১৪ মার্চ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ২০২৬ । ধর্মগুরুদের জন্য মাসিক ভাতা চালু করছে সরকার?
দেশের সকল ধর্মের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও যাজকদের জন্য প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় সম্মানী বা মাসিক ভাতা চালু করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ এই নতুন উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
ভাতার হার ও বন্টন প্রক্রিয়া
উপদেষ্টা জানান, সরকারের এই সিদ্ধান্তের আওতায় সারাদেশের ৪,৮০৯টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার এবং ৩৯৬টি গির্জার ধর্মগুরুরা সরাসরি উপকৃত হবেন। প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী ভাতার হার নির্ধারণ করা হয়েছে:
মসজিদ (১০,০০০ টাকা): ইমাম পাবেন ৫,০০০ টাকা, মুয়াজ্জিন ৩,০০০ টাকা এবং খাদেম ২,০০০ টাকা।
মন্দির (৮,০০০ টাকা): পুরোহিত পাবেন ৫,০০০ টাকা এবং সেবাইত পাবেন ৩,০০০ টাকা।
বৌদ্ধ বিহার (৮,০০০ টাকা): বিহার অধ্যক্ষ ৫,০০০ টাকা এবং উপাধ্যক্ষ ৩,০০০ টাকা।
খ্রিস্টান চার্চ (৮,০০০ টাকা): পালক/যাজক ৫,০০০ টাকা এবং সহকারী পালক/যাজক ৩,০০০ টাকা।
উৎসব বোনাস ও বিশেষ নিয়মাবলী
মাসিক ভাতার পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসবগুলোতেও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। মুসলিম ধর্মগুরুরা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উপলক্ষে বছরে দুবার ১,০০০ টাকা করে বোনাস পাবেন। অন্যদিকে, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী ধর্মীয় সেবকরা দুর্গাপূজা, বৌদ্ধ পূর্ণিমা ও বড়দিন উপলক্ষে বছরে একবার ২,০০০ টাকা করে উৎসব বোনাস পাবেন।
তবে যে সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই সরকারি অনুদান কিংবা কোনো দেশি-বিদেশি সংস্থার সরাসরি সহায়তা পায়, তারা এই কর্মসূচির আওতাভুক্ত হবে না বলে জানানো হয়েছে।
বাজেট বরাদ্দ
চলতি অর্থবছরের মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিকভাবে ২৪ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
“ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।” — ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন উপদেষ্টা।




