৯ম পে-স্কেল: ১১-২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বড় সুখবর ও বিস্তারিত রূপরেখা
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সরকারি ১১-২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পথে আরও একধাপ এগিয়েছে সরকার। সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ৯ম জাতীয় বেতন কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর, এখন এটি দ্রুত বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে। কমিশনের সুপারিশে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বিশেষ কিছু সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়েছে যা বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটে বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ৯ম পে-স্কেল ২০২৬ । ২২ লক্ষ সরকারি কর্মচারীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে?
প্রস্তাবিত ৯ম পে-স্কেলের প্রধান আকর্ষণসমূহ:
১. পেনশনে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি:
অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে পেনশন সুবিধা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমান পেনশনের হার ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, যা প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
২. টিফিন ভাতা ৫০০ শতাংশ বৃদ্ধি:
বর্তমানে ১১-২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসিক মাত্র ২০০ টাকা টিফিন ভাতা পান। এটি বাড়িয়ে ১,০০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা শতাংশের হিসেবে ৫০০% বৃদ্ধি।
৩. বাজেটে বিশাল বরাদ্দ:
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই নতুন পে-স্কেল আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩৫,০০০ কোটি টাকা (অন্যান্য সূত্রমতে ২৫,০০০-৩৫,০০০ কোটি) বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হয়েছে। মোট বাস্তবায়নে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত প্রয়োজন হতে পারে।
৪. তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন:
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার এই নতুন বেতন কাঠামো একবারে কার্যকর না করে তিনটি পৃথক ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। এতে সরকারের ওপর হুট করে বড় আর্থিক চাপ পড়বে না।
৫. শিক্ষা ভাতা ২,০০০ টাকা:
সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটাতে শিক্ষা ভাতা পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী সন্তানদের ক্ষেত্রে এবং সাধারণ শিক্ষা ভাতা হিসেবে মাসিক ২,০০০ টাকা প্রদানের জোরালো সুপারিশ রয়েছে।
৬. বৈশাখী ভাতা ৫০ শতাংশ:
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোতে এটি বাড়িয়ে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামোর পরিবর্তন (সম্ভাব্য):
| বিষয় | বর্তমান (২০১৫) | প্রস্তাবিত (২০২৬) |
| সর্বনিম্ন বেতন (২০তম গ্রেড) | ৮,২৫০ টাকা | ২০,০০০ টাকা |
| সর্বোচ্চ বেতন (১ম গ্রেড) | ৭৮,০০০ টাকা | ১,৬০,০০০ টাকা |
| বেতন বৃদ্ধির হার | – | ১০০% থেকে ১৪০% |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রস্তাবনাগুলো বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের যাচাই-বাছাই কমিটি পর্যালোচনা করছে। খুব শীঘ্রই সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে এটি কার্যকর হওয়ার তারিখ ঘোষণা করা হতে পারে।
৩ ধাপে নয় ২ ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের জোরালো দাবি সরকারি কর্মচারীদের


