ই-বুক I এস্টাব্লিশমেন্ট ম্যানুয়েল

চাকরির বিধানাবলী বই ২০২৬ । ফিরোজ মিয়া সম্পুর্ন পিডিএফ সাইজ ৩৭ এমবি ডাউনলোড

প্রজাতন্ত্রের কাজে নিয়োজিত সরকারি কর্মচারীদের পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান বিধিমালাগুলোতে বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও সংশোধনী আনা হয়েছে। ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’ এবং ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ১৯৮৫’ এর ওপর ভিত্তি করে বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে । এই বিধিমালাগুলোর মূল লক্ষ্য হলো একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা।

উপহার গ্রহণ ও আতিথেয়তায় কঠোরতা

সংশোধিত আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া নিকট আত্মীয় বা ব্যক্তিগত বন্ধু ব্যতীত অন্য কারো কাছ থেকে এমন কোনো উপহার গ্রহণ করতে পারবেন না, যা তাকে দাপ্তরিক কাজে উপহারদাতার প্রতি দায়বদ্ধ করে তবে বিয়ের অনুষ্ঠান বা ধর্মীয় উৎসবের মতো সামাজিক অনুষ্ঠানে উপহার গ্রহণ করা গেলেও, তার মূল্য ২৫,০০০ টাকার বেশি হলে সরকারকে অবশ্যই অবহিত করতে হবে এছাড়া সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা মূল্যের উপহার গ্রহণ করতে পারেন বিধিমালায় অযাচিত ও অমিতব্যয়ী আতিথেয়তা পরিহারেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে

যৌতুক ও স্থাবর সম্পত্তি অর্জনে বিধি-নিষেধ

সরকারি কর্মচারীদের জন্য যৌতুক দেওয়া বা নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এমনকি পরোক্ষভাবে যৌতুক দাবি করাও অসদাচরণ হিসেবে গণ্য । স্থাবর সম্পত্তি অর্জন বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ম আরোপ করা হয়েছে। ২,৫০,০০০ টাকার অধিক মূল্যের সম্পত্তি ক্রয় বা বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বিভাগীয় প্রধান বা সচিবের মাধ্যমে সরকারকে অবহিত করতে হবে এছাড়া ভবন বা ফ্ল্যাট নির্মাণের ক্ষেত্রে অর্থের উৎস উল্লেখ করে সরকারের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে

রাজনীতি ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ

সরকারি কর্মচারীরা কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারবেন না এবং দেশে বা বিদেশে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন না এমনকি জাতীয় সংসদ বা স্থানীয় কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া বা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া তাদের জন্য কঠোরভাবে নিষিদ্ধ তবে স্বামী বা স্ত্রী যদি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে সরকারকে তা লিখিতভাবে জানাতে হবে

শৃঙ্খলা ও দণ্ডের বিধান

১৯৮৫ সালের শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা অনুযায়ী, অসদাচরণ, অদক্ষতা, দুর্নীতি বা নাশকতামূলক কাজে লিপ্ত হওয়ার দায়ে কর্মচারীদের ওপর লঘুদণ্ড ও গুরুদণ্ড আরোপ করা হতে পারে লঘুদণ্ডের মধ্যে রয়েছে তিরস্কার, পদোন্নতি স্থগিত বা বেতন হ্রাস গুরুদণ্ডের ক্ষেত্রে পদাবনতি, বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরি হতে অপসারণ বা বরখাস্তের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয় বিশেষ বিধান অধ্যাদেশ অনুযায়ী, শৃঙ্খলা বিঘ্নিতকারী কাজের জন্য শুনানি ছাড়াই দণ্ড দেওয়ার সুযোগ রয়েছে

সময়ানুবর্তিতা ও নিয়মিত উপস্থিতি

১৯৮২ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী, অফিসে দেরিতে উপস্থিত হওয়া বা অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকার জন্য একদিনের মূল বেতন কাটার বিধান রয়েছে প্রতি দুই দিন দেরিতে উপস্থিতির জন্য এক দিনের বেতন কর্তন করার নিয়ম করা হয়েছে এমনকি যানবাহন নষ্ট হওয়া বা ব্যক্তিগত সমস্যার অজুহাতও এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়

অবসর ও পরবর্তী সুবিধাদি

সাধারণ সরকারি কর্মচারীদের জন্য অবসরের বয়স ৫৯ বছর এবং মুক্তিযোদ্ধা কর্মচারীদের জন্য ৬০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ বছর চাকরি পূর্ণ হওয়ার পর যেকোনো কর্মচারী স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করতে পারেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরা আজীবন পেনশন, আনুতোষিক (গ্রেচুইটি) এবং চিকিৎসা সুবিধা প্রাপ্য হন পেনশন সহজীকরণ নীতিমালার মাধ্যমে এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পেনশন কেস নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে

চাকরির বিধানাবলী -ফিরোজ মিয়া সম্পুর্ন পিডিএফ, সাইজঃ ৩৭ এমবি

author avatar
admin
আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *