৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬: ডিডিওর ফরওয়ার্ডের পর হিসাবরক্ষণ অফিসে চূড়ান্ত পে-ফিকেশন অনুমোদন শুরু, স্বাক্ষর নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ বা পে-ফিকেশন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসের যাচাই ও অনুমোদন। ডিডিও (Drawing and Disbursing Officer) অনলাইনে বেতন নির্ধারণী বিবরণী ফরওয়ার্ড করার পর সেটি হিসাবরক্ষণ অফিসে যাচাইয়ের জন্য পৌঁছানোর কথা। এরপর তথ্য সঠিক প্রতীয়মান হলে অনলাইনে অনুমোদন এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেরিফিকেশন নম্বর তৈরির বিধান রয়েছে।

তবে পে-ফিকেশনের স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হওয়া বিবরণীতে হিসাবরক্ষণ অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীর ম্যানুয়াল স্বাক্ষর প্রয়োজন না হওয়ার বিধান থাকা সত্ত্বেও, বাস্তবে ডিডিও ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার স্বাক্ষর চাওয়া হচ্ছে বলে কয়েকজন কর্মচারীর অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে। এতে নতুন বেতন নির্ধারণের অনুমোদনপ্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর গেজেটের অনুচ্ছেদ ৩২-এর উপধারা (৬), (৭) ও (৮)-এ বেতন নির্ধারণী বিবরণী ফরওয়ার্ড, অনলাইন যাচাই, অনুমোদন, ভেরিফিকেশন নম্বর তৈরি এবং সার্ভিস বহিতে তথ্য লিপিবদ্ধ করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে। এসব বিধান বিশ্লেষণ করলে পে-ফিকেশনের কোন ধাপে কী হওয়ার কথা, তা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।

১০ তারিখে ডিডিও ফরওয়ার্ড করলে এখন কী অবস্থায় থাকতে পারে?

যেসব সরকারি কর্মচারীর বেতন নির্ধারণী বিবরণী ডিডিও ইতোমধ্যে হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো হিসাবরক্ষণ অফিসের যাচাই ও অনুমোদন। ৫ অক্টোবর প্রকাশিত অর্থ বিভাগের জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-সংক্রান্ত পাতা এবং পে-ফিকেশন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশিত নির্দেশনাভিত্তিক প্রতিবেদনে অনলাইন যাচাই ও অনুমোদনের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

আপনার বেতন নির্ধারণী বিবরণী ১০ অক্টোবর ফরওয়ার্ড করা হয়ে থাকলে সেটি হিসাবরক্ষণ অফিসে পৌঁছানোর কথা। তবে শুধু ফরওয়ার্ড হওয়ার তারিখ থেকে আপনার নির্দিষ্ট বিবরণী যাচাই হয়েছে, অনুমোদিত হয়েছে কিংবা ভেরিফিকেশন নম্বর তৈরি হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।

গেজেটের অনুচ্ছেদ ৩২-এ কী বলা হয়েছে?

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর অনুচ্ছেদ ৩২-এর সংশ্লিষ্ট উপধারাগুলোতে দায়িত্বগুলো আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

১. ডিডিওর দায়িত্ব: উপধারা (৬)

গেজেটেড সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণী বিবরণী হিসাবরক্ষণ অফিসে ফরওয়ার্ড করতে হবে। নন-গেজেটেড কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সার্ভিস বহি অনুযায়ী পূর্ববর্তী চাকরি ও বেতনের তথ্য সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। এরপর iBAS++ থেকে বিবরণী প্রিন্ট করে সার্ভিস বহিসহ হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠাতে হবে।

২. হিসাবরক্ষণ অফিসের দায়িত্ব: উপধারা (৭)

অনলাইনে দাখিল করা বিবরণী সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসে পৌঁছানোর কথা। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী তথ্য যাচাই করে সঠিক মনে করলে অনলাইনে প্রতিপাদন করবেন। অনুমোদনের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেরিফিকেশন নম্বর তৈরি হবে।

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গেজেটের ভাষ্য অনুযায়ী অনলাইন বেতন নির্ধারণী বিবরণীতে হিসাবরক্ষণ অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীর ম্যানুয়াল স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে না।

৩. সার্ভিস বহি ও অডিট রেজিস্টারে স্বাক্ষর: উপধারা (৮)

এই উপধারায় নথিভুক্তকরণ ও স্বাক্ষরের বিষয়টি রয়েছে।

  • নন-গেজেটেড কর্মচারী: ডিডিওর এন্ট্রি যাচাই করে সার্ভিস বহিতে ভেরিফিকেশন নম্বর ও নির্ধারিত বেতন লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং সেখানে স্বাক্ষর করতে হবে।

  • গেজেটেড কর্মকর্তা: নির্ধারিত বেতন ও ভেরিফিকেশন নম্বর অডিট রেজিস্টারের মানি-কলামে লিপিবদ্ধ করে স্বাক্ষর করতে হবে।

অর্থাৎ অনলাইন বিবরণীতে স্বাক্ষর না লাগার বিধান এবং সার্ভিস বহি বা অডিট রেজিস্টারে স্বাক্ষরের বিধান এক বিষয় নয়। এ পার্থক্যটি না বুঝলে পে-ফিকেশন প্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

বাস্তবে স্বাক্ষর চাওয়া হলে কী বোঝা যাবে?

কর্মচারীদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দাবি করা হচ্ছে, কোনো কোনো হিসাবরক্ষণ অফিস বা এজি অফিস ডিডিওর স্বাক্ষর এবং হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার স্বাক্ষরযুক্ত কপি চাইছে। এ ধরনের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সব হিসাবরক্ষণ অফিসে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো যাচাইকৃত তথ্য এখানে নেই।

এ ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় আলাদা করে দেখতে হবে।

প্রথমত, হিসাবরক্ষণ অফিস যদি সার্ভিস বহি, অডিট রেজিস্টার কিংবা দাপ্তরিক নথিতে স্বাক্ষর চায়, সেটিকে অনলাইন বিবরণীতে স্বাক্ষর চাওয়ার সঙ্গে এক করে দেখা যাবে না।

দ্বিতীয়ত, iBAS++ থেকে তৈরি অনলাইন বিবরণীতে অতিরিক্ত স্বাক্ষর চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট অফিসের কাছে এর বিধিগত ভিত্তি জানতে চাওয়া যেতে পারে। এটি অনুচ্ছেদ ৩২(৭)-এর স্বাক্ষর-সংক্রান্ত বিধানের সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, কোনো হিসাবরক্ষণ অফিস অতিরিক্ত কাগজপত্র বা স্বাক্ষর চাইছে বলেই সেটি গেজেটের বিধান অমান্য করছে—এমন চূড়ান্ত অভিযোগ করার আগে তাদের লিখিত নির্দেশনা বা চাহিদা যাচাই করা জরুরি।

আপনার পে-ফিকেশন অনুমোদিত হয়েছে কি না, জানবেন যেভাবে

আপনার বিবরণী ১০ অক্টোবর ডিডিও ফরওয়ার্ড করেছেন বলে ধরে নিলে এখন নিচের বিষয়গুলো যাচাই করতে পারেন।

1. iBAS++-এ বিবরণীর বর্তমান অবস্থা কী—ফরওয়ার্ড করা, যাচাইাধীন, নাকি অনুমোদিত।

2. হিসাবরক্ষণ অফিস কোনো তথ্যগত ভুল, সার্ভিস বহির অসংগতি বা অতিরিক্ত নথির প্রয়োজনীয়তা জানিয়েছে কি না।

3. চূড়ান্ত অনুমোদন সম্পন্ন হলে স্বয়ংক্রিয় ভেরিফিকেশন নম্বর তৈরি হয়েছে কি না।

4. নন-গেজেটেড কর্মচারী হলে সার্ভিস বহিতে এবং গেজেটেড কর্মকর্তা হলে প্রযোজ্য অডিট রেজিস্টারে নির্ধারিত বেতন ও ভেরিফিকেশন নম্বর যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে কি না।

5. বিলম্ব হলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসে বিবরণীর বর্তমান অবস্থা ও কোনো আপত্তি রয়েছে কি না, তা জানতে চান।

চূড়ান্ত কথা

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর অনুচ্ছেদ ৩২ অনুযায়ী পে-ফিকেশনের চূড়ান্ত অনুমোদনে হিসাবরক্ষণ অফিসের অনলাইন যাচাই গুরুত্বপূর্ণ। অনুমোদনের পর ভেরিফিকেশন নম্বর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হওয়ার কথা; অনলাইন বিবরণীতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীর ম্যানুয়াল স্বাক্ষর প্রয়োজন নেই। তবে সার্ভিস বহি ও অডিট রেজিস্টারে প্রয়োজনীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করে স্বাক্ষরের বিধান রয়েছে।

আপনার বিবরণী ১০ অক্টোবর ফরওয়ার্ড করা হয়ে থাকলে সেটি অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকতে পারে, কিন্তু নির্দিষ্ট ফাইলের বর্তমান অবস্থা না দেখে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় যে অনুমোদন শুরু হয়েছে বা আপনার ফাইল অনুমোদিত হয়েছে। একইভাবে, কিছু অফিসে স্বাক্ষর চাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে সব অফিসে একই নিয়ম চলছে বলেও নিশ্চিত হওয়া যায় না।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো—অনলাইন বিবরণীর স্বাক্ষর, সার্ভিস বহির স্বাক্ষর এবং চূড়ান্ত অনুমোদন—এই তিনটি বিষয় আলাদা করে বোঝা এবং নিজের ফাইলের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *