পেনশন । লাম্পগ্র্যান্ট I পিআরএল

সরকারি কর্মচারীদের পিআরএল ও অবসর সংক্রান্ত বিধিতে স্পষ্টীকরণ: অর্থ মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা

সরকারি কর্মচারীদের অবসর-উত্তর ছুটি (পিআরএল) এবং চূড়ান্ত অবসরের তারিখ নিয়ে দীর্ঘদিনের অস্পষ্টতা দূর করতে বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে পিআরএল চলাকালীন সময়ের চাকরির মর্যাদা, আর্থিক সুবিধা এবং অবসরের সঠিক তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।

পিআরএল কি পেনশনযোগ্য চাকরি?

প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটি (LPR)-কে অবসর-উত্তর ছুটিতে (PRL) রূপান্তর করার পর থেকে ওই সময়টুকু আর ‘পেনশনযোগ্য চাকরি’ হিসেবে গণ্য হবে না। অর্থাৎ, পিআরএল-এ থাকাকালীন সময়টি চাকরির মোট মেয়াদের সাথে যোগ হবে না। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এলপিআর থাকাকালীন একজন কর্মচারী যে সকল সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী ছিলেন, পিআরএল চলাকালীন সময়েও তিনি সেই একই আর্থিক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

উদাহরণের মাধ্যমে স্পষ্টীকরণ

বিষয়টি সহজভাবে বোঝাতে অর্থ মন্ত্রণালয় জনাব ‘ক’ নামক একজন কাল্পনিক কর্মচারীর উদাহরণ ব্যবহার করেছে। যদি কোনো কর্মচারীর জন্ম তারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৬২ হয়, তবে তার অবসরের সময়সীমা হবে নিম্নরূপ:

  • অবসরের তারিখ: ওই কর্মচারী ৫৯ বছর পূর্ণ করবেন ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে। ওই দিন অপরাহ্নেই তিনি অবসরে গ্রহণ করবেন।

  • পিআরএল শুরু ও শেষ: ছুটি পাওনা থাকা সাপেক্ষে তার ১ বছরের পিআরএল শুরু হবে পরদিন অর্থাৎ ১ জানুয়ারি ২০২১ থেকে। এই ছুটি শেষ হবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে।

  • চূড়ান্ত অবসর: পিআরএল শেষ হওয়ার পরদিন অর্থাৎ ১ জানুয়ারি ২০২২ তারিখ হবে তার চূড়ান্ত অবসর গ্রহণের তারিখ।

  • পিআরএল ভোগ না করলে: যদি কোনো কর্মচারী পিআরএল ভোগ না করেন, তবে তার চূড়ান্ত অবসরের তারিখ হবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ (যেদিন তিনি ৫৯ বছর পূর্ণ করেছেন)।

কেন এই স্পষ্টীকরণ?

মাঠ পর্যায়ে অনেক সময় অবসরের সঠিক তারিখ এবং পিআরএল চলাকালীন বেতন-ভাতা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতো। বিশেষ করে পেনশনযোগ্য চাকরির হিসাব করার সময় পিআরএল কাল যুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে জটিলতা দেখা দিত। এই প্রজ্ঞাপনের ফলে এখন থেকে হিসাব রক্ষণ অফিস এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর জন্য এই সংক্রান্ত ফাইল নিষ্পত্তি করা অনেক সহজ হবে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব খালেদা নাছরীন। এটি সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে অবগতির জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।


আপনার পাঠকদের জন্য মূল পয়েন্টগুলো হাইলাইট করে দিতে পারেন:

  • পিআরএল সময়কাল পেনশনযোগ্য চাকরি নয়।

  • পিআরএল-এ থাকলেও সব ধরনের আর্থিক সুবিধা বহাল থাকবে।

  • ৫৯ বছর পূর্ণ হওয়ার পরদিনই পিআরএল শুরু হয়।

জন্ম তারিখ দিয়ে পিআরএল ডেট বের করে কিভাবে?

জন্ম তারিখ থেকে পিআরএল (PRL) বা অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটির তারিখ বের করার প্রক্রিয়াটি মূলত সরকারি চাকরির বয়সসীমা এবং আপনার অর্জিত ছুটির ওপর নির্ভর করে। নিচে এর সহজ নিয়ম এবং একটি উদাহরণ দেওয়া হলো:

ধাপ ১: সরকারি চাকরির বয়সসীমা (৫৯ বছর) বের করা

বর্তমানে সাধারণ সরকারি কর্মচারীদের অবসরের বয়স ৫৯ বছর। (মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে ৬০ বছর)।

  • আপনার জন্ম তারিখের সাথে ৫৯ বছর যোগ করুন। যে তারিখটি আসবে, সেটিই আপনার অবসরের তারিখ।

  • নিয়ম: আপনি যে তারিখে ৫৯ বছর পূর্ণ করবেন, সেই তারিখের অপরাহ্নে (বিকালে) আপনার চাকরি শেষ হবে এবং আপনি অবসরে যাবেন।

ধাপ ২: পিআরএল (PRL) শুরুর তারিখ

অবসরে যাওয়ার ঠিক পরদিন থেকেই পিআরএল শুরু হয়।

  • ৫৯ বছর পূর্ণ হওয়ার তারিখের পরদিন থেকে পিআরএল গণনা শুরু হবে।

ধাপ ৩: পিআরএল শেষ হওয়ার তারিখ

পিআরএল সাধারণত ১ বছর (৩৬৫ দিন) হয়ে থাকে (যদি আপনার পাওনা ছুটি থাকে)।

  • পিআরএল শুরুর তারিখ থেকে ১ বছর পর পিআরএল শেষ হবে।


একটি উদাহরণের মাধ্যমে হিসাব:

ধরুন, আপনার জন্ম তারিখ: ১০ অক্টোবর ১৯৬৭

১. চাকরি থেকে অবসরের তারিখ: ১০ অক্টোবর ১৯৬৭ + ৫৯ বছর = ০৯ অক্টোবর ২০২৬। (অর্থাৎ, ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর আপনার চাকরির শেষ দিন)।

২. পিআরএল (PRL) শুরুর তারিখ: চাকরি শেষ হওয়ার পরদিন, অর্থাৎ ১০ অক্টোবর ২০২৬

৩. পিআরএল শেষ হওয়ার তারিখ: পিআরএল শুরু থেকে ১ বছর, অর্থাৎ ০৯ অক্টোবর ২০২৭

৪. চূড়ান্ত অবসর বা পেনশন শুরু (LPR সমাপ্তি): পিআরএল শেষ হওয়ার পরদিন, অর্থাৎ ১০ অক্টোবর ২০২৭


মনে রাখার মতো কিছু বিষয়:

  • পাওনা ছুটি: আপনার যদি ১ বছরের (৩৬৫ দিন) অর্জিত ছুটি জমা না থাকে, তবে পিআরএল-এর মেয়াদ কমে যাবে। সেক্ষেত্রে পিআরএল ১ বছরের কম সময়ের জন্য হবে।

  • পিআরএল কি বাধ্যতামূলক? না, আপনি চাইলে পিআরএল ভোগ না করে সরাসরি চূড়ান্ত অবসরে যেতে পারেন। তবে পিআরএল ভোগ করলে আপনি পূর্ণ বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

  • পিআরএল কাল কি পেনশনযোগ্য চাকরি? না, আপনার পূর্বের আপলোড করা ফাইলের তথ্য অনুযায়ী, পিআরএল থাকাকালীন সময়টি আর ‘পেনশনযোগ্য চাকরি’ হিসেবে নতুন করে যোগ হবে না।

জন্ম তারিখ ১৭.০৪.১৯৬৭ হলে পিআরএল ডেট কবে?

জন্ম তারিখ অনুযায়ী পিআরএল (PRL) এবং চূড়ান্ত অবসরের সময়সীমা নিচে হিসাব করে দেওয়া হলো:

১. চাকরি থেকে অবসরের তারিখ (৫৯ বছর পূর্ণ):

আপনার জন্ম তারিখ ১৭ এপ্রিল ১৯৬৭ হলে, আপনি ৫৯ বছর পূর্ণ করবেন ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে। ওই দিন অপরাহ্নে আপনার নিয়মিত চাকরির মেয়াদ শেষ হবে।

২. পিআরএল (PRL) শুরুর তারিখ:

অবসরে যাওয়ার পরদিন থেকে পিআরএল শুরু হয়। সেই হিসেবে আপনার পিআরএল শুরু হবে ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে।

৩. পিআরএল শেষ হওয়ার তারিখ:

পাওনা ছুটি সাপেক্ষে ১ বছর (৩৬৫ দিন) পিআরএল ভোগ করলে আপনার পিআরএল শেষ হবে ১৬ এপ্রিল ২০২৭ তারিখে।

৪. চূড়ান্ত অবসরের তারিখ:

পিআরএল শেষ হওয়ার পরদিন অর্থাৎ ১৭ এপ্রিল ২০২৭ তারিখ হবে আপনার চূড়ান্ত অবসরের তারিখ (যেদিন থেকে আপনি পেনশন পাবেন)।


একনজরে আপনার ক্যালেন্ডার:

বিষয়তারিখ
জন্ম তারিখ১৭ এপ্রিল ১৯৬৭
চাকরির শেষ দিন (অবসর)১৬ এপ্রিল ২০২৬
পিআরএল শুরু১৭ এপ্রিল ২০২৬
পিআরএল শেষ১৬ এপ্রিল ২০২৭
চূড়ান্ত অবসর শুরু১৭ এপ্রিল ২০২৭

দ্রষ্টব্য: এই হিসাবটি সাধারণ সরকারি চাকরিজীবীদের (৫৯ বছর বয়সসীমা) জন্য প্রযোজ্য। আপনার যদি ১ বছরের অর্জিত ছুটি জমা না থাকে, তবে পিআরএল-এর মেয়াদ সেই অনুযায়ী কমে আসবে। যেহেতু আজ ১১ এপ্রিল ২০২৬, আপনার নিয়মিত চাকরির আর মাত্র ৫ দিন বাকি আছে। আপনার নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা!

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *