আইন । বিবাহ করলে সম্পত্তির অধিকার হারায়?

স্বামীর মৃত্যুর পর কোন হিন্দু মহিলা দ্বিতীয় বিবাহ করলে তিনি মৃত স্বামীর সম্পত্তি পাবেন না অর্থাৎ কোন হিন্দু-বিধবা মহিলা পুনরায় বিবাহ করলে তাকে তার পূর্বের স্বামীর নিকট থেকে প্রাপ্ত সম্পত্তি মৃত স্বামীর জীবিত অন্যান্য ওয়ারিশের নিকট ছেড়ে দিতে হয়।

সম্পত্তিতে-হিন্দু-মহিলার-অধিকার-আইন,-১৯৩৭

সম্পত্তিতে হিন্দু-মহিলার অধিকার আইন ১৯৩৭ PDF Download

সর্বোচ্চ কত জন সম্পত্তি উত্তরাধিকার হয়?  মোট ৫৩ জন সপিন্ডগণের তালিকা 

  • পুত্র
  • পুত্রের পুত্র
  • পুত্রের পুত্রের পুত্র
  • স্ত্রী, পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের পুত্রের স্ত্রী।
  • কন্যা
  • কন্যার পুত্র
  • পিতা
  • মাতা
  • ভাই, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই।
  • ভাই এর পুত্র, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই এর পুত্র
  • ভাই এর পুত্রের পুত্র, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই এর পুত্রের পুত্র।
  • বোনের পুত্র
  • পিতার পিতা
  • পিতার মাতা
  • পিতার ভাই
  • পিতার ভাইয়ের পুত্র
  • পিতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র
  • পিতার বোনের পুত্র
  • পিতার পিতার পিতা
  • পিতার পিতার মাতা
  • পিতার পিতার ভাই
  • পিতার পিতার ভাইয়ের পুত্র
  • পিতার পিতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র
  • পিতার পিসির পুত্র
  • পুত্রের কন্যার পুত্র
  • পুত্রের পুত্রের কন্যার পুত্র
  • ভাইয়ের কন্যার পুত্র
  • ভাইয়ের পুত্রের কন্যার পুত্র
  • খুড়ার কন্যার পুত্র
  • খুড়ার পুত্রের কন্যার পুত্র
  • পিতার খুড়ার কন্যার পুত্র
  • পিতার খুড়ার পুত্রের কন্যার পুত্র
  • মাতার পিতা (নানা)
  • মাতার ভাই (মামা)
  • মাতার ভাইয়ের পুত্র (মামার পুত্র)
  • মাতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র (মামার পুত্রের পুত্র)
  • মাতার বোনের পুত্র (মাসির পুত্র)
  • মাতার পিতার পিতা
  • মাতার পিতার ভাই
  • মাতার পিতার ভাইয়ের পুত্র
  • মাতার পিতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র
  • মাতার পিতার বোনের পুত্রের পুত্র
  • মাতার পিতার পিতার পিতা
  • মাতার পিতার পিতার ভাই।
  • মাতার পিতার পিতার ভাইয়ের পুত্র
  • মাতার পিতার পিতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র
  • মাতার পিতার পিতার বোনের পুত্র
  • মাতার ভাইয়ের কন্যার পুত্র
  • মাতার ভাইয়ের পুত্রের কন্যার পুত্র
  • মাতার পিতার ভাইয়ের কন্যার পুত্র
  • মাতার পিতার ভাইয়ের পুত্রের কন্যার পুত্র
  • মাতার পিতার পিতার ভাইয়ের কন্যার পুত্র
  • মাতার পিতার পিতার ভাইয়ের পুত্রের কন্যার পুত্র

মোট ৫৩টি শ্রেণির সপিণ্ডের মধ্যে মহিলা শ্রেণী ৫ টি। স্ত্রী, পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের পুত্রের স্ত্রী (তালিকায় যার স্থান ৪র্থ)। কন্যা (তালিকায় যার স্থান ৫ম)। মাতা (তালিকায় যার স্থান ৮ম)। পিতার মাতা (তালিকায় যার স্থান ১৪ তম)। পিতার পিতার মাতা ( তালিকায় যার স্থান ২০ তম)। এই ৫ শ্রেণীর মহিলা কোন সম্পত্তি পেলেও সীমিত কিছু শর্ত (যেমন- মৃতের দাহ ও শ্রাদ্ধ, মৃতের কৃত ঋণ পরিশোধ, নাবালক সন্তানের ভরণ-পোষণ, শিক্ষা, চিকিৎসা ব্যয় পরিচালনা; দূরবর্তী সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ অসম্ভব হলে, প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ের বিবাহের খরচ পরিচালনা ইত্যাদি) ছাড়া তা হস্তান্তর করতে পারে না। তারা মুলত জীবনস্বত্ব ভোগ করতে পারে (যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিন প্রাপ্ত সম্পত্তির দখল ভোগ করবেন)। তাদের মৃত্যুর পর সম্পত্তি পূর্ব মূল মালিকের কাছে ফিরে যাবে, যা পূর্ব মূল মালিকের নিকটস্থ সপিন্ড পাবেন। কোন পুরুষ উত্তরাধিকারী সম্পত্তি না পাওয়া পর্যন্ত এভাবে সম্পত্তি বারবার মৃত মূল মালিকের কাছে ফিরে যাবে। দায়ভাগ আইনে স্বামীর মৃত্যুর পর নাবালক সন্তানের লালন-পালনের জন্য স্ত্রী নাবালকের স্বাভাবিক অভিভাবক নিযুক্ত হন এবং নাবালকের স্বার্থে সীমিত বিশেষ কারণে নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন।

কন্যা সন্তান কখন সম্পত্তি পাবে?

১ থেকে ৪ নম্বর ক্রমিক পর্যন্ত কেউ জীবিত না থাকলে (৫ নম্বর ক্রমিকের) কন্যা সম্পত্তি পাবে। কন্যাদের মধ্যে কুমারী কন্যার দাবী অগ্রগণ্য, এরপর পুত্রবতী বা পুত্র সম্ভবা কন্যাদের দাবী। কন্যা উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি পেলে তার মৃত্যুতে তার পুত্র সন্তান সম্পত্তি পাবে। মৃত ব্যক্তির স্ত্রী না থাকলে, এক বা একাধিক পুত্র থাকলে পুত্রই সমুদয় সম্পত্তি পাবেন। এ আইনের বিধান অনুসারে, নিকটবর্তী পুরুষ ওয়ারিশ থাকলে পরবর্তীরা সম্পত্তি পাবেন না, যেমন পুত্র থাকলে পুত্রের-পুত্র সম্পত্তি পাবেন না। মৃত ব্যক্তির একই সাথে পুত্র ও স্ত্রী জীবিত থাকলে, মৃতের বিধবা স্ত্রী এক পুত্রের সমান অংশ পাবে। একাধিক স্ত্রী থাকলে স্ত্রীর অংশ বিধবা স্ত্রীদের মধ্যে তুলাংশে বন্টন হবে। মৃতের স্ত্রী যেরূপ অংশ পাবেন, জীবিত থাকলে পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের স্ত্রী কিংবা পুত্রের পুত্রের পুত্রের স্ত্রীও অনুরূপ অংশ পাবেন।

দায়ভাগ আইনে মৃত ব্যক্তির জীবিত উত্তরাধীকারীগণের মধ্যে সম্পত্তি বন্টনের সময় যদি কোন উত্তরাধীকারী মৃত থাকেন, তবে মৃত ব্যক্তির জীবিত ওয়ারিশগণ সম্পত্তির উত্তরাধীকারী হবেন। স্বামীর মৃত্যুর পর মৃতের জীবিত স্ত্রী মৃতের সম্পত্তিতে জীবনস্বত্ব (Life Interest) ভোগ করেন (যতদিন বেঁচে থাকবেন, মৃতের সম্পত্তির দখল ভোগ করবেন)। তার মৃত্যুর পর তার ভোগ-দখলকৃত সম্পত্তি পুত্রগণ প্রাপ্ত হবেন। পুত্র জীবিত না থাকলে সম্পত্তি মূল মালিকের নিকট ফিরে যাবে।

বিস্তারিত জানতে হিন্দু বিধবা নারীর সম্পত্তিতে অধিকার আইনগুলো দেখুন: ডাউনলোড

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে বিস্তারিত জানতে admin@bdservicerules.info ঠিকানায় মেইল করতে পারেন।

admin has 3001 posts and counting. See all posts by admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *