৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

১ জুলাই থেকে সকল গ্রেডে ১০০% বেসিক বাস্তবায়নের দাবি: ‘কথা ক্লিয়ার, মানতেই হবে’

আসন্ন ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় পে-স্কেল (বেতন কাঠামো) বাস্তবায়নের সরকারি সিদ্ধান্তের আবহে এবার নতুন দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছেন সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। ৩ ধাপে বা আংশিক নয়, বরং আগামী ১ জুলাই থেকেই সকল গ্রেডে ‘১০০% বেসিক’ বা পূর্ণাঙ্গ মূল বেতন বাস্তবায়নের জোর দাবি জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন কর্মচারী ফোরামে এই দাবিকে কেন্দ্র করে তীব্র জনমত তৈরি হচ্ছে। সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টারে এই দাবিকে “ন্যায্য ও যৌক্তিক” আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে— “১ জুলাই থেকে সকল গ্রেডে ১০০% বেসিক বাস্তবায়ন চাই। কথা ক্লিয়ার— ন্যায্য দাবি, যৌক্তিক দাবি, মানতেই হবে!”

দাবির মূল প্রেক্ষাপট

সম্প্রতি সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে বহুল প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় ও সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে এই নতুন পে-স্কেল একযোগে নয়, বরং ৩টি অর্থবছরে (৩ ধাপে) বাস্তবায়ন করার কথা জানানো হয়েছে:

  • প্রথম ধাপ (২০২৬-২৭): বর্ধিত মূল বেতনের (বেসিক) ৫০% কার্যকর করা হবে।

  • দ্বিতীয় ধাপ (২০২৭-২৮): মূল বেতনের বাকি ৫০% কার্যকর করা হবে।

  • তৃতীয় ধাপ (২০২৮-২৯): আনুষঙ্গিক অন্যান্য ভাতা ও সুবিধা পুরোপুরি সমন্বয় করা হবে।

কর্মচারী প্রতিনিধিদের একাংশের দাবি, বর্তমান বাজারে লাগামহীন দ্রব্যমূল্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে বেড়েছে, তাতে ধাপে ধাপে বা আংশিক বেতন বৃদ্ধি সাধারণ কর্মচারীদের কষ্ট লাঘব করতে পারবে না। প্রথম বছর মাত্র ৫০% বেসিক দেওয়া হলে তা মূল্যস্ফীতির বাজারে তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না। তাই তাদের সাফ কথা, নতুন পে-স্কেল ঘোষণা হলে প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই শতভাগ (১০০%) বেসিক কার্যকর করতে হবে।

কর্মচারীদের অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া

কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ ফোরাম থেকে বলা হচ্ছে, দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন বেতন কাঠামো আসতে যাচ্ছে। এই দীর্ঘ অপেক্ষার পর যদি প্রাপ্তি আংশিক হয়, তবে তা কর্মচারীদের হতাশ করবে। নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলা হচ্ছে, ২০টি গ্রেডের বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি এক এককালীন পূর্ণাঙ্গ বেসিক দেওয়াই হবে প্রকৃত সমাধান।

পোস্টারে তুলে ধরা “কথা ক্লিয়ার” স্লোগানটি মূলত কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং কর্মচারীদের একাট্টা মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মত

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একসঙ্গে শতভাগ বেসিক বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের ওপর এককালীন বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হবে, যার প্রভাব বাজারে গিয়ে পড়তে পারে। তবে কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করে সরকার এই দাবির বিপরীতে কোনো মধ্যপন্থা অবলম্বন করে কি না, কিংবা ২ ধাপে বাস্তবায়ন করার কোনো সিদ্ধান্ত নেয় কি না— তা আসন্ন বাজেট অধিবেশনেই পরিষ্কার হবে।

author avatar
admin
আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *