শিক্ষা ভাতা । পোষাক । রেশন

সন্তানপ্রতি শিক্ষা ভাতা মাত্র ৫০০ টাকা, পরীক্ষার ফি ৮০০! ঋণের চাপে পিষ্ট ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীরা

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সন্তানপ্রতি মাসিক শিক্ষা ভাতা বর্তমানে মাত্র ৫০০ টাকা। অথচ রাজধানীর খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০০ টাকা। ফলে শুধু পরীক্ষার ফি পরিশোধ করতেই একজন কর্মচারীর মাসিক শিক্ষা ভাতার চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে বিশেষ করে ১১-২০ গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক সরকারি কর্মচারীর আক্ষেপ ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি লিখেছেন, “আমরা সন্তানপ্রতি শিক্ষা ভাতা পাই ৫০০ টাকা। মনিপুর স্কুলে আমার বাচ্চা পড়ে। অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফি ৮০০ টাকা। শিক্ষার বাকি খরচ চালাবো কী দিয়ে?” এই প্রশ্ন এখন অনেক নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মচারী পরিবারের বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

শিক্ষা ব্যয় বেড়েছে কয়েকগুণ

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে একটি শিশুর শিক্ষার পেছনে মাসিক খরচের মধ্যে রয়েছে স্কুল ফি, কোচিং, বই-খাতা, ইউনিফর্ম, পরিবহন ব্যয়, পরীক্ষার ফি ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের খরচ। কয়েক বছর আগের তুলনায় এসব ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কিন্তু শিক্ষা ভাতার পরিমাণ দীর্ঘদিন ধরে অপরিবর্তিত থাকায় কর্মচারীরা বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

বিশেষ করে যাদের দুই বা ততোধিক সন্তান রয়েছে, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। সংসারের নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ব্যয় এবং শিক্ষা ব্যয়ের সমন্বয়ে অনেক পরিবারকে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

নবম পে-স্কেলে ভাতা বৃদ্ধির দাবি জোরালো

সম্প্রতি জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশে সন্তানপ্রতি শিক্ষা ভাতা ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করার প্রস্তাব এসেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। কমিশন জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ সুপারিশ করেছে।

সরকারি কর্মচারীদের সংগঠনগুলোর দাবি, শুধু মূল বেতন বৃদ্ধি করলেই হবে না; শিক্ষা ভাতা, চিকিৎসা ভাতা ও বাসাভাড়ার মতো বাস্তব জীবনের ব্যয়-সংশ্লিষ্ট সুবিধাগুলোও যুগোপযোগী করতে হবে। অন্যথায় নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীরা আর্থিক সংকট থেকে বের হতে পারবেন না।

ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছেন কর্মচারীরা

১১-২০ গ্রেডের অনেক কর্মচারী বলছেন, মাসের শুরুতেই বেতন থেকে ঋণের কিস্তি, বাড়িভাড়া ও সন্তানের শিক্ষা ব্যয় পরিশোধের পর হাতে খুব সামান্য অর্থ অবশিষ্ট থাকে। ফলে জরুরি কোনো চিকিৎসা, অতিরিক্ত শিক্ষা ব্যয় কিংবা পারিবারিক প্রয়োজন দেখা দিলে নতুন করে ধার বা ঋণ নিতে হয়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, শিক্ষা একটি মৌলিক অধিকার। সরকারি কর্মচারীদের সন্তানদের শিক্ষার ব্যয় বহনে যদি সরকারি সহায়তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে তা কর্মচারীদের জীবনমান ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রত্যাশা কী?

সরকারি কর্মচারীদের আশা, প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের সময় শিক্ষা ভাতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। তাদের মতে, যখন একটি পরীক্ষার ফিই ৮০০ টাকা, তখন সন্তানপ্রতি ৫০০ টাকার শিক্ষা ভাতা বাস্তবতার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় শিক্ষা ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *