বৈষম্য । দাবীর খতিয়ান । পুন:বিবেচনা

প্রশিক্ষণের সাপোর্ট স্টাফের ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ: সরকারি দপ্তরে ক্ষোভ, জাল স্বাক্ষরের অভিযোগও উঠেছে

সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে অফিসিয়াল প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকারী সাপোর্ট স্টাফদের জন্য বরাদ্দকৃত সম্মানী বা ভাতা যথাযথভাবে প্রদান না করার অভিযোগ সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন আলোচনায় এমন অভিযোগ উঠে আসায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, একটি সরকারি দপ্তরে পুরো অর্থবছরের একটি প্রশিক্ষণ ব্যাচে দায়িত্ব পালনকারী সাপোর্ট স্টাফদের জন্য বরাদ্দকৃত ভাতা তাদের হাতে পৌঁছায়নি। বরং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জাল স্বাক্ষরযুক্ত মাস্টাররোল বা সম্মানী তালিকা ব্যবহার করে অর্থ উত্তোলন করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন কর্মচারী লিখেছেন, “ছোট স্টাফদের দেখার কেউ নেই। পুরো অর্থবছরের প্রশিক্ষণের সাপোর্ট স্টাফের বরাদ্দের টাকা আমাদের দেওয়া হয়নি। জাল স্বাক্ষরের মাস্টাররোল দিয়ে সব তুলে নেওয়া হয়েছে।”

এ ধরনের অভিযোগ প্রকাশের পর অন্য কর্মচারীরাও নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। কেউ কেউ দাবি করেন, প্রশিক্ষণের সম্মানীর কাগজে স্বাক্ষর করার আগে সতর্ক থাকা উচিত এবং প্রকৃত অর্থ গ্রহণ না করলে কোনো নথিতে স্বাক্ষর না করার পরামর্শ দেন। আবার কেউ অভিযোগ করেন, বিভিন্ন দপ্তরে এ ধরনের অনিয়ম নতুন নয় এবং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।

তবে অনেক কর্মচারী জানান, অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করাও তাদের জন্য সহজ নয়। কারণ, কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে বা অভিযোগ তুললে শোকজ, প্রশাসনিক হয়রানি কিংবা অন্যান্য জটিলতার মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্ষতিগ্রস্ত কর্মচারীরা নীরব থাকতে বাধ্য হন বলে মন্তব্য করেন তারা।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে কী হতে পারে?

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিল উত্তোলন কিংবা সরকারি নথি জালিয়াতি অত্যন্ত গুরুতর অনিয়ম। এ ধরনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা, অর্থ পুনরুদ্ধার, এমনকি প্রচলিত আইন অনুযায়ী ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

করণীয় কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো সরকারি কর্মচারী যদি ভাতা বা সম্মানী বঞ্চনার শিকার হন, তাহলে তিনি—

  • সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধানের কাছে লিখিত অভিযোগ করতে পারেন।
  • প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন মন্ত্রণালয় বা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে পারেন।
  • দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থায় তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ দাখিল করতে পারেন।
  • মাস্টাররোল, উপস্থিতি তালিকা, প্রশিক্ষণের আদেশ ও অর্থ উত্তোলনের নথিসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংরক্ষণ করতে পারেন।

তদন্তের দাবি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা অভিযোগগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে সরকারি প্রশিক্ষণের সম্মানী ও ভাতা বিতরণে অধিক স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল যাচাই ব্যবস্থা চালুরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *