আইবাস++ । পে ফিক্সেশন । ই-ফাইলিং

১৪তম গ্রেডে ১৮,৪০০ টাকা মূল বেতন হলে ৯ম পে স্কেলে কত হতে পারে? পার্থক্য পদ্ধতিতে সম্ভাব্য ফিক্সেশনের হিসাব

নবম জাতীয় বেতন স্কেল–২০২৬ নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা এখন পুরোনো মূল বেতন থেকে নতুন স্কেলে ফিক্সেশন নিয়ে। বিশেষ করে ১৪তম গ্রেডে বর্তমানে যেসব কর্মচারী ১৮ হাজার টাকার বেশি মূল বেতন পাচ্ছেন, তাদের নতুন স্কেলে বেতন কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে—তা নিয়ে নানা হিসাব সামনে আসছে।

এখানে ১৪তম গ্রেডে বর্তমান মূল বেতন ১৮,৪০০ টাকা ধরে একটি সম্ভাব্য পার্থক্যভিত্তিক হিসাব তুলে ধরা হলো। তবে শুরুতেই মনে রাখা জরুরি, এটি সম্ভাব্য হিসাব; চূড়ান্ত সরকারি ফিক্সেশন নয়। নতুন পে স্কেলের ব্যক্তিগত বেতন নির্ধারণের পূর্ণাঙ্গ বিধি অর্থ বিভাগের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত হবে।

১৪তম গ্রেডের পুরোনো বেতন থেকে হিসাব শুরু

অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল–২০১৫ অনুযায়ী ১৪তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ছিল ১০,২০০ টাকা

ধরা যাক, একজন কর্মচারী বর্তমানে ওই গ্রেডে ১৮,৪০০ টাকা মূল বেতন পাচ্ছেন।

তাহলে গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন থেকে তার অর্জিত পার্থক্য—

১৮,৪০০ − ১০,২০০ = ৮,২০০ টাকা।

অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ১৪তম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতনের তুলনায় বর্তমানে ৮,২০০ টাকা বেশি মূল বেতন পাচ্ছেন।


নতুন স্কেলে এই পার্থক্য যোগ করলে কী হবে?

পার্থক্য সংরক্ষণ পদ্ধতির সরল ধারণা হলো—পুরোনো স্কেলে কর্মচারী যে অতিরিক্ত বেতন অর্জন করেছেন, নতুন স্কেলে যাওয়ার সময় সেটি বিবেচনায় রাখা।

অতএব, নতুন ১৪তম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন X টাকা হলে সম্ভাব্য ফিক্সেশন হবে—

নতুন গ্রেডের শুরু + ৮,২০০ টাকা।

এখানেই আসল বিষয় হলো নতুন ১৪তম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন কত নির্ধারণ করা হয়েছে।

চূড়ান্ত সরকারি ফিক্সেশন চার্ট ছাড়া এই জায়গায় নির্দিষ্ট অঙ্ককে নিশ্চিত বলা ঠিক হবে না। তাই কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাবকে সরাসরি সরকারি ফিক্সেশন হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়।


১৮,৪০০ টাকা বেতন পাওয়া কর্মচারীর জন্য মূল সূত্র

বর্তমান মূল বেতন:

১৮,৪০০ টাকা

পুরোনো ১৪তম গ্রেডের শুরু:

১০,২০০ টাকা

অর্জিত পার্থক্য:

৮,২০০ টাকা

অর্থাৎ নতুন স্কেলে সম্ভাব্য বেতন নির্ণয়ের সূত্র হবে—

নতুন ১৪তম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন + ৮,২০০ টাকা

এটি ১১,৬৫০ টাকা থেকে ২৩,৪০০ টাকার আগের উদাহরণের মতোই পার্থক্যভিত্তিক মডেল


৫০%-২৫%-২৫% ধাপে বাস্তবায়ন হলে কী হবে?

এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের বর্ধিত বেতন তিন ধাপে কার্যকর করার যে ৫০% + ২৫% + ২৫% মডেল নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেটি প্রয়োগ করতে হলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর চূড়ান্ত নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করতে হবে।

ধরা যাক, সরকারি ফিক্সেশন আদেশ অনুযায়ী ১৮,৪০০ টাকা থেকে নতুন স্কেলে কোনো কর্মচারীর চূড়ান্ত মূল বেতন Y টাকা নির্ধারিত হলো।

তাহলে মোট বৃদ্ধি হবে—

Y − ১৮,৪০০ টাকা।

প্রথম ধাপে এই বৃদ্ধির ৫০ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে আরও ২৫ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ যোগ হবে।

অর্থাৎ সূত্রটি হবে—

১ম ধাপ = ১৮,৪০০ + (মোট বৃদ্ধি × ৫০%)

২য় ধাপ = ১৮,৪০০ + (মোট বৃদ্ধি × ৭৫%)

৩য় ধাপ = ১৮,৪০০ + (মোট বৃদ্ধি × ১০০%)


একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করা যাক

শুধু হিসাব বোঝানোর জন্য যদি ধরা হয়, নতুন স্কেলে ১৪তম গ্রেডের চূড়ান্ত ফিক্সেশন হলো ৩০,০০০ টাকা, তাহলে—

বর্তমান = ১৮,৪০০ টাকা

চূড়ান্ত নতুন বেতন = ৩০,০০০ টাকা

মোট বৃদ্ধি:

৩০,০০০ − ১৮,৪০০ = ১১,৬০০ টাকা।

প্রথম ধাপ—৫০%

১১,৬০০ × ৫০% = ৫,৮০০ টাকা

নতুন মূল বেতন:

১৮,৪০০ + ৫,৮০০ = ২৪,২০০ টাকা

দ্বিতীয় ধাপ—আরও ২৫%

১১,৬০০ × ২৫% = ২,৯০০ টাকা

নতুন মূল বেতন:

২৪,২০০ + ২,৯০০ = ২৭,১০০ টাকা

তৃতীয় ধাপ—শেষ ২৫%

আরও ২,৯০০ টাকা যোগ হলে—

২৭,১০০ + ২,৯০০ = ৩০,০০০ টাকা।

অর্থাৎ উদাহরণটির ধাপ হবে—

১৮,৪০০ → ২৪,২০০ → ২৭,১০০ → ৩০,০০০ টাকা।

তবে আবারও বলা প্রয়োজন, ৩০,০০০ টাকা এখানে উদাহরণ হিসেবে নেওয়া হয়েছে; এটি ১৪তম গ্রেডের নিশ্চিত নতুন সরকারি বেতন হিসেবে ধরা যাবে না।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: ১৮,৪০০ টাকা কীভাবে অর্জিত হয়েছে?

বাস্তব ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে শুধু বর্তমান মূল বেতন জানলেই সবসময় যথেষ্ট হবে না।

একজন কর্মচারীর ১৮,৪০০ টাকা মূল বেতন হওয়ার পেছনে যদি থাকে—

  • নিয়মিত বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট;
  • উচ্চতর গ্রেড;
  • পদোন্নতি;
  • টাইম স্কেল;
  • বেতন সংরক্ষণ;
  • পূর্বের বিশেষ ফিক্সেশন;
  • অন্য কোনো বেতন পুনর্নির্ধারণ,

তাহলে নতুন স্কেলে তার ফিক্সেশন পদ্ধতি আলাদা হতে পারে।

তাই “১৮,৪০০ টাকা পেলেই সবার নতুন বেতন একই হবে”—এমন ধারণা সঠিক নয়।


১৪তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য কী অপেক্ষা করছে?

নবম পে স্কেলের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দীর্ঘদিনের বেতন কাঠামোকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য করা। ফলে শুধু প্রারম্ভিক বেতন নয়, বিদ্যমান কর্মচারীদের বেতন ফিক্সেশন, ইনক্রিমেন্ট, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার কাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ কারণে ১৪তম গ্রেডে ১৮,৪০০ টাকা মূল বেতন পাওয়া কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে নতুন পে-স্কেলের ফিক্সেশন বিধি

সরকার নতুন স্কেল ঘোষণা করলেও ব্যক্তিগত কর্মচারীর বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক হিসাবকে সম্ভাব্য হিসাব হিসেবেই দেখতে হবে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *