সর্বশেষ প্রকাশিত পোস্টসমূহ

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬: পে-ফিক্সেশন, বকেয়া বিল ও পেনশনভোগীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর পে-ফিক্সেশন কার্যক্রম সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় পেনশনভোগীদের ফিক্সেশন প্রক্রিয়া, যেসব ক্ষেত্রে ফিক্সেশন আপাতত করা হবে না, যাদের ফিক্সেশন পরবর্তী সময়ে সম্পন্ন হবে এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বকেয়া বিল প্রস্তুতের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

এ ছাড়া পে-ফিকেশন সম্পন্ন করার আগে জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর, সার্ভিস বুক, পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণী তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি দাপ্তরিক সার্কুলারে এসব নির্দেশনা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নির্দেশনাগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সার্কুলারে বর্ণিত বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে তুলে ধরা হচ্ছে। এটি জাতীয় পর্যায়ে প্রযোজ্য কি না, তা নিশ্চিত করতে মূল সার্কুলারের স্মারক নম্বর, তারিখ ও জারিকারী কর্তৃপক্ষের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

পেনশনভোগীদের পে-ফিক্সেশন হবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে

সার্কুলার অনুযায়ী, পেনশনভোগীদের পে-ফিক্সেশন এবং এরিয়ার বিল আইবাস++ (iBAS++) পদ্ধতিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টস অফিসকে আলাদাভাবে ফিক্সেশন সম্পন্ন করার প্রয়োজন হবে না বলে নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।

তবে পেনশনভোগীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, তাঁদের লাইফ ভেরিফিকেশন বা জীবন যাচাইয়ের তথ্য হালনাগাদ রাখতে হবে। জীবন যাচাইয়ের তথ্য যথাসময়ে হালনাগাদ না থাকলে পেনশন-সংক্রান্ত কার্যক্রমে জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট পেনশনভোগীদের নিজ নিজ পেনশন প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যাচাই সম্পন্ন করা উচিত।

যেসব ক্ষেত্রে পে-ফিকেশন করা হবে না

সার্কুলারে কয়েকটি শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর পে-ফিকেশন না করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

১. সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী।

২. ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে অথবা তার আগে যাঁদের পিআরএল (অবসর-উত্তর ছুটি) শেষ হয়েছে।

৩. যেসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা আইবাস++ ব্যবস্থায় প্রক্রিয়াকরণ করা হয় না।

এ ক্ষেত্রে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার কর্মচারীদের পাশাপাশি সড়ক, গণপূর্ত ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (LGED) মাস্টাররোল ও কার্যভিত্তিক কর্মচারীদের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব শ্রেণির ক্ষেত্রে ফিক্সেশন না হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সার্কুলারের নির্দেশনা হিসেবে বিবেচ্য। কোনো কর্মচারীর ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাঁর চাকরির ধরন, বেতন ব্যবস্থাপনা এবং প্রযোজ্য সরকারি আদেশ যাচাই করা প্রয়োজন।

যাঁদের পে-ফিকেশন পরে সম্পন্ন হবে

সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর পে-ফিকেশন একই সময়ে সম্পন্ন হবে না। সার্কুলারে কয়েকটি বিশেষ পরিস্থিতিতে পরবর্তী সময়ে ফিক্সেশন করার নির্দেশনা রয়েছে।

১. পূর্ববর্তী পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেডের ফিক্সেশন বাকি থাকলে

যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের আগে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর অধীনে পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড পেয়েছেন, কিন্তু আইবাস++-এ সেই অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ সম্পন্ন হয়নি, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রথমে ২০১৫ সালের বেতন স্কেল অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেডের ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে হবে।

এরপর জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী নতুন পে-ফিকেশন করার কথা বলা হয়েছে।

অর্থাৎ, আগের বেতন নির্ধারণের কোনো ধাপ অসম্পূর্ণ থাকলে সেটি নিষ্পত্তি না করে সরাসরি নতুন স্কেলে ফিক্সেশন করলে বেতনের হিসাবের মধ্যে অসংগতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

২. পিআরএলে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফিক্সেশন

যাঁরা ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বা তার পরে পিআরএলে গেছেন, তাঁদের ফিক্সেশন বর্তমানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফিক্সেশন কার্যক্রমের পরে সম্পন্ন করার কথা সার্কুলারে উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া তাঁদের ক্ষেত্রে ফিক্সেশন সম্পন্ন হওয়ার পর সংশোধিত ইএলপিসি (ELPC) ইস্যু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইএলপিসি সাধারণত অবসর ও পেনশন-সংক্রান্ত হিসাব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৩. ইনক্রিমেন্ট স্থগিত থাকলে

যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ইনক্রিমেন্ট স্থগিত রয়েছে, তাঁদের ফিক্সেশনও পরবর্তী সময়ে করার কথা বলা হয়েছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশের প্রভাব, প্রযোজ্য বেতন ধাপ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যাচাই করা প্রয়োজন হতে পারে।

৪. প্রেষণে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী

সার্কুলারে প্রেষণে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফিক্সেশনও পরে করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মূল পদ, প্রেষণকালীন বেতন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রশাসনিক তথ্য যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

পে-ফিকেশনের আগে জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর যাচাই জরুরি

পে-ফিকেশন কার্যক্রমে তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করার জন্য সার্কুলারে জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর ব্যবহারের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পুরোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে

বর্তমানে কর্মরত বা আগে থেকেই আইবাস++ ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী পে-ফিকেশনে ব্যবহৃত জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

এ কারণে ফিক্সেশন শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিশ্চিত হওয়া উচিত যে তাঁদের আগের রেকর্ডের সঙ্গে বর্তমান তথ্যের মিল রয়েছে।

মোবাইল নম্বর হারিয়ে গেলে করণীয়

আগে আইবাস++-এ দেওয়া মোবাইল নম্বর হারিয়ে গেলে, নষ্ট হলে বা সংশ্লিষ্ট সিম পুনরায় সংগ্রহ করা সম্ভব না হলে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

সার্কুলারের নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন সিম সংগ্রহের পর পূর্বে ব্যবহৃত জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ডিডিও ও হিসাবরক্ষণ অফিসের সহায়তায় তথ্য পরিবর্তন করতে হবে।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু নতুন মোবাইল নম্বর ব্যবহার করলেই হবে না; আইবাস++-এ সংরক্ষিত পূর্ববর্তী তথ্যের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে হবে।

নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য আলাদা প্রক্রিয়া

১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বা তার পরে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অফিসের এন্ট্রি ইউজার ও ডিডিওর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে উল্লেখিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রয়োজনীয় তথ্য ও অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার পর পে-ফিকেশন করতে হবে।

নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে নিয়োগের তারিখ, পদবি, বেতন স্কেল, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং আইবাস++-এ অন্তর্ভুক্তির তথ্য সঠিক থাকা বিশেষভাবে জরুরি।

সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পুরোনো স্কেলে বেতন-ভাতা

সার্কুলারে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বেতন-ভাতা জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী পরিশোধিত থাকতে হবে।

এ নির্দেশনার অর্থ হলো, সংশ্লিষ্ট সার্কুলারের প্রেক্ষাপটে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেতন-ভাতার হিসাব পুরোনো স্কেলের ভিত্তিতে সংরক্ষণ ও সমন্বয় করতে হবে। নতুন স্কেলে ফিক্সেশন সম্পন্ন করা এবং পূর্ববর্তী সময়ের বকেয়া হিসাব প্রস্তুত করা পৃথক প্রক্রিয়া হতে পারে।

তবে শুধু এই বক্তব্যের ভিত্তিতে সব সরকারি কর্মচারীর নতুন বেতন কার্যকরের তারিখ, বকেয়া প্রদানের নির্দিষ্ট সময় বা অর্থ ছাড়ের নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। এ বিষয়ে প্রযোজ্য সরকারি আদেশ এবং অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

GoB Staff ও GoB Officer-এর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

পে-ফিকেশন কার্যক্রম দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করতে সার্কুলারে GoB Staff এবং GoB Officer-এর জন্য পৃথক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

GoB Staff-এর ক্ষেত্রে

সার্কুলারে উল্লেখিত নির্দেশনা অনুযায়ী, জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর পে-ফিকেশনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর ও জন্মতারিখ ব্যবহার করে আইবাস++-এ লগইন করতে হবে।

এ ছাড়া সার্ভিস বুকে সংশ্লিষ্ট বেতন স্কেলের তথ্য উল্লেখ এবং প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। সার্ভিস বুক ও ফিক্সেশন-সংক্রান্ত কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট অফিসপ্রধানের ফরওয়ার্ডিংসহ নিরীক্ষাকারী অফিসে জমা দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে।

GoB Officer-এর ক্ষেত্রে

কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অফিসের আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে আইবাস++-এ লগইন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কর্মকর্তার নাম, পদবি, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং অডিট রেজিস্টারের ক্রমিক নম্বর ও পৃষ্ঠাসংক্রান্ত তথ্য সংবলিত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট অফিসপ্রধানের ফরওয়ার্ডিংসহ জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এ ধরনের নথি যথাযথভাবে প্রস্তুত থাকলে তথ্য যাচাই, নিরীক্ষা এবং ফিক্সেশন-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হতে পারে।

ফিক্সেশন কার্যক্রমে ডিডিওদের ভূমিকা

সার্কুলারে ফিক্সেশন কার্যক্রমে সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে ডিডিও কর্তৃক মনোনীত প্রতিনিধিদের নিরীক্ষাকারী অফিসে উপস্থিত থাকার কথা বলা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে ছোট অফিসের জন্য সর্বোচ্চ দুইজন এবং বড় অফিসের জন্য সর্বোচ্চ চারজন প্রতিনিধির সীমা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিনিধিদের উপস্থিতির উদ্দেশ্য হলো, ফিক্সেশন-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন এবং কোনো অসংগতি থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানে সহায়তা করা।

এ ছাড়া ফিক্সেশন দাবিল জমা দেওয়ার পর ফিক্সেশন কপি প্রিন্ট করার নির্দেশনা রয়েছে। সার্কুলারে সতর্ক করা হয়েছে, কপি প্রিন্ট না করলে তথ্য অসম্পূর্ণ থাকতে পারে। ফলে ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের বকেয়া বিল কীভাবে প্রস্তুত করতে হবে

সার্কুলারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত তিন মাসের বকেয়া বিল প্রস্তুত করার নির্দেশনা।

এতে বলা হয়েছে, বকেয়া বিল আইবাস++ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে না। বরং সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ম্যানুয়ালি বকেয়া বিল প্রস্তুত করে হিসাবরক্ষণ অফিসে জমা দিতে হবে।

এ নির্দেশনা অনুযায়ী, বকেয়া হিসাব তৈরির সময় কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।

প্রথমত, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর ২০২৬—এই তিন মাসের জন্য প্রযোজ্য বেতন ও ভাতার হিসাব পৃথকভাবে যাচাই করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর অধীনে আগে পরিশোধিত বেতন-ভাতা এবং নতুন স্কেল অনুযায়ী প্রাপ্য অর্থের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে হবে।

তৃতীয়ত, ওই সময়ের মধ্যে গৃহীত বিশেষ সুবিধা ও অন্যান্য প্রযোজ্য ভাতার সমন্বয় করতে হবে।

চতুর্থত, বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা এবং উৎসব ভাতার হিসাব সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই করতে হবে।

সার্কুলারে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত গৃহীত বিশেষ সুবিধা এবং জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর অধীনে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের মূল বেতনের ভিত্তিতে গৃহীত বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা ও উৎসব ভাতা সমন্বয় করতে হবে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বকেয়া বিলের সঠিক পরিমাণ কর্মচারীর পদবি, গ্রেড, মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি, প্রযোজ্য ভাতার হার এবং ইতোমধ্যে পরিশোধিত অর্থের ওপর নির্ভর করবে। তাই সবার জন্য একই অঙ্কের বকেয়া প্রযোজ্য হবে না।

বকেয়া বিল প্রস্তুতের সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে

বকেয়া হিসাব প্রস্তুত করার সময় শুধু নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্য বের করলেই হিসাব সম্পূর্ণ হয় না। সংশ্লিষ্ট সময়ের জন্য আগে কী পরিমাণ বেতন ও ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে, কী পরিমাণ প্রাপ্য ছিল এবং কোন কোন অর্থ সমন্বয় করতে হবে, তা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করতে হবে।

বিশেষ করে—

  • ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রযোজ্য মূল বেতন ও ইনক্রিমেন্টের তথ্য যাচাই করতে হবে।
  • পূর্ববর্তী পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেডের ফিক্সেশন অসম্পূর্ণ থাকলে আগে সেটি নিষ্পত্তি করতে হবে।
  • বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধি অনুসরণ করতে হবে।
  • বিশেষ সুবিধা বা আগে পরিশোধিত অর্থের দ্বৈত হিসাব যেন না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
  • বকেয়া বিলের সঙ্গে প্রয়োজনীয় হিসাব বিবরণী ও অনুমোদনকারী কর্মকর্তার স্বাক্ষর সংযুক্ত করতে হবে।
  • চূড়ান্ত বিল জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসের নির্দেশনা যাচাই করতে হবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য করণীয়

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর পে-ফিকেশন কার্যক্রমে জটিলতা এড়াতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কয়েকটি বিষয় আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা উচিত।

১. পূর্ববর্তী পে-ফিকেশন বিবরণী ও সার্ভিস বুকের তথ্য মিলিয়ে দেখা।

২. জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বর সঠিক আছে কি না যাচাই করা।

৩. পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেডের আদেশ থাকলে তার ভিত্তিতে পূর্ববর্তী ফিক্সেশন সম্পন্ন হয়েছে কি না নিশ্চিত হওয়া।

৪. ইনক্রিমেন্ট স্থগিত, প্রেষণ বা পিআরএল-সংক্রান্ত বিশেষ পরিস্থিতি থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করা।

৫. বকেয়া বিলের হিসাব তৈরির সময় পূর্বে পরিশোধিত বেতন-ভাতা ও প্রযোজ্য সমন্বয়ের বিবরণ সংরক্ষণ করা।

৬. ফিক্সেশন কপি প্রিন্ট করে প্রয়োজনীয় নথির সঙ্গে সংরক্ষণ করা।

৭. কোনো তথ্যের অসংগতি বা ফিক্সেশন-সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ডিডিও, হিসাবরক্ষণ অফিস বা নিরীক্ষাকারী অফিসের সহায়তা নেওয়া।

শেষ কথা

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর পে-ফিকেশন কার্যক্রমে নির্ভুল তথ্য, পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের ধারাবাহিকতা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সঠিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সার্কুলারে পেনশনভোগীদের স্বয়ংক্রিয় ফিক্সেশন, কিছু শ্রেণির ক্ষেত্রে ফিক্সেশন স্থগিত রাখা, বিশেষ পরিস্থিতিতে পরবর্তী সময়ে ফিক্সেশন এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বকেয়া বিল ম্যানুয়ালি প্রস্তুতের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট সার্কুলারের প্রযোজ্যতা ও নির্দেশনার চূড়ান্ত ব্যাখ্যার জন্য মূল দাপ্তরিক কপি যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বকেয়া বিলের হিসাব, ভাতা সমন্বয় এবং ফিক্সেশনের সময়সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ পন্থা।

সোর্স ফাইল

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *