বৈষম্য । দাবীর খতিয়ান । পুন:বিবেচনা

৯ম পে-স্কেল গেজেট ২০২৬: গ্রেডভেদে বাড়ি ভাড়া কত, একনজরে পূর্ণ হিসাব

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন ৯ম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর মূল বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতার হিসাবেও পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো বাড়ি ভাড়া ভাতা। নতুন কাঠামোয় বাড়ি ভাড়ার হার কর্মস্থলের এলাকা ও গ্রেডভেদে নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত নতুন বেতন ও ভাতাদি আদেশ অনুযায়ী, বাড়ি ভাড়ার হার সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে এবং নির্দিষ্ট গ্রেড ও এলাকার জন্য আলাদা হার প্রযোজ্য।

প্রদত্ত চার্টে দেশের অন্যান্য এলাকা/মফস্বল এলাকার জন্য ২০তম থেকে ১১তম গ্রেডের বাড়ি ভাড়ার হিসাব দেখানো হয়েছে। সেখানে ২০তম থেকে ১৬তম গ্রেডে মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ এবং ১৫তম থেকে ১১তম গ্রেডে ৩৫ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া হিসাব করা হয়েছে। এই হার নতুন পে-স্কেলের প্রকাশিত এলাকা ও গ্রেডভিত্তিক কাঠামোর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

২০তম থেকে ১৬তম গ্রেডে বাড়ি ভাড়া ৪৫ শতাংশ

প্রদত্ত হিসাব অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডে নতুন মূল বেতন ধরা হয়েছে ২০,০০০ টাকা। এর ৪৫ শতাংশ হিসেবে বাড়ি ভাড়া দাঁড়ায় ৯,০০০ টাকা।

একইভাবে—

গ্রেডমূল বেতনবাড়ি ভাড়ার হারবাড়ি ভাড়া
২০তম২০,০০০ টাকা৪৫%৯,০০০ টাকা
১৯তম২০,৫০০ টাকা৪৫%৯,২২৫ টাকা
১৮তম২১,০০০ টাকা৪৫%৯,৪৫০ টাকা
১৭তম২১,৪০০ টাকা৪৫%৯,৬৩০ টাকা
১৬তম২১,৯০০ টাকা৪৫%৯,৮৫৫ টাকা

অর্থাৎ, এই অংশে গ্রেড যত ওপরে যাচ্ছে, মূল বেতন বাড়ার সঙ্গে বাড়ি ভাড়ার টাকার অঙ্কও ধীরে ধীরে বাড়ছে।

উদাহরণ হিসেবে, ১৬তম গ্রেডের মূল বেতন ২১,৯০০ টাকা হলে—

২১,৯০০ × ৪৫% = ৯,৮৫৫ টাকা।

এটি কেবল বাড়ি ভাতার হিসাব; এর সঙ্গে চিকিৎসা, টিফিন, মোবাইল বা অন্যান্য প্রাপ্য ভাতা যোগ করলে মোট মাসিক প্রাপ্য আরও বেশি হবে।

১৫তম থেকে ১১তম গ্রেডে বাড়ি ভাড়া ৩৫ শতাংশ

প্রদত্ত চার্টের দ্বিতীয় অংশে ১৫তম থেকে ১১তম গ্রেডের জন্য মূল বেতনের ৩৫ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া হিসাব করা হয়েছে।

হিসাবগুলো হলো—

গ্রেডমূল বেতনবাড়ি ভাড়ার হারবাড়ি ভাড়া
১৫তম২২,৮০০ টাকা৩৫%৭,৯৮০ টাকা
১৪তম২৩,৫০০ টাকা৩৫%৮,২২৫ টাকা
১৩তম২৪,০০০ টাকা৩৫%৮,৪০০ টাকা
১২তম২৪,৫০০ টাকা৩৫%৮,৫৭৫ টাকা
১১তম২৫,০০০ টাকা৩৫%৮,৭৫০ টাকা

যেমন, ১৫তম গ্রেডের মূল বেতন ২২,৮০০ টাকা হলে বাড়ি ভাড়ার হিসাব—

২২,৮০০ × ৩৫% = ৭,৯৮০ টাকা।

অন্যদিকে ১১তম গ্রেডে মূল বেতন ২৫,০০০ টাকা হলে—

২৫,০০০ × ৩৫% = ৮,৭৫০ টাকা।

অর্থাৎ ১৫তম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ি ভাতার পরিমাণও ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

১৬তম গ্রেড ও ১৫তম গ্রেডে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য

প্রদত্ত তালিকায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো ১৬তম ও ১৫তম গ্রেডের মধ্যকার বাড়ি ভাড়ার হার পরিবর্তন।

১৬তম গ্রেডে মূল বেতন ২১,৯০০ টাকা এবং বাড়ি ভাড়া ৪৫ শতাংশ হওয়ায় বাড়ি ভাতা দাঁড়াচ্ছে ৯,৮৫৫ টাকা।

কিন্তু ১৫তম গ্রেডে মূল বেতন বেড়ে ২২,৮০০ টাকা হলেও বাড়ি ভাড়ার হার ৩৫ শতাংশ হওয়ায় বাড়ি ভাতা কমে দাঁড়াচ্ছে ৭,৯৮০ টাকা।

অর্থাৎ—

  • ১৬তম গ্রেডের বাড়ি ভাড়া: ৯,৮৫৫ টাকা
  • ১৫তম গ্রেডের বাড়ি ভাড়া: ৭,৯৮০ টাকা
  • পার্থক্য: ১,৮৭৫ টাকা

এ কারণে শুধু মূল বেতন দেখলে নতুন গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির চিত্র একরকম হলেও, বাড়ি ভাড়াসহ মোট মাসিক প্রাপ্য হিসাব করলে কিছু গ্রেডের মধ্যে পার্থক্য প্রত্যাশিত হারে নাও বাড়তে পারে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে নতুন কাঠামোর এই গ্রেডভিত্তিক বাড়ি ভাড়া নিয়ে এমন হিসাব ও অসংগতির বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

কেন বাড়ি ভাড়ার হার গ্রেডভেদে পরিবর্তিত?

নতুন পে-স্কেলে বাড়ি ভাড়া একক কোনো হারে নির্ধারণ করা হয়নি। গ্রেড এবং কর্মস্থলের অবস্থান—দুই বিষয় বিবেচনা করে হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকাশিত কাঠামো অনুযায়ী, দেশের অন্যান্য এলাকায় ১৬–২০ গ্রেডে ৪৫ শতাংশ, ১০–১৫ গ্রেডে ৩৫ শতাংশ, ৫–৯ গ্রেডে ৩০ শতাংশ এবং ১–৪ গ্রেডে ২৫ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়ার বিধান রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা সিটি করপোরেশন ও অন্যান্য বড় শহরের জন্য আলাদা হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

তাই কোনো কর্মচারীর বাড়ি ভাড়া হিসাব করার সময় শুধু গ্রেড জানা যথেষ্ট নয়। কর্মস্থল কোন এলাকার আওতাভুক্ত সেটিও জানা প্রয়োজন।

৯ম পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার বিষয়টি

নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট অনুযায়ী, জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। তবে নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রথম ধাপে ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেড এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য পুরোনো ও নতুন মূল বেতনের পার্থক্যের নির্দিষ্ট অংশ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে বাড়ি ভাড়াসহ বিভিন্ন ভাতার পূর্ণাঙ্গ নতুন কাঠামো কার্যকর হওয়ার সময় নিয়ে গেজেটভিত্তিক প্রতিবেদনে ১ জানুয়ারি ২০২৮-এর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

চাকরিজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন—উপরের হিসাবটি প্রদত্ত চার্টে থাকা মূল বেতন ও শতাংশের ভিত্তিতে বাড়ি ভাড়ার সরল হিসাব। এটি কোনো কর্মচারীর সম্পূর্ণ নীট বেতন নয়।

মোট বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে আরও যেসব বিষয় বিবেচনায় আসতে পারে—

  • মূল বেতন
  • বাড়ি ভাড়া
  • চিকিৎসা ভাতা
  • টিফিন ভাতা
  • মোবাইল ভাতা
  • অন্যান্য প্রাপ্য ভাতা
  • কর্তনযোগ্য বিভিন্ন অর্থ
  • কর্মস্থলের শ্রেণি
  • সংশ্লিষ্ট পদের প্রাপ্যতা

ফলে শুধু বাড়ি ভাড়া যোগ করে হাতে পাওয়া নীট বেতন নির্ধারণ করা যাবে না।

একনজরে মূল তথ্য

২০তম–১৬তম গ্রেড: মূল বেতনের ৪৫% বাড়ি ভাড়া
১৫তম–১১তম গ্রেড: মূল বেতনের ৩৫% বাড়ি ভাড়া

প্রদত্ত চার্ট অনুযায়ী সর্বনিম্ন হিসাবটি হলো ২০তম গ্রেডে ৯,০০০ টাকা এবং এই তালিকায় সর্বোচ্চ বাড়ি ভাতার হিসাব ১৬তম গ্রেডে ৯,৮৫৫ টাকা। এরপর ১৫তম গ্রেডে হার ৩৫ শতাংশ হওয়ায় বাড়ি ভাতার অঙ্ক ৭,৯৮০ টাকায় নেমে আসে।

সব মিলিয়ে, ৯ম পে-স্কেলের বাড়ি ভাড়া হিসাব করতে গ্রেডের পাশাপাশি কর্মস্থলের এলাকা বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই মূল বেতন হলেও কর্মস্থলের শ্রেণি পরিবর্তিত হলে বাড়ি ভাতার হারও পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ব্যক্তিগত বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে চূড়ান্তভাবে সংশ্লিষ্ট গেজেট ও iBAS++-এ নির্ধারিত তথ্য অনুসরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ।

Source File

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *