সার্ভিস রুলস । নীতি । পদ্ধতি । বিধি

বিসিএস কর্মকর্তাদের জন্যই নয়, নিম্নগ্রেড কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও চাকরির ধারাবাহিকতা ও বেতন সংরক্ষণের সুযোগ

সরকারি চাকরিতে এক পদে কর্মরত অবস্থায় নিয়ম মেনে অন্য সরকারি পদে নিয়োগ পেলে পূর্বের চাকরিকাল একেবারে বাতিল হয়ে যায়—এমন ধারণা সঠিক নয়। বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের (বিএসআর) বিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পূর্বের চাকরিকাল পেনশনযোগ্য চাকরিকাল হিসেবে গণনা এবং বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে। এ সুবিধা শুধু বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ—এমন কোনো সাধারণ বিধান পাওয়া যায় না।

সাম্প্রতিক সরকারি নথি ও বিভিন্ন দপ্তরের আদেশেও কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি পদে কর্মরত ব্যক্তিদের পূর্বের চাকরিকাল সংরক্ষণের নজির দেখা যাচ্ছে। ফলে নিম্নগ্রেডের কর্মচারীরা সরকারি চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে চাকরিকাল ও বেতন সংরক্ষণের বিষয়ে আবেদন করতে পারেন।

ঢাকা কলেজের চিঠিতে বিষয়টি আবার সামনে

সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের একটি চিঠিতে ঢাকা কলেজের প্রধান সহকারী (মূল পদ—উচ্চমান সহকারী) মো. আবু জায়েদ-এর চাকরির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বেতন সংরক্ষণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মচারী চাকরির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বেতন সংরক্ষণের জন্য আবেদন করেছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র পাঠাতে ঢাকা কলেজ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে যেসব কাগজপত্রের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—

  • উচ্চমান সহকারী পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র;
  • নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত অবস্থায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করার প্রমাণ;
  • পূর্বপদ থেকে অব্যাহতি/ছাড়পত্র;
  • চাকরির ধারাবাহিকতা ও বেতন সংরক্ষণের বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য ও কাগজপত্র।

অর্থাৎ, এটি দেখাচ্ছে যে বিষয়টি কেবল ক্যাডার কর্মকর্তাদের চাকরির পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; অধস্তন বা সহায়ক পদে কর্মরত সরকারি কর্মচারীর ক্ষেত্রেও যথাযথ প্রক্রিয়ায় এ ধরনের দাবি উত্থাপনের সুযোগ রয়েছে।

বিএসআর ৩০০(বি)-তে কী বলা হয়েছে?

বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের বিধি ৩০০ মূলত সরকারি চাকরি ত্যাগের ফলে পূর্বের চাকরিকালের ওপর কী প্রভাব পড়বে, সে বিষয়টি নির্ধারণ করে।

সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ে বিধি ৩০০(বি)-এর ইংরেজি বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে—কোনো ব্যক্তি অন্য এমন একটি সরকারি নিয়োগ বা চাকরিতে যোগদানের উদ্দেশ্যে পদত্যাগ করলে, যার চাকরিকাল গণনাযোগ্য, সেই পদত্যাগকে সরকারি চাকরি থেকে সাধারণ পদত্যাগ হিসেবে গণ্য করা হবে না। একই রায়ে বলা হয়েছে, বিধি ৩০০(বি) বহাল রয়েছে।

সহজ ভাষায়, একজন সরকারি কর্মচারী যদি বিদ্যমান সরকারি চাকরি ছেড়ে আরেকটি গণনাযোগ্য সরকারি চাকরিতে যোগ দেন এবং প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন অনুসরণ করেন, তাহলে পূর্বের চাকরিকাল সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি নাও হতে পারে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বিধি ৩০০(বি) নিজে থেকে প্রত্যেক ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আগের বেতন হুবহু বহাল রাখার নিশ্চয়তা দেয় না। চাকরিকাল গণনা ও নতুন পদে বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিধি, বিশেষ করে বিধি ৪২(২), নিয়োগের ধরন এবং কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ।

বিধি ৪২(২) ও ৩০০(বি)—দুটি বিধানই গুরুত্বপূর্ণ

সরকারি বিভিন্ন প্রজ্ঞাপনে দেখা যায়, পূর্বের চাকরিকাল সংরক্ষণ এবং নতুন পদে বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিধি ৪২(২) এবং বিধি ৩০০(বি) একসঙ্গে উল্লেখ করা হচ্ছে।

২০২৫ সালের সরকারি গেজেটে খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্য পরিদর্শক পদ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদে যোগ দেওয়া একজন কর্মচারীর পূর্বের চাকরিকাল সংরক্ষণের উদাহরণ রয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বিধি ৪২(২) ও ৩০০(বি) অনুযায়ী মোট পেনশনযোগ্য চাকরিকাল গণনা ও বেতন নির্ধারণের লক্ষ্যে পূর্বের চাকরিকাল ধারাবাহিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

আরেকটি সরকারি গেজেটে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) পদ থেকে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদে যোগ দেওয়া ব্যক্তির পূর্বের চাকরিকালও একই বিধানের আওতায় সংরক্ষণের উদাহরণ রয়েছে।

এ ধরনের উদাহরণ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলো দেখায় যে বিধানটি শুধু বিসিএস ক্যাডারের পদ পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

সরকারি কর্মচারী ও কর্মকর্তা—উভয়ের ক্ষেত্রেই বিষয়টি বিবেচ্য

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সেবা-সংক্রান্ত তথ্যেও সকল সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত/আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ বিষয়ে মতামত দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বেতন সমতাকরণের আবেদনের ক্ষেত্রে চাকরির বিবরণীসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হয়।

এ কারণে ‘চাকরির ধারাবাহিকতা ও বেতন সংরক্ষণ শুধু বিসিএস কর্মকর্তাদের জন্য’—এমন সাধারণীকরণ করা ঠিক হবে না। বরং সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর চাকরির ধরন, নিয়োগের প্রক্রিয়া, পূর্ব ও বর্তমান পদ, কর্তৃপক্ষের অনুমতি এবং প্রযোজ্য বিধিমালা দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

নতুন চাকরিতে আবেদনের সময় অনুমতি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করা।

সরকারি চাকরিতে কর্মরত কেউ যদি অন্য সরকারি পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত এবং বিদ্যমান চাকরির বিধি অনুসারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।

সরকারি আদেশগুলোতেও পূর্বের চাকরিকাল সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন শর্ত আরোপ করা হয়। যেমন, ২০২৫ সালের একটি গেজেটে পূর্বের চাকরিকাল পেনশনের জন্য গণনার ক্ষেত্রে অসাধারণ ছুটির সময় বাদ দেওয়ার এবং বর্তমান পদে পূর্বের চাকরিকাল জ্যেষ্ঠতার জন্য গণনা না করার শর্ত দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ চাকরিকাল সংরক্ষণ, বেতন সংরক্ষণ এবং জ্যেষ্ঠতা—তিনটি বিষয়কে এক করে দেখা যাবে না।

চাকরির ধারাবাহিকতা সংরক্ষণ মানেই জ্যেষ্ঠতা সংরক্ষণ নয়

এটি সরকারি কর্মচারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

পূর্বের চাকরিকাল বর্তমান চাকরিতে পেনশনযোগ্য চাকরিকাল হিসেবে গণনা হতে পারে এবং সেই চাকরিকালের ভিত্তিতে বেতন নির্ধারণের সুবিধা পাওয়া যেতে পারে; কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে পূর্বের চাকরির পুরো সময় নতুন পদে জ্যেষ্ঠতা হিসেবে গণনা হবে।

সরকারি গেজেটের উদাহরণগুলোতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, পূর্বের চাকরিকাল পেনশনের জন্য গণনা করা হলেও বর্তমান পদে পূর্বের চাকরিকাল জ্যেষ্ঠতার জন্য গণনা করা যাবে না।

এ কারণে চাকরির ধারাবাহিকতা সংরক্ষণ বলতে মূলত কোন সুবিধাটি চাওয়া হচ্ছে—পেনশনযোগ্য চাকরিকাল, বেতন নির্ধারণ নাকি জ্যেষ্ঠতা—তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা জরুরি।

সব ক্ষেত্রে কি আগের বেতনই হুবহু বহাল থাকবে?

এখানেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

‘চাকরির ধারাবাহিকতা রক্ষা’ এবং ‘বেতন সংরক্ষণ’ শব্দ দুটি পাশাপাশি ব্যবহৃত হলেও বাস্তবে নতুন পদে বেতন নির্ধারণ সংশ্লিষ্ট বিধি ও স্কেলের ওপর নির্ভর করে। পূর্বের মূল বেতন, নতুন পদের বেতনস্কেল, পদটির গ্রেড, নিয়োগের ধরন এবং প্রযোজ্য বেতন নির্ধারণ বিধান বিবেচনা করে নতুন বেতন নির্ধারিত হতে পারে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণসংক্রান্ত প্রস্তাব যাচাই করে প্রয়োজনীয় মতামত দেওয়ার প্রক্রিয়া রয়েছে।

তাই কেউ পূর্বের চাকরির ধারাবাহিকতা পেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূর্বের মূল বেতন বা সব ধরনের আর্থিক সুবিধা একইভাবে বহাল থাকবে—এমন দাবি করা ঠিক হবে না।

চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ

সরকারি চাকরি থেকে অন্য সরকারি চাকরিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে যেসব বিষয় যাচাই করা হতে পারে—

১. পূর্বের চাকরিটি সরকারি ও প্রযোজ্য সার্ভিস রুলসের আওতাভুক্ত কি না।

২. নতুন চাকরির জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আবেদন করা হয়েছিল কি না।

৩. পূর্বের চাকরি থেকে যথাযথভাবে অব্যাহতি বা ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছে কি না।

৪. পূর্বের চাকরিকালে কোনো কর্মবিরতি বা অনিয়মিত বিরতি ছিল কি না।

৫. অসাধারণ ছুটি বা অন্যান্য অগণনাযোগ্য ছুটি ছিল কি না।

৬. পূর্বের চাকরিকাল পেনশনযোগ্য কি না।

৭. নতুন পদে বেতন নির্ধারণের জন্য বিধি ৪২(২) বা অন্যান্য প্রযোজ্য বিধান কী বলে।

৮. পূর্বের চাকরিকাল বর্তমান পদের জ্যেষ্ঠতা হিসেবে গণনা করার সুযোগ আছে কি না।

এসব বিষয় যাচাই করেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাকরিকাল ও বেতন সংরক্ষণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়।

‘নিম্নগ্রেডের কর্মচারীরা সুবিধা পাবেন না’—এ ধারণা কেন বিভ্রান্তিকর

বাস্তবে সরকারি নথিতে বিভিন্ন ধরনের পদ থেকে অন্য সরকারি পদে যাওয়ার ক্ষেত্রে পূর্বের চাকরিকাল সংরক্ষণের নজির রয়েছে।

২০২৫ সালের সরকারি গেজেটে খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্য পরিদর্শক থেকে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা এবং শ্রম পরিদর্শক থেকে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদে যাওয়ার ক্ষেত্রে পূর্বের চাকরিকাল সংরক্ষণের আদেশ পাওয়া যায়।

এ ছাড়া ২০২৬ সালেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে ‘চাকরির ধারাবাহিকতা ও বেতন সংরক্ষণ’ শিরোনামে আদেশ প্রকাশিত হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এ ধরনের একটি আদেশ প্রকাশ করেছে এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও ৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে চাকরির ধারাবাহিকতা ও বেতন সংরক্ষণসংক্রান্ত আদেশ প্রকাশ করেছে।

এগুলো থেকে অন্তত এটুকু পরিষ্কার যে চাকরির ধারাবাহিকতা ও বেতন সংরক্ষণ একটি বাস্তব প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

কর্মচারীদের জন্য মূল বার্তা

কোনো কর্মচারী এক সরকারি চাকরি থেকে অন্য সরকারি চাকরিতে যেতে চাইলে শুধু নতুন নিয়োগপত্র পেলেই পূর্বের চাকরির সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহাল থাকবে—এমনটি ধরে নেওয়া উচিত নয়।

বরং নিয়োগের শুরু থেকেই যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি, আবেদন করার প্রমাণ, ছাড়পত্র, পূর্বের চাকরির বিবরণী, বেতন নির্ধারণের কাগজপত্র এবং প্রয়োজনীয় সার্ভিস রেকর্ড সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে চাকরির ধারাবাহিকতা ও বেতন সংরক্ষণের আবেদন করার সময় বিএসআর বিধি ৪২(২) এবং ৩০০(বি)-এর প্রাসঙ্গিকতা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠানো যেতে পারে। তবে প্রতিটি মামলার তথ্য ও নিয়োগের শর্ত আলাদা হওয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ/প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের প্রযোজ্য বিধি ও আদেশের ভিত্তিতেই হবে।

শেষ কথা

সুতরাং, চাকরির ধারাবাহিকতা সংরক্ষণ শুধু বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত কোনো একচেটিয়া সুবিধা নয়। সরকারি চাকরির প্রযোজ্য বিধান ও শর্ত পূরণ করলে কর্মকর্তা ও কর্মচারী—উভয় ক্ষেত্রেই পূর্বের চাকরিকাল পেনশনযোগ্য চাকরিকাল হিসেবে গণনা এবং নতুন পদে বেতন নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচিত হতে পারে। তবে চাকরিকাল সংরক্ষণ, বেতন সংরক্ষণ ও জ্যেষ্ঠতা সংরক্ষণ এক বিষয় নয়—এ পার্থক্যটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে ঢাকা কলেজের প্রধান সহকারী মো. আবু জায়েদের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক চিঠিটি দেখাচ্ছে যে নিম্নস্তরের সরকারি কর্মচারীর ক্ষেত্রেও চাকরির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বেতন সংরক্ষণের বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি গেজেটের একাধিক উদাহরণও বিধি ৪২(২) ও ৩০০(বি)-এর আওতায় পূর্বের চাকরিকাল সংরক্ষণের বাস্তব প্রয়োগকে সমর্থন করে।

সোর্স

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *